চেন্নাইয়ে মেট্রো রেলের দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে ১৪.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পুনমাল্লি-ভাদাপালানি করিডরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬-এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে মেট্রো ট্রেনে যাত্রা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী জয়গোপাল গারোডিয়া হিন্দু বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি পড়ুয়াদের বড় স্বপ্ন দেখতে, ভিন্নভাবে চিন্তা করতে এবং নির্ভয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চেন্নাই সফর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনে তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম (TVK) জয়ী হওয়ার পর অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হন। কংগ্রেস তাঁর সহযোগী দল। এই সফরে নগর পরিবহণ, শিক্ষা, যুবসমাজের ভূমিকা এবং ভারতের উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়।
চেন্নাই মেট্রো রেল প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে পুনমাল্লি-ভাদাপালানি করিডরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৪.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরের লক্ষ্য শহরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সুবিধাজনক করা।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী বিজয় একসঙ্গে মেট্রো ট্রেনে যাত্রা করেন। অনুষ্ঠানে চেন্নাইয়ের নগর পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আধুনিক পরিকাঠামোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চেন্নাইয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি তামিলনাড়ুর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মন্দির থেকে মেট্রো পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন ভারতের প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত সাংস্কৃতিক শক্তি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী ঐতিহ্য ও আধুনিকতাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। ভাষা, সাহিত্য, স্থাপত্য এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত তামিলনাড়ুতে নগর পরিবহণ ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর সম্প্রসারণও আধুনিক উন্নয়নের অংশ।
মেট্রো উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জয়গোপাল গারোডিয়া হিন্দু বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে পড়ুয়াদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভারতের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে এবং সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
পড়ুয়াদের উদ্দেশে ইংরেজিতে তিনি বলেন, “Dream big, think differently and be fearless।” অর্থাৎ, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, ভিন্নভাবে চিন্তা করতে হবে এবং নির্ভয়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তরুণদের ভারতের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ধারণা ও সমাধানের মাধ্যমে আজকের তরুণেরা শুধু ভারত নয়, বিশ্বের ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করতে পারেন।
বক্তব্যের সময় তিনি পড়ুয়াদের সম্মিলিতভাবে “We will do it” এবং “Develop Tamil Nadu, Develop India” স্লোগান উচ্চারণ করতে বলেন। এর মাধ্যমে রাজ্য ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার বার্তা দেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন শিক্ষানীতির মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নত করা এবং ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
দেশে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লে তরুণদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (IIT), ভারতীয় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান (IIM) এবং সর্বভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (AIIMS)-এর সম্প্রসারণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তরুণদের নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি পড়ুয়াদের সঙ্গে খেলাধুলায় পেশাগত সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তরুণদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন।
ভারতের ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের আকাঙ্ক্ষার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তরুণ খেলোয়াড়দের এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিভার পাশাপাশি উপযুক্ত মঞ্চ ও সহযোগিতাও প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী পড়ুয়াদের ভারতের বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার এবং তামিল সংস্কৃতিকে দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পড়ুয়ারা যেখানেই যাক না কেন, সেখানে বন্ধুদের তামিল ভাষা, সাহিত্য ও কবিতা সম্পর্কে জানাতে পারে।
তামিল সাহিত্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের উল্লেখ করে তিনি সন্ত তিরুবল্লুভরের কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহিত্যকর্মের অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে পারে।
তাঁর বক্তব্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের বিভিন্ন ভাষা ও পরম্পরা সম্পর্কে জানার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জয়গোপাল গারোডিয়া হিন্দু বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির যাত্রাপথ এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ নিয়ে মাত্র সাতজন পড়ুয়াকে নিয়ে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়েছিল। দৃঢ় সংকল্প ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের বিকাশে জয়গোপাল গারোডিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, গিরিজা আম্মার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি শিশুদের দেশের সেনাদের জন্য প্রত্যেককে এক টাকা করে সঞ্চয় করার ধারণা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, হাজার হাজার শিশুর ছোট ছোট অবদানের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এই উদাহরণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি, দুর্যোগের সময় বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা এবং পরিচ্ছন্নতার মতো কাজকে পড়ুয়াদের জীবনের অংশ করে তোলার আহ্বান জানান।











