তিহার জেলে উমর খালিদকে নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র মামদানির চিঠি

নিউইয়র্ক মেয়র জোহ্রান মামদানি তিহার জেলে বন্দী উমর খালিদকে ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিতর্ক আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন মোড় নিয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহ্রান মামদানি তিহার জেলে বন্দী ছাত্র নেতা উমর খালিদকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি লিখেছেন। এই চিঠিতে সমর্থন জানানো হয়েছে এবং এটি মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিতর্কের সাথে যুক্ত হয়েছে।

America: নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহ্রান মামদানি কর্তৃক তিহার জেলে বন্দী ছাত্র নেতা উমর খালিদকে লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠি আজকাল আলোচনার বিষয়। এই চিঠি শুধু আন্তর্জাতিক স্তরেই মনোযোগ আকর্ষণ করছে না, বরং ভারতে চলমান আইনি বিতর্ক, মানবাধিকার (human rights) এবং মতামতের স্বাধীনতা (freedom of expression) সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোকেও সামনে আনছে। চিঠির আবেগপূর্ণ সুর, এর সময় এবং এর সাথে জড়িত পরিস্থিতি এটিকে একটি সাধারণ আনুষ্ঠানিক বার্তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু করে তুলেছে।

জোহ্রান মামদানির চিঠি

জোহ্রান মামদানি তার চিঠিতে উমর খালিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। চিঠিটি “প্রিয় উমর” বলে শুরু হয়েছে, যেখানে তিনি লিখেছেন যে তার প্রায়শই উমরের কথা মনে পড়ে, বিশেষ করে সেই কথাগুলো যা কঠিন পরিস্থিতিতে তিক্ততাকে নিজের উপর চেপে বসতে না দেওয়ার শিক্ষা দেয়। 

মামদানি আরও লিখেছেন যে উমরের বাবা-মায়ের সাথে দেখা করে তিনি খুব খুশি হয়েছেন এবং তিনি জানাতে চেয়েছিলেন যে উমর একা নন। চিঠির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটি হলো, “আমরা সবাই আপনার কথা ভাবছি।” এই বাক্যটি শুধু ব্যক্তিগত সমর্থনই প্রকাশ করে না, বরং একটি বিস্তৃত নৈতিক বার্তাও দেয়।

বাবা-মায়ের মাধ্যমে পৌঁছানো বার্তা

এই চিঠি সরাসরি জেলে পাঠানো হয়নি। ডিসেম্বর ২০২৫ সালে আমেরিকা সফরের সময় উমর খালিদের বাবা-মা সাহিবা খানম এবং সৈয়দ কাসিম রসূল ইলিয়াসের সাথে জোহ্রান মামদানির দেখা হয়েছিল। সেই সাক্ষাতের সময় মামদানি এই নোটটি তাদের হাতে তুলে দেন যাতে তারা এটি তাদের ছেলের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

এই সাক্ষাতের প্রেক্ষাপটও আবেগপূর্ণ ছিল কারণ উমরের বাবা-মা তাদের সবচেয়ে ছোট মেয়ের বিয়ের আগে আমেরিকা গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের এক বড় মেয়ে থাকেন যিনি বিয়েতে অংশ নিতে পারছিলেন না। সেই সফরের সময়ই এই সাক্ষাৎ সম্ভব হয়েছিল।

মেয়র পদের শপথের কাকতালীয় ঘটনা

১লা জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, যেদিন জোহ্রান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে শপথ গ্রহণ করেন, সেদিনই এই চিঠির ছবি প্রকাশ্যে আসে। উমর খালিদের সঙ্গী বুনোজ্যোৎস্না লাহিড়ী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ এই নোটের ছবিটি শেয়ার করেন। এই কাকতালীয় ঘটনাটি নিজেই প্রতীকী বলে মনে করা হচ্ছে কারণ একদিকে মামদানি ক্ষমতার শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছিলেন, অন্যদিকে তিনি ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা একজন চিন্তাশীল বন্দীকে স্মরণ করেছিলেন।

জোহ্রান মামদানির পরিচয়

৩৪ বছর বয়সী জোহ্রান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির প্রথম এশীয় আমেরিকান এবং মুসলিম মেয়র হয়েছেন। তার রাজনৈতিক যাত্রা বৈচিত্র্য (diversity) এবং প্রতিনিধিত্বের (representation) প্রতীক হিসাবে দেখা হয়। মামদানি আগেও সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতিগত সমতা এবং নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। এমতাবস্থায় উমর খালিদকে তার চিঠি লেখা কেবল ব্যক্তিগত সহানুভূতি নয়, বরং তার রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও একটি সম্প্রসারণ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

উমর খালিদের মামলা

উমর খালিদ ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার সাথে জড়িত একটি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে আছেন। তার বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA) এর অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। সমর্থকদের দাবি যে উমর একজন ছাত্র নেতা এবং গবেষক, যিনি সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা বলেছেন। 

Leave a comment