পৌষ সংক্রান্তি মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠে-পুলির উত্সব। গুড়-নারকেলের মিষ্টি গন্ধে ভরে ওঠে রান্নাঘর। তবে একই রকম পিঠে বারবার না বানিয়ে যদি এবছর একটু অন্যরকম কিছু করতে চান, তাহলে পাহাড়ি স্বাদের দিকে নজর ঘোরাতেই পারেন। উত্তরবঙ্গ ও দার্জিলিং পাহাড়ে জনপ্রিয় নেপালি পিঠে চাটামারি এখন সংক্রান্তির নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠছে।

নেপালি পিজ্জা’ নামে পরিচিত, কিন্তু স্বাদে একেবারেই আলাদা
চাটামারিকে অনেকেই মজা করে “নেপালি পিজ্জা” বলেন। তবে নাম যতটা আধুনিক, স্বাদ ও তৈরির পদ্ধতি ঠিক ততটাই ঐতিহ্যবাহী। এই পিঠের মূল উপকরণ হল চালের গুঁড়ো। চালের গুঁড়োর সঙ্গে জল ও সামান্য নুন মিশিয়ে তৈরি করা হয় পাতলা ব্যাটার—ডোসার ব্যাটারের মতোই, তবে পাহাড়ি কায়দায় আরও মসৃণ।
কীভাবে বানানো হয় চাটামারি
গরম তাওয়ায় বা ফ্ল্যাট প্যানে হালকা তেল ব্রাশ করে প্রথমে ব্যাটার ঢেলে গোল করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় আসল চমক—
কুচনো পেঁয়াজ
ধনেপাতা
কাঁচালঙ্কা
কখনও ডিম
কখনও মাংসের কিমা
নিরামিষ সংস্করণে শুধুই সবজি ব্যবহার করা হয়। উপকরণ দেওয়ার পর ঢাকনা চাপা দিয়ে অল্প আঁচে সেদ্ধ করলেই তৈরি হয়ে যায় নরম, সুস্বাদু চাটামারি।

মিষ্টির ভিড়ে নোনতা স্বাদের আলাদা জায়গা
পৌষ সংক্রান্তিতে যেখানে সাধারণত মিষ্টি পিঠের আধিপত্য, সেখানে চাটামারি এনে দেয় একেবারে ভিন্ন স্বাদ। গুড়-নারকেলের মাঝে এই নোনতা পিঠে অতিথিদের নজর কেড়ে নেয় সহজেই। পাহাড়ি সংস্কৃতি ও বাঙালির পিঠে উৎসবের এই মেলবন্ধন এখন শিলিগুড়ি শহর থেকে শুরু করে গ্রামবাংলাতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কেন সংক্রান্তিতে চাটামারি হতে পারে সেরা পছন্দ
সহজ উপকরণ, কম সময়ে তৈরি, আর গল্পে ভরা এক পাহাড়ি স্বাদ—সব মিলিয়ে চাটামারি শুধুই একটি পিঠে নয়, বরং উৎসবের টেবিলে নতুনত্বের প্রতীক। যারা মিষ্টির পাশাপাশি নোনতা পিঠে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি একেবারে আদর্শ।

ভাপা-পাটিসাপটার ভিড়ে এবারের পৌষ সংক্রান্তিতে এক নতুন স্বাদের চমক। উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ে জনপ্রিয় নেপালি পিঠে ‘চাটামারি’ এখন বাঙালির রান্নাঘরেও ঢুকে পড়ছে। নোনতা স্বাদের এই পিঠে সংক্রান্তির উৎসবে আনতে পারে ভিন্নমাত্রা।













