ইউপিইডিএর কাছে সার্ভিস রোডের প্রস্তাব, আম্বেদকরনগর ডিএমের কাছে জমির প্রতিবেদন চাওয়া

পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে সার্ভিস রোডের দাবির পর ইউপিইডিএ আম্বেদকরনগরের জেলাশাসকের কাছে জমির প্রাপ্যতা ও অবস্থার প্রতিবেদন চেয়েছে। সুলতানপুরের দুই বিজেপি বিধায়ক আগে এই দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন।
ইউপিইডিএর কাছে সার্ভিস রোডের প্রস্তাব, আম্বেদকরনগর ডিএমের কাছে জমির প্রতিবেদন চাওয়া
Photo Credit / Attribution: Google

উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে সার্ভিস রোড নির্মাণের দাবি ফের জোরালো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগের পর উত্তর প্রদেশ এক্সপ্রেসওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ইউপিইডিএ) আম্বেদকরনগরের জেলাশাসকের কাছে জমি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন চেয়েছে।

জানা গেছে, সুলতানপুরের দুই বিজেপি বিধায়ক এ বিষয়ে আগে চিঠি পাঠিয়ে সার্ভিস রোডের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর ইউপিইডিএ জমির প্রাপ্যতা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য চাওয়ায় দাবিটি এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পর পূর্ব উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলার মধ্যে যাতায়াত সহজ হয়েছে। তবে এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত গ্রাম ও স্থানীয় জনবসতির জন্য অনেক এলাকায় প্রধান সড়কে পৌঁছানো এখনও চ্যালেঞ্জ। এক্সপ্রেসওয়েতে নির্দিষ্ট প্রবেশ ও প্রস্থানের পয়েন্ট থাকায় আশপাশের গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের অনেক সময় দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়।

এই সমস্যার কথা বিবেচনা করেই স্থানীয় স্তরে সার্ভিস রোডের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, সার্ভিস রোড তৈরি হলে এক্সপ্রেসওয়ের আশপাশের গ্রাম ও স্থানীয় বাজারগুলির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হতে পারে। কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং প্রতিদিন যাতায়াতকারী মানুষও এর সরাসরি সুবিধা পেতে পারেন।

সুলতানপুরের দুই বিজেপি বিধায়ক ইউপিইডিএ-কে চিঠি দিয়ে এই দাবি তুলেছিলেন। জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য, এক্সপ্রেসওয়ের সুবিধা শুধু দূরপাল্লার যানবাহনে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; এর আশপাশে বসবাসকারী স্থানীয় জনগণেরও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাওয়া উচিত।

আম্বেদকরনগরের জেলাশাসকের কাছে ইউপিইডিএ জমির প্রতিবেদন চাওয়াকে এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জমির প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সার্ভিস রোডের জন্য কতটা জমি পাওয়া যেতে পারে, কী ধরনের জমির প্রয়োজন হবে এবং জমি-সংক্রান্ত পরিস্থিতি কী, তা জানা যাবে।

পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের জন্য এর আগে বড় পরিসরে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। ইউপিইডিএর সরকারি ওয়েবসাইটে এক্সপ্রেসওয়ের জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত নথি রয়েছে।

সার্ভিস রোড নির্মাণের দাবির অন্যতম কারণ স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। এক্সপ্রেসওয়ের মূল ক্যারেজওয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে আশপাশের গ্রামের স্থানীয় যান চলাচলের প্রয়োজন আলাদা। স্থানীয় সড়ক ব্যবস্থা উন্নত হলে এক্সপ্রেসওয়ের মূল সড়কে অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।

গ্রামীণ এলাকায় কৃষকদের জন্যও সার্ভিস রোড গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জমি থেকে ট্র্যাক্টর ও কৃষি যান বের করা, স্থানীয় মণ্ডিতে পৌঁছানো এবং গ্রাম থেকে প্রধান সড়কে যাওয়ার জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। সার্ভিস রোড তৈরি হলে এই যানবাহনগুলির জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক পথ পাওয়া যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ফলে এলাকায় উন্নয়নের সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে আশপাশের গ্রামগুলিকে উন্নত সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনা হলে এর পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাবে। সার্ভিস রোড তৈরি হলে স্থানীয় বাজার ও শহরতলিতে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আম্বেদকরনগরের জেলাশাসকের কাছে জমির প্রতিবেদন চাওয়ার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া ওই প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জমির অবস্থা ও প্রাপ্যতা-সংক্রান্ত তথ্য ইউপিইডিএ-কে পাঠাবে। এরপর প্রস্তাবিত সড়কের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক দিক মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি এই প্রথম নয়। সুলতানপুরেও এক্সপ্রেসওয়েতে অতিরিক্ত ইন্টারচেঞ্জ ও কাটের দাবি আগে উঠেছিল। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলদিরায়ের কাছে ইন্টারচেঞ্জের দাবিতে গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং ইউপিইডিএ জমির মাপজোক করেছিল।

