পাটনায় নিখোঁজ ছাত্রীর রেললাইনে মৃতদেহ উদ্ধার, ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণার অভিযোগ

বিহারের পাটনায় চার দিন নিখোঁজ থাকার পর ২৪ বছরের এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার। পরিবারের অভিযোগ, ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং ছাত্রীর বাবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দেড় লক্ষ টাকার বেশি অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল।
পাটনায় নিখোঁজ ছাত্রীর রেললাইনে মৃতদেহ উদ্ধার, ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণার অভিযোগ
Photo Credit / Attribution: Google

বিহারের রাজধানী পাটনায় সাইবার অপরাধের অভিযোগ এবং এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কঙ্কড়বাগ থানা এলাকার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সি এক ছাত্রী চার দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিলেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু চার দিন পর রাজেন্দ্র নগর টার্মিনালের কাছে রেললাইনে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পরিবারকে শোকস্তব্ধ করে দেয়।

পরিবারের অভিযোগ, ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে ওই ছাত্রীকে ভয় দেখানো হচ্ছিল। কথিত সাইবার অপরাধীরা বারবার ফোন করে তাঁর কাছে টাকা দাবি করছিল। পরিবারের দাবি, ছাত্রীর বাবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দেড় লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ একাধিক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সাইবার প্রতারণার অভিযোগ, কথিত হুমকি, ছাত্রীর নিখোঁজ হওয়া এবং রেললাইনে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর সকাল প্রায় ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ছাত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের তিনি জানিয়েছিলেন, এনআইটির কাছে ফর্ম সংক্রান্ত কাজে যাচ্ছেন। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় পরিবারের সদস্যরা কোনও গুরুতর ঘটনার আশঙ্কা করেননি। তাঁদের ধারণা ছিল, কাজ শেষ করে তিনি বাড়ি ফিরে আসবেন।

কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফেরেননি। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা মনে করেছিলেন, কোনও জরুরি কাজে হয়তো তাঁর দেরি হচ্ছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং আত্মীয়স্বজন, পরিচিত ও বন্ধুদের কাছে খোঁজ নেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানেও তাঁর সন্ধান চালানো হয়। কিন্তু তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

৬ অক্টোবর পরিবার কঙ্কড়বাগ থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করে। পরিবারের আশা ছিল, পুলিশ মোবাইল ফোনের অবস্থান, কল ডিটেলস এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে তাঁর সন্ধান পাবে। কিন্তু চার দিন পর রাজেন্দ্র নগর টার্মিনালের কাছে রেললাইনে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধারের খবর সামনে আসে। পরে মৃতদেহটি নিখোঁজ ছাত্রীর বলে শনাক্ত করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে ছাত্রীকে বারবার ফোন করা হতো। ফোনকারীরা কখনও ঋণ পরিশোধ, কখনও টাকা আদায়ের কথা বলে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করত বলে দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে সমস্যায় পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হতো বলে পরিবারের বক্তব্য। ফোনকারীরা দুবাই বা অন্য রাজ্য থেকে যোগাযোগ করার কথাও বলত বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, এই ফোন এবং অর্থের দাবির কারণে ছাত্রী মানসিক চাপে ছিলেন। তবে ফোনকারীরা কারা, কোথা থেকে যোগাযোগ করছিল এবং তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণার অভিযোগও এই ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই ধরনের সাইবার অপরাধে প্রতারকরা নিজেদের পুলিশ আধিকারিক, তদন্তকারী সংস্থার কর্মী বা সরকারি দফতরের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। কোনও অপরাধের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়া, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন অথবা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আশঙ্কার কথা বলে চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে।

প্রতারকরা অনেক সময় ফোনে যোগাযোগ বজায় রাখতে, পরিবারের সঙ্গে কথা না বলতে এবং অন্য কাউকে বিষয়টি না জানাতে বলে। গ্রেফতার, জেল, সামাজিক সম্মানহানি বা পরিবারের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হতে পারে। ভিডিও কলে পুলিশের পোশাক, জাল পরিচয়পত্র কিংবা সরকারি দফতরের মতো পরিবেশ দেখিয়ে নিজেদের বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়। ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে কেউ কেউ নিজেদের বা পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তর করে ফেলেন।

