SIR বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের বিরোধিতা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর নেতারা মঙ্গলবার দিল্লিতে মিছিল করেন। বিক্ষোভ চলাকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ একাধিক বিরোধী নেতা আকাশবাণী ভবন চত্বরে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভ করেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থামানোর চেষ্টা করে এবং পরে একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। দিনভর চলা এই বিক্ষোভে মিছিল, পুলিশি ব্যারিকেড, নেতাদের আটক, অবস্থান বিক্ষোভ, পোস্টার এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে বিতর্কের মতো একাধিক ঘটনা সামনে আসে। রাহুল গান্ধীর হাতে ‘জ্ঞানেশ ইটস ডান ব্রো’ লেখা একটি পোস্টার দেখা যায়। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর জাতীয় পতাকার সামনে দাঁড়ানোর ভিডিওও প্রকাশ্যে আসে।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর বিরোধী নেতারা মিছিল করে এগিয়ে যান। নির্ধারিত পথে তাদের থামাতে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়েছিল। প্রায় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের কাছে পৌঁছান এবং তা পার হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং SIR-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা প্রয়োজন। অন্যদিকে, নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
প্রায় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে পুলিশ আটক করে। বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় নেতা ও পুলিশের মধ্যে তর্কাতর্কির পরিস্থিতিও তৈরি হয়। বিরোধী নেতাদের বক্তব্য ছিল, নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা এবং প্রতিবাদ জানানোর অধিকার তাদের রয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করে। এরপর রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আকাশবাণী ভবন চত্বরে এগিয়ে যান।
প্রায় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আকাশবাণী ভবন চত্বরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের সঙ্গে কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে এই অবস্থান বিক্ষোভ চলে। এই সময় বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশন এবং SIR-সংক্রান্ত তাদের দাবির সমর্থনে স্লোগান দেন। চত্বরে পুলিশের উপস্থিতিও বজায় ছিল।
প্রায় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে চত্বরে একটি গাছের নিচে চাটাইয়ের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। তারা দীর্ঘ সময় সেখানে বসে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে রাহুল গান্ধী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে এনার্জি ড্রিঙ্ক অফার করেন। দুই নেতার খাওয়ার সময়কার ভিডিও ও ছবিও প্রকাশ্যে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অবস্থান বিক্ষোভের মধ্যে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে রোল খেতেও দেখা যায়।
বিক্ষোভের সময় রাহুল গান্ধীর হাতে একটি পোস্টার দেখা যায়, যাতে ‘জ্ঞানেশ ইটস ডান ব্রো’ লেখা ছিল। পোস্টারটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও বিরোধীদের বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল।
বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় বিকেল ৫টার দিকে একটি ঘটনা ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এক পুলিশ কর্মকর্তা জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক কর্মীর কাছে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, পতাকার দণ্ডে কেউ আঘাত পেতে পারেন, এই আশঙ্কায় কর্মকর্তা সেটি সরিয়ে রাখতে বলেন।
এই সময় রাহুল গান্ধী সেখানে পৌঁছে কর্মকর্তাকে জাতীয় পতাকায় হাত না দিতে বলেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও জাতীয় পতাকার সামনে দাঁড়ান। এই বিষয় নিয়ে দুই নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে তর্ক হয়।
রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি শুধুমাত্র কোনো দণ্ড নয়, দেশের জাতীয় পতাকা। পুরো ঘটনার ভিডিও বিক্ষোভের অন্যতম আলোচিত দৃশ্য হয়ে ওঠে।
ঘটনার সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে জাতীয় পতাকার সামনে সরাসরি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তার এই অবস্থানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভে জাতীয় পতাকার উপস্থিতি এবং তা নিয়ে হওয়া বিতর্ক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। কংগ্রেস নেতারা ঘটনাটিকে জাতীয় পতাকার সম্মানের সঙ্গে যুক্ত করেন, অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিক্ষোভকারীদের অবস্থান বিক্ষোভ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। দুপুর প্রায় ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া অবস্থান বিক্ষোভ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে। এই সময় বিরোধী নেতারা তাদের দাবিগুলো পুনরায় তুলে ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
দিনভর চলা ঘটনাক্রমে মিছিল, পুলিশি ব্যারিকেড, নেতাদের আটক, অবস্থান বিক্ষোভ, পোস্টার এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে হওয়া বিতর্ক প্রধান ঘটনাগুলোর মধ্যে ছিল।
প্রায় রাত ৮টা ১৫ মিনিটে পুলিশ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আকাশবাণী ভবন চত্বর থেকে আটক করে। এর মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা বিক্ষোভ পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছায়।
পুলিশের পদক্ষেপের পর বিক্ষোভকারীদের কার্যক্রম সীমিত হয়ে যায়। বিরোধী দলগুলো পুরো ঘটনাক্রমকে তাদের রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তুলে ধরে।
পুরো বিক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল SIR এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী। বিরোধী দলগুলো SIR নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি জানায়। এর পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও বিক্ষোভে তোলা হয়।
বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের পর্যাপ্ত তথ্য এবং সময় দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলোর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিয়মিত অংশ এবং এটি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
ঘটনাক্রম অনুযায়ী, বিক্ষোভ সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে। সকাল প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে পুলিশ মিছিল থামায়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে অখিলেশ যাদবসহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আকাশবাণী ভবনে পৌঁছে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন।
দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে দুজনকে গাছের নিচে চাটাইয়ের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে রাহুল গান্ধী প্রিয়াঙ্কাকে এনার্জি ড্রিঙ্ক অফার করেন এবং দুজন খাবার খান। বিকেল ৫টায় জাতীয় পতাকা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তর্ক হয়। শেষ পর্যন্ত রাত ৮টা ১৫ মিনিটে পুলিশ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে।
এইভাবে SIR-এর বিরোধিতায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ দিনভর রাজনৈতিক কার্যকলাপ এবং পুলিশি পদক্ষেপের মধ্যে চলে। বিক্ষোভ-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হচ্ছে।