সার্ভিস রোড ও ইন্টারচেঞ্জের দাবির পেছনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মূল উদ্বেগ হলো, এক্সপ্রেসওয়ের কারণে তাদের এলাকার সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলেও নির্ধারিত প্রবেশ ও প্রস্থানের পয়েন্টগুলির দূরত্ব অনেক গ্রামের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সড়ক নেটওয়ার্ককে এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত করাকে আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সুলতানপুর জেলায় পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েকে ঘিরে শিল্প উন্নয়নের দিকেও কাজ চলছে। প্রশাসন ইউপিইডিএর চাহিদা অনুযায়ী শিল্প করিডরের জন্য গ্রাম সমাজের জমি দিয়েছিল এবং ব্যক্তিগত জমি কেনার প্রক্রিয়াও চলছিল।

সার্ভিস রোডের প্রস্তাব এগোলে এর প্রভাব শুধু যান চলাচলের সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এক্সপ্রেসওয়ের আশপাশের এলাকায় জমির ব্যবহার, বাণিজ্যিক কার্যকলাপ এবং স্থানীয় যাতায়াতের ধরনেও পরিবর্তন হতে পারে। উন্নত সড়ক যোগাযোগ ছোট বাজার ও গ্রামগুলিকে বড় সড়কের সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

সার্ভিস রোড নির্মাণ সহজ প্রক্রিয়া নয়। এর জন্য জমির প্রাপ্যতা, সড়কের প্রস্থ, নির্মাণ ব্যয়, জল নিষ্কাশন, সেতু ও কালভার্ট এবং বিদ্যমান সড়কের সঙ্গে সংযোগের মতো একাধিক প্রযুক্তিগত বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। যেখানে ব্যক্তিগত জমির প্রয়োজন হবে, সেখানে জমি-সংক্রান্ত বিষয়গুলিও সমাধান করতে হবে।

ইউপিইডিএ জমির প্রতিবেদন চাওয়ার পর এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। জমির প্রাপ্যতা অনুকূল হলে সমীক্ষা ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া এগোতে পারে। এরপরই প্রস্তাবিত সার্ভিস রোড কীভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে, তা স্পষ্ট হবে।

জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এই দাবি ধারাবাহিকভাবে তোলার উদ্দেশ্য হিসেবেও বলা হচ্ছে, এক্সপ্রেসওয়ে থেকে স্থানীয় মানুষকে উন্নত সুবিধা দেওয়া। আঞ্চলিক স্তরে সড়ক যোগাযোগ শক্তিশালী হলে দৈনন্দিন কাজের জন্য মানুষকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার প্রয়োজন কমতে পারে।

সার্ভিস রোড তৈরি হলে এক্সপ্রেসওয়ের মূল সড়কে স্থানীয় যান চলাচলের চাপও কমানো যেতে পারে। গ্রাম থেকে বের হওয়া ছোট যান, কৃষি যান এবং স্থানীয় যানবাহন সার্ভিস রোড ব্যবহার করতে পারে, অন্যদিকে এক্সপ্রেসওয়ের মূল সড়ক দীর্ঘ দূরত্বের দ্রুতগতির যান চলাচলের জন্য আরও নিরাপদ থাকতে পারে।

বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো আম্বেদকরনগর প্রশাসনের জমির প্রতিবেদন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ইউপিইডিএ প্রস্তাবিত সার্ভিস রোডের জন্য জমির পরিস্থিতি কী এবং পরবর্তী কোন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা উচিত, তা নির্ধারণ করতে পারবে।

সুলতানপুরের দুই বিজেপি বিধায়কের চিঠির পর ইউপিইডিএ আম্বেদকরনগরের জেলাশাসকের কাছে জমির প্রতিবেদন চেয়েছে। এখন জমির প্রাপ্যতা ও প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতে সুবিধা হতে পারে।

Leave a comment