তবে এই ঘটনায় ছাত্রীকে ঠিক কী ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, ফোনকারীরা নিজেদের সরকারি সংস্থার আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়েছিল কি না, অথবা কোনও ভুয়ো নোটিস বা বার্তা পাঠানো হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই ডিজিটাল অ্যারেস্টের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ফোনালাপ, বার্তা এবং অর্থ দাবির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা জরুরি।

পরিবারের দাবি, ছাত্রীর বাবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দেড় লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই লেনদেনের সঙ্গে কথিত সাইবার প্রতারণার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কোন তারিখে এবং কখন টাকা পাঠানো হয়েছিল, কোন কোন অ্যাকাউন্টে তা জমা পড়েছে এবং কোন মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, তা ব্যাঙ্কিং রেকর্ড থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। ইউপিআই, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং অথবা অন্য কোনও ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড থেকে লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের সঙ্গে ছাত্রীর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও বার্তা মিলিয়ে দেখলে তদন্তে সহায়তা হতে পারে। কোনও সন্দেহজনক নম্বর থেকে ফোন আসার পরপরই টাকা স্থানান্তর করা হয়ে থাকলে, লেনদেনের সময় এবং ফোনের সময়ের মধ্যে সম্পর্ক যাচাই করা যেতে পারে। যে অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা পৌঁছেছে, সেগুলির মালিকানা, পরবর্তী লেনদেন এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ খতিয়ে দেখাও প্রয়োজন।

সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে কখনও অন্য ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এই ধরনের অ্যাকাউন্টকে মিউল অ্যাকাউন্ট বলা হয়। প্রতারণার টাকা একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘোরানো হলে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই শুধু যে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে তার মালিককে শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়। অ্যাকাউন্টটি কে ব্যবহার করেছে, টাকা পরে কোথায় পাঠানো হয়েছে এবং লেনদেনে কারা জড়িত ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা দরকার।

তবে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তরের তথ্য একাই প্রমাণ করে না যে কে টাকা চেয়েছিল অথবা ছাত্রীর মৃত্যুর সঙ্গে কোনও ব্যক্তির যোগ ছিল।

ছাত্রীর ভাইয়ের অভিযোগ, নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করার পর পরিবার বারবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরিবারের বক্তব্য, ছাত্রীর মোবাইল নম্বর এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু তথ্যও পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের দাবি, মোবাইলের অবস্থান ও কল ডিটেলস পরীক্ষা করে ছাত্রী কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা উচিত ছিল।

পরিবারের অভিযোগ, তাঁর সন্ধানে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ কী কী পদক্ষেপ করেছিল, প্রযুক্তিগত তদন্ত কখন শুরু হয়েছিল এবং কোন তথ্য যাচাই করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পুলিশের গাফিলতি ছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য অভিযোগ দায়েরের সময়, সংশ্লিষ্ট নথি এবং পুলিশের পদক্ষেপের বিবরণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরিবারের অভিযোগের নিরপেক্ষ পর্যালোচনার পাশাপাশি তদন্তের সময় পুলিশ কী পদক্ষেপ করেছিল, সেই তথ্যও সামনে আসা জরুরি।

এই ঘটনার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ছাত্রীর মৃতদেহের কাছাকাছি রেললাইনে এক যুবকের মৃতদেহও পাওয়া গিয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই যুবকের পরিচয় তখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

যুবকের পরিচয় নির্ধারণের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে ছাত্রীর কোনও পরিচয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দুজনের মধ্যে যোগাযোগের কোনও রেকর্ড ছিল কি না, তাঁরা ঘটনার আগে একই স্থানে উপস্থিত ছিলেন কি না এবং তাঁদের গতিবিধির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা মোবাইল ফোনের তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণের সাহায্যে যাচাই করা যেতে পারে।

