উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতার পথে যাতায়াতকারীদের জন্য এলো বড় সুখবর। বছরের পর বছর ধরে ফারাক্কা ব্যারেজে দীর্ঘ যানজটের সমস্যায় নাকাল হতে হয়েছে সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের। সেই সমস্যার সমাধানে নির্মীয়মাণ নিউ ফারাক্কা ব্রিজের একটি লেন সাময়িকভাবে চালু করে দিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন। ফলে বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তি মিলতে শুরু করেছে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের।
দীর্ঘদিনের দাবিতে মিলল সাফল্য
ফারাক্কা ব্যারেজে যানজট উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে উৎসবের মরশুম বা কৃষিপণ্য পরিবহণের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকার ঘটনা প্রায় নিয়মিত ছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই নির্মীয়মাণ নিউ ফারাক্কা ব্রিজের একটি লেন খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পরিবহণ কর্মীরা।
৫২১ কোটি টাকার অত্যাধুনিক সেতু
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রকের উদ্যোগে প্রায় ৫২১ কোটি টাকা ব্যয়ে গঙ্গার উপর নির্মিত হচ্ছে নিউ ফারাক্কা ব্রিজ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই সেতুর প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী অগাস্ট মাসে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যানজটের সমস্যা কমাতে তার আগেই একটি লেন চালু করা হয়েছে।
কোন পথে চলবে যানবাহন?
বর্তমানে শিলিগুড়ি থেকে কলকাতাগামী যানবাহনের জন্য নিউ ফারাক্কা ব্রিজের লেফট হ্যান্ড সাইড (LHS) লেন খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কলকাতা থেকে শিলিগুড়িগামী যানবাহন এখনও আগের মতো ফারাক্কা ব্যারেজ ব্যবহার করেই চলাচল করছে। এই অস্থায়ী ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় ব্যারেজের উপর যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমেছে।
আমের মরশুমে ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তি
বর্তমানে মালদহে আমের মরশুম পুরোদমে চলছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ট্রাক ও পণ্যবাহী গাড়ি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম পরিবহণ করছে। এতদিন ফারাক্কা ব্যারেজে কোনও গাড়ি বিকল হয়ে পড়লেই কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হত। নতুন লেন চালু হওয়ায় পণ্য পরিবহণে গতি এসেছে এবং ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ—দুইই সাশ্রয় হচ্ছে।
ব্যবসায়ী মহলের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
মালদহ ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বিধি মেনে নিউ ফারাক্কা ব্রিজের একটি লেন চালুর দাবি জানানো হচ্ছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে সেই দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষ উভয়েই উপকৃত হচ্ছেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শেষ পর্যায়ে নির্মাণকাজ
প্রায় ২,৫৮০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুতে রয়েছে ৮৮টি পিলার এবং ৮৬টি স্প্যান। এছাড়াও সেতু জুড়ে বসানো হচ্ছে প্রায় ৩০০টি স্ট্রিট লাইট। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প নানা প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উদ্বোধনের পর এটি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল ফারাক্কায়। নির্মীয়মাণ নিউ ফারাক্কা ব্রিজের একটি লেন অস্থায়ীভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। আপাতত শিলিগুড়ি থেকে কলকাতাগামী যানবাহন এই লেন ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে ফারাক্কা ব্যারেজের উপর চাপ কমবে এবং উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








