INDIA জোটের বৈঠকে কংগ্রেস নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, প্রকাশ্যে মতভেদ বিরোধী শিবিরে

নয়াদিল্লিতে INDIA জোটের বৈঠকে কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও সমন্বয় নিয়ে একাধিক বিরোধী দল প্রশ্ন তোলে। বৈঠকে আঞ্চলিক দল, বাম দল এবং কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতভেদ প্রকাশ্যে আসে, পাশাপাশি জোটকে শক্তিশালী করতে সমন্বয় কমিটি গঠনের প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়।

সোমবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোট INDIA-র একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ২৫টি বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী ঐক্যের দিকনির্দেশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া গান্ধী, দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সাংসদ রাহুল গান্ধী। আঞ্চলিক দলগুলির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এবং শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।

বৈঠকে একাধিক বিরোধী দল কংগ্রেসের ভূমিকা ও নেতৃত্বের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কয়েকজন নেতার বক্তব্য ছিল, জোটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি কার্যকরভাবে উত্থাপিত হচ্ছে না, যার ফলে INDIA ব্লকের রাজনৈতিক কৌশল দুর্বল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আঞ্চলিক দলগুলি কংগ্রেসের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে যে, বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে তারা আরও সমন্বয়মূলক ভূমিকা পালন করবে এবং ছোট দলগুলির মতামতকেও সমান গুরুত্ব দেবে।

সূত্রের দাবি, বৈঠকে এ কথাও বলা হয় যে জোটকে শক্তিশালী করতে হলে সব দলকে যৌথ কৌশলের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, পৃথক পৃথক এজেন্ডার ভিত্তিতে নয়।

বাম দলগুলির প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁদের রাজনৈতিক চরিত্র ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনুচিত। বিশেষ করে কেরল নির্বাচনের সময় বাম দলগুলিকে ভারতীয় জনতা পার্টির “বি টিম” হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো হয়।

বাম নেতারা প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে জোট এখনও পর্যন্ত কী ধরনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র বক্তব্য দিয়ে বিরোধী ঐক্যকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়; এর জন্য তৃণমূল স্তরে কৌশলগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এই সমালোচনার জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে দলের স্থানীয় ইউনিটগুলির মতামত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক কাঠামোর পরামর্শ অনুযায়ী কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জোটের অভ্যন্তরে সংলাপ অব্যাহত রাখা উচিত, যাতে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা যায় এবং যৌথ কৌশলকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হয়।

কয়েকটি আঞ্চলিক দল স্পষ্টভাবে জানায় যে, জোটের বৃহত্তম দল হিসেবে কংগ্রেসকে নেতৃত্বের পাশাপাশি সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করতে হবে। নেতাদের মতে, আঞ্চলিক দলগুলিকে শুধুমাত্র সহযোগী হিসেবে নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সমান অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত।

অখিলেশ যাদব এবং তেজস্বী যাদব এই মতকে সমর্থন করে বলেন, সব দলকে সমান মর্যাদা ও স্থান দেওয়া হলে তবেই বিরোধী ঐক্য আরও শক্তিশালী হতে পারে।

বৈঠকে পূর্ববর্তী কয়েকটি বৈঠকের আয়োজন এবং সেগুলির পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও আলোচনা হয়। কয়েকটি দল প্রশ্ন তোলে যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সব সহযোগী দলকে সঙ্গে নিয়ে এগোনোর কৌশল যথেষ্ট স্পষ্ট নয়।

সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ও জনআন্দোলনগুলিতে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা গেছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, যার ফলে বিরোধী বার্তা দুর্বল হয়েছে বলে মত প্রকাশ করা হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বলেন, বিরোধী দলগুলির হাতে এখনও পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ রয়েছে, যা যথাযথভাবে ব্যবহার করা উচিত। তিনি প্রস্তাব দেন, INDIA ব্লক চাইলে তিনি নিজের ভূমিকা ও সম্পদের মাধ্যমে জোটকে আরও শক্তিশালী করতে অবদান রাখতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলগুলিকে বিভক্ত করার কৌশল গ্রহণ করছে, তাই ঐক্য বজায় রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জোটের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে সমন্বয় কমিটি গঠনের প্রস্তাবও বৈঠকে উত্থাপিত হয়। এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।

একাধিক নেতা স্বীকার করেন যে বর্তমানে জোটের অভ্যন্তরে আরও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে এবং তা উন্নত করা দরকার।

কেরলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বাম দল ও বিজেপির তুলনা টানার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষভাবে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। বাম দলগুলি এটিকে অনুচিত এবং রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করে।

এর জবাবে রাহুল গান্ধী পুনরায় বলেন, ওই সিদ্ধান্ত স্থানীয় নেতৃত্ব ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল এবং এর উদ্দেশ্য কোনও সহযোগী দলকে লক্ষ্যবস্তু করা ছিল না।

 

Leave a comment