একই এলাকায় দুটি মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে দুজনের মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। রেললাইনের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, মোবাইলের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ছাত্রীর মোবাইল ফোনে থাকা কল হিস্ট্রি, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, এসএমএস, ইমেল এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য থেকে তাঁর যোগাযোগের পরিধি সম্পর্কে জানা যেতে পারে। কোনও নির্দিষ্ট নম্বর থেকে বারবার ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়ে থাকলে, সেই নম্বরের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একইভাবে, টাকা দাবির জন্য কোনও বার্তা পাঠানো হয়ে থাকলে, তা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সাহায্য করতে পারে।

ডিজিটাল তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তদন্তে প্রাসঙ্গিক কোনও তথ্য বাদ না পড়ে। ব্যাঙ্কিং রেকর্ড, কল ডিটেলস, মোবাইলের অবস্থান এবং ঘটনাস্থলের প্রমাণ একত্রে পরীক্ষা করলে ঘটনার সময়ক্রম পুনর্গঠন করতে সুবিধা হতে পারে।

ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণার ক্ষেত্রে অপরাধীরা অনেক সময় মানুষের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান এবং ভয়ের সুযোগ নেয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা এবং ফোনকারীর পরিচয় যাচাই করার সুযোগ না দেওয়া এই ধরনের প্রতারণার কৌশল হতে পারে।

কেউ নিজেকে পুলিশ আধিকারিক বা তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে গ্রেফতারের হুমকি দিলে তাঁর পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ফোন বা ভিডিও কলের মাধ্যমে কাউকে প্রকৃত অর্থে গ্রেফতার করে ডিজিটাল অ্যারেস্টে রাখার কোনও বৈধ আইনি প্রক্রিয়া নেই। তদন্তের নামে কোনও ব্যক্তি ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে চাপ দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্যদের জানানো এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের সঙ্গে সরকারি যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করা উচিত। অচেনা ব্যক্তির কাছে ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য, ওটিপি, পাসওয়ার্ড বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

কেউ সাইবার আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে বা প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তর করা হলে দ্রুত ব্যাঙ্ককে জানানো প্রয়োজন। ভারতে সাইবার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ জানানোর জন্য ১৯৩০ হেল্পলাইন রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টাল cybercrime.gov.in-এ অভিযোগ দায়ের করা যায়। অভিযোগের সময় লেনদেনের রসিদ, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, সন্দেহজনক ফোন নম্বর, বার্তা এবং স্ক্রিনশটের মতো প্রমাণ সংরক্ষণ করে রাখা সহায়ক হতে পারে।

পরিবারের সদস্যদেরও এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংবেদনশীলতার সঙ্গে পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ একটানা অচেনা ফোন পাওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়লে, অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেলে অথবা হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা স্থানান্তর করতে চাইলে, তাঁর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা উচিত। প্রতারকরা অনেক সময় ভুক্তভোগীকে পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকতে বলে। তাই বিশ্বস্ত মানুষের সহযোগিতা সময়মতো সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

পাটনার এই ঘটনায় এখনও প্রধান প্রশ্ন, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর ছাত্রীর সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তাঁকে সত্যিই সাইবার অপরাধীরা হুমকি দিয়েছিল কি না, তাঁর বাবার অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানান্তরিত অর্থ কথিত প্রতারণার অংশ ছিল কি না, ফোনকারীদের পরিচয় কী এবং রেললাইনে উদ্ধার হওয়া যুবকের মৃত্যুর সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের পর ছাত্রীর সন্ধানে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের আওতায় থাকা উচিত। এই সমস্ত বিষয়ের উত্তর তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করতে হবে।

পুলিশের তদন্তে ছাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার সময়ক্রম, মোবাইল ফোনের কার্যকলাপ, ব্যাঙ্কিং লেনদেন, কথিত হুমকির ফোন এবং রেললাইনে মৃতদেহ উদ্ধারের পরিস্থিতি একসঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তদন্তে কোনও সাইবার অপরাধচক্র বা অন্য ব্যক্তির ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা উচিত। একইভাবে, কোনও স্তরে গাফিলতির প্রমাণ মিললে তারও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা প্রয়োজন।

চার দিন নিখোঁজ থাকার পর ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবার এখন জানতে চাইছে, তাঁদের মেয়ের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কথিত সাইবার অপরাধীদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না। ডিজিটাল প্রমাণের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমেই এই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া সম্ভব। তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ ও প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

Leave a comment