কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে অবস্থিত হোটেল তাইবায় মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রায় ২টার দিকে আগুন লাগে। এই ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি শিশু ও কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা হোটেল থেকে ২৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। ঘটনায় ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেল তাইবায় আগুন লাগে। রাত হওয়ায় হোটেলে থাকা অধিকাংশ মানুষ নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন লাগার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনের ভিতরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে সমস্যা হয় এবং অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারেননি।
খবর পেয়ে দমকল বিভাগের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের সদর দফতর হোটেলের কাছেই থাকায় দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়।
হোটেলে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দমকলকর্মীরা সিঁড়ি ব্যবহার করেন। কয়েকটি জায়গায় জানালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে মানুষদের বের করে আনা হয়। অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে হোটেলে আটকে থাকা ২৮ জনকে বের করে আনা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনায় ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি আগুন লাগার কারণও খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া মেঘালয় এবং পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বলে তথ্য সামনে এসেছে।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এবং আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে হোটেল ও গেস্টহাউসের জন্য পরিচিত, যেখানে অন্যান্য রাজ্য ও প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা মানুষজন থাকেন। কলকাতায় চিকিৎসা, ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে আসা অনেক বাংলাদেশি নাগরিকও এই এলাকায় থাকেন। এ কারণে হোটেলটিতে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে জানা গেছে।
হোটেল তাইবায় আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আগুন কোন অংশ থেকে শুরু হয়েছিল এবং কীভাবে এত দ্রুত হোটেলের ভিতরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ, জরুরি বহির্গমন পথ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হতে পারে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
কলকাতার এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়ও সম্প্রতি একটি হোটেলে আগুন লেগে নয়জনের মৃত্যু হয়েছিল। ১৭ আগস্ট তারাপীঠ মন্দিরের কাছে একটি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয় এবং আরও নয়জন গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক তদন্তে আগুন লাগার কারণ হিসেবে শর্ট সার্কিটের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। আহতদের চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বীরভূম ও কলকাতার ঘটনায় হোটেল ও গেস্টহাউসের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রাতে আগুন লাগলে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়া মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপদ ও স্পষ্ট জরুরি বহির্গমন পথ, ফায়ার অ্যালার্ম, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং কর্মীদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতার হোটেলে এই ঘটনার পর ছোট ও মাঝারি আকারের হোটেলগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তার মানদণ্ড পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। হোটেলে আগুন লাগলে প্রাথমিক কয়েক মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। ধোঁয়া দ্রুত ঘর ও করিডরে ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত মানুষের সময়মতো বাইরে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হোটেল পরিচালকদের নিয়মিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পরীক্ষা, ফায়ার এক্সটিংগুইশারের উপস্থিতি, জরুরি বহির্গমন পথ এবং অ্যালার্ম সিস্টেম সচল রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা উচিত। কর্মীদেরও সময়ে সময়ে অগ্নিনিরাপত্তা ও উদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে প্রশাসন ও অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের অগ্রাধিকার আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মৃতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। আগুন লাগার কারণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পর পাওয়া যাবে।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেলে এই ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু এবং ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং হোটেলে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।





