Parenting Tips: স্কুলের পিকনিকে যাচ্ছে সন্তান? অযথা চিন্তা নয়, এই ৫টি নিয়ম শিখিয়ে পাঠালেই অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকবেন

স্কুলের পিকনিক বা ভ্রমণে সন্তানকে পাঠানোর আগে এই ৫টি নিরাপত্তার নিয়ম অবশ্যই শেখান। জরুরি নম্বর, গ্রুপে থাকা, অপরিচিতদের থেকে সতর্কতা-সহ জানুন গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

কলকাতা: স্কুলের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার কথা শুনলেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় পড়ুয়ারা। বন্ধুদের সঙ্গে নতুন জায়গা দেখা, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া আর সারাদিন মজা—সব মিলিয়ে উত্তেজনার শেষ থাকে না। কিন্তু সন্তানের এই আনন্দের মধ্যেই অভিভাবকদের মনে শুরু হয় নানা চিন্তা। ভিড়ে হারিয়ে যাবে না তো? শরীর খারাপ হলে কী করবে? কোনও বিপদে পড়লে কাকে জানাবে? এই দুশ্চিন্তা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও, যাওয়ার আগে সন্তানকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার নিয়ম শেখানো যায়।

বাবা-মায়ের ফোন নম্বর মুখস্থ করান

সন্তানের ফোন থাকলেও সবসময় তার উপর নির্ভর করা ঠিক নয়। নেটওয়ার্ক না থাকা, ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া বা ফোন হারিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।তাই অন্তত বাবা ও মায়ের ফোন নম্বর শিশুকে মুখস্থ করান। পাশাপাশি নাম, ফোন নম্বর এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য একটি কাগজে লিখে ব্যাগের নিরাপদ জায়গায় রাখতে পারেন। কোনও সমস্যা হলে শিক্ষক, গাইড বা দায়িত্বশীল কোনও প্রাপ্তবয়স্কের সাহায্য নিয়ে যেন যোগাযোগ করতে পারে, সেটাও বুঝিয়ে দিন।

একা নয়, সবসময় দলের সঙ্গে

বেড়াতে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে শিশুরা অনেক সময় অজান্তেই দল থেকে দূরে চলে যেতে পারে। তাই স্পষ্ট করে বলুন—স্কুল ট্রিপে একা কোথাও যাওয়া যাবে না।শিক্ষক বা স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকতে হবে। প্রয়োজনে 'বাডি সিস্টেম' মেনে চলতে পারে, অর্থাৎ কোনও জায়গায় গেলে অন্তত একজন বন্ধুকে সঙ্গে রাখা। টয়লেটে যাওয়ার মতো প্রয়োজন হলেও আগে শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে জানানো ভালো।

অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সাবধান

কেউ অচেনা হয়েও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলেই তাকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনও অপরিচিত ব্যক্তি খাবার বা অন্য কিছু দিলে, নির্জন জায়গায় যেতে বললে কিংবা শিশুকে আলাদা করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে সরে আসতে হবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এমন কিছু ঘটলে লজ্জা বা ভয় না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষককে জানাতে হবে।

নিজের স্বাস্থ্য ও জিনিসপত্রের খেয়াল

বাড়িতে বাবা-মা সবকিছুর খেয়াল রাখলেও বাইরে গেলে শিশুকে নিজের কিছু দায়িত্ব নিতে শেখানো জরুরি। পর্যাপ্ত পানি খাওয়া, অপরিচ্ছন্ন বা খোলা খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিজের ব্যাগ, পরিচয়পত্র, ফোন ও টাকা-পয়সার দিকে নজর রাখা দরকার।শিশু নিয়মিত কোনও ওষুধ খেলে, ভ্রমণের আগে শিক্ষক বা স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে রাখুন। ওষুধ কখন খেতে হবে, সেটিও শিশুকে সহজভাবে বুঝিয়ে দিন।

সমস্যা হলে চুপ করে থাকা নয়

অনেক শিশু শিক্ষককে কিছু বলতে সংকোচ বোধ করে। কিন্তু শরীর খারাপ, ভয়, অস্বস্তি কিংবা অন্য কোনও সমস্যা হলে চুপ করে থাকা একেবারেই উচিত নয়।সন্তানকে আগে থেকেই বলুন, 'যে কোনও সমস্যায় সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষককে জানাবে'। সামান্য অসুবিধা মনে হলেও সাহায্য চাইতে কোনও লজ্জা নেই—এই আত্মবিশ্বাসটা শিশুর মধ্যে তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

ভয় দেখিয়ে নয়, বন্ধুর মতো বুঝিয়ে বলুন

সন্তানকে স্কুল ট্রিপে পাঠানোর আগে বারবার ভয় দেখালে উল্টে তার মধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তাই নিরাপত্তার নিয়মগুলোকে শাস্তি বা বকাঝকার বিষয় না বানিয়ে বন্ধুর মতো বোঝান।তাকে বলুন, এই নিয়মগুলো মেনে চললে সে আরও স্বাধীনভাবে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করতে পারবে। এতে যেমন শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়বে, তেমনই অভিভাবকদের দুশ্চিন্তাও অনেকটা কমবে।

স্কুলের পিকনিক, এক্সকারশন বা শিক্ষামূলক ভ্রমণে সন্তানকে পাঠানোর আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার নিয়ম শেখানো দরকার। জরুরি ফোন নম্বর মনে রাখা থেকে শুরু করে দলছুট না হওয়া—এই পাঁচটি বিষয় শিশুকে আগে থেকে বুঝিয়ে দিলে ভ্রমণের সময় সে আরও সচেতন ও আত্মনির্ভর হতে পারে।

Leave a comment