বলিউডে এমন কিছু তারকা-সম্পর্ক রয়েছে, যার গল্প কয়েক দশক পেরিয়েও মানুষের মনে রয়ে গিয়েছে। তেমনই এক অধ্যায় প্রবীণ অভিনেত্রী নীনা গুপ্তার জীবনে। ১৯৮০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। সেই সময় রিচার্ডস বিবাহিত ছিলেন। পরবর্তীতে নীনা অন্তঃসত্ত্বা হন এবং বিয়ে না করেই সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
বিবাহিত ক্রিকেটারের সঙ্গে সম্পর্ক
ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে নীনা গুপ্তার সম্পর্কের কথা সেই সময় ব্যাপক চর্চায় এসেছিল। রিচার্ডস তখন বিবাহিত এবং তাঁর নিজের সংসারও ছিল। এই পরিস্থিতিতে নীনার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর আরও আলোড়ন তৈরি করে।প্রথমদিকে সন্তানকে পৃথিবীতে আনা নিয়ে নীনার মধ্যেও দ্বিধা ছিল বলে তিনি পরে জানিয়েছেন। আশপাশের অনেকেই তাঁকে গর্ভপাতের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন।
‘আমি এই সন্তানকে জন্ম দিলে তোমার আপত্তি নেই তো?’
সন্তান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নীনা ভিভিয়ান রিচার্ডসকে ফোন করে নিজের গর্ভধারণের কথা জানান। তাঁর কাছ থেকে সন্তানকে পৃথিবীতে আনার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।এরপর ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে জন্ম হয় তাঁদের মেয়ে মাসাবা গুপ্তার। মেয়ের জন্মের পরও নীনা ও ভিভিয়ানের মধ্যে যোগাযোগ বজায় ছিল। মাসাবার জীবনে বাবার উপস্থিতিও ছিল।
অন্তঃসত্ত্বা নীনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সতীশ কৌশিক
এই গল্পের আরও একটি আবেগঘন দিক রয়েছে। নীনা যখন অন্তঃসত্ত্বা, তখন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা অভিনেতা-পরিচালক সতীশ কৌশিক তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।প্রস্তাবটি ছিল সামাজিক চাপ থেকে নীনাকে রক্ষা করার জন্য। সতীশ কৌশিক তাঁকে বলেছিলেন, প্রয়োজনে তাঁরা বিয়ে করতে পারেন এবং সন্তানকে নিজের সন্তান হিসেবেও পরিচয় দিতে পারেন।কিন্তু নীনা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। সমাজের ভয় বা লোকের কথার চেয়ে নিজের সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব দেন তিনি।
একক মা হিসেবে মেয়েকে বড় করেন নীনা
নীনার আত্মজীবনী ‘সাচ কহুঁ তো’-তেও তাঁর জীবনের এই অধ্যায়ের কথা উঠে এসেছে। অবিবাহিত মা হিসেবে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে জানলেও, সন্তানকে নিয়ে তিনি খুশি ছিলেন।১৯৮৯ সালে মাসাবার জন্মের পর দীর্ঘ সময় নীনা একাই মেয়েকে বড় করেন। পরে ২০০৮ সালে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিবেক মেহরাকে বিয়ে করেন অভিনেত্রী।
মেয়েও এখন নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত
মাসাবা গুপ্তা বর্তমানে একজন পরিচিত ফ্যাশন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা। অভিনয়েও তাঁকে দেখা গিয়েছে। ২০২৩ সালের ২৭ জানুয়ারি অভিনেতা ও আইনজীবী সত্যদীপ মিশ্রকে বিয়ে করেন মাসাবা। দু'জনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে।নীনার জীবনের সেই বিতর্কিত অধ্যায় আজ অনেকটাই অতীত। তবে একক মা হিসেবে নিজের সন্তানকে বড় করার সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর জীবনকাহিনি এখনও বিশেষভাবে আলোচিত।
৮০-এর দশকে এক বিবাহিত ক্রিকেটারের সঙ্গে অভিনেত্রীর প্রেম ছিল বলিউডের অন্যতম আলোচিত সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের সূত্রেই অন্তঃসত্ত্বা হন তিনি। সমাজের চাপ এবং নানা প্রশ্নের আশঙ্কা থাকলেও বিয়ে না করে একক মা হিসেবে মেয়েকে বড় করার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিনেতা সতীশ কৌশিকও তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।








