ইতিহাসের পাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাম অমর। তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বহু স্থান আজও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি বহন করছে। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার কাঠগোলা পাড়ার এমনই এক ঐতিহাসিক বাড়ি হল ‘নেতাজি আশ্রম’। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৩১ সালের ডিসেম্বর মাসে এই বাড়িতে তিন দিন ও তিন রাত অবস্থান করেছিলেন নেতাজি। অথচ সেই অমূল্য স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিই আজ অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ক্রমশ ভেঙে পড়ছে।
১৯৩১ সালে কাটোয়ায় এসেছিলেন নেতাজি
পূর্ব বর্ধমানের সঙ্গে নেতাজির যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর যাতায়াতের স্মৃতি রয়েছে। তারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কাটোয়া শহর।জানা যায়, ১৯৩১ সালের ডিসেম্বর মাসে কাটোয়ায় এসে কাঠগোলা পাড়ার ওই বাড়িতে টানা তিন দিন ও তিন রাত ছিলেন নেতাজি। বর্তমানে বাড়িটি কাটোয়া শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে অবস্থিত।বাড়ির সামনেই রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর একটি আবক্ষ মূর্তি। ফলে জায়গাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে শুধু একটি পুরনো বাড়ি নয়, স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতিবাহী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
লাল ইটের দোতলা বাড়ির নাম ‘নেতাজি আশ্রম’
কাঠগোলা পাড়ার পুরনো দোতলা লাল ইটের বাড়িটিই বর্তমানে ‘নেতাজি আশ্রম’ নামে পরিচিত। একসময় এখানে ফরোয়ার্ড ব্লকের কাটোয়া লোকাল কমিটির কার্যালয়ও ছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে সেই কার্যালয় বন্ধ।এই বাড়ির সঙ্গে নেতাজির অবস্থানের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেই সময়ে স্বাধীনতা সংগ্রামী গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এবং শ্যামরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নেতাজির আলোচনা ও কথাবার্তা হত।অর্থাৎ স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়ের রাজনৈতিক আলোচনা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেরও নীরব সাক্ষী এই বাড়ি।
কোথায় খাওয়াদাওয়া করতেন নেতাজি?
কাটোয়া নেতাজি আশ্রম ট্রাস্টি বোর্ডের দাবি অনুযায়ী, কাটোয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামী গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী রান্নার কাজে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।নেতাজি কাটোয়ায় এলে বারোয়ারীতলার মুখার্জি পরিবারে তাঁর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। অন্যদিকে, থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল কাঠগোলা পাড়ার এই বাড়িতেই।ফলে নেতাজির কাটোয়া সফরের সঙ্গে শহরের একাধিক পরিবারের স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে।
ইতিহাসের সাক্ষী হয়েও আজ অবহেলায়
যে বাড়ির সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতার স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, বর্তমানে তার পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক।বাড়ির চারপাশে আগাছা বেড়ে উঠেছে। দেওয়ালের বিভিন্ন জায়গাতেও গাছপালা জন্মেছে। পুরনো কাঠামোয় একাধিক ফাটল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় বাড়িটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করা হলে আগামী দিনে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির অস্তিত্বই বিপন্ন হতে পারে।
সংরক্ষণ না হলে হারিয়ে যাবে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি
নেতাজির জীবনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্থানই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কাটোয়ার ‘নেতাজি আশ্রম’ও তার ব্যতিক্রম নয়।তাই শুধু একটি পুরনো বাড়ি হিসেবে না দেখে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে এই স্থানের সংরক্ষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বাড়িটির কাঠামো সংস্কার, আগাছা পরিষ্কার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও নেতাজির কাটোয়া সফরের স্মৃতি ধরে রাখা সম্ভব হবে।
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের কাঠগোলা পাড়ার একটি দোতলা লাল ইটের বাড়ি আজও বহন করে চলেছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি। জানা যায়, ১৯৩১ সালের ডিসেম্বর মাসে এই বাড়িতেই টানা তিন দিন ও তিন রাত ছিলেন নেতাজি। স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক বাড়িটি বর্তমানে ‘নেতাজি আশ্রম’ নামে পরিচিত হলেও পরিচর্যার অভাবে সেটিই এখন ধ্বংসের মুখে।











