কোটায় ছাত্রদের সঙ্গে সংলাপে রাহুল গান্ধী, একই মঞ্চে গেহলট ও পাইলট

কোটায় ছাত্রদের সঙ্গে সংলাপ কর্মসূচিতে অংশ নেন রাহুল গান্ধী। সফরে রাজস্থান কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং অশোক গেহলট ও সচিন পাইলটকে একসঙ্গে দেখা যায়। শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষাব্যবস্থা এবং ছাত্রদের সমস্যাকে কেন্দ্র করে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার রাজস্থানের কোটায় পৌঁছে ছাত্রদের সঙ্গে সংলাপ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক অভিযানের সূচনার কথা জানান। সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পায় কারণ দীর্ঘদিন পর রাজস্থান কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং সচিন পাইলট, একই মঞ্চে একসঙ্গে উপস্থিত হন এবং তাঁদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতাও দেখা যায়।

কোটা বিমানবন্দরে কংগ্রেস নেতা ও কর্মীরা রাহুল গান্ধীকে স্বাগত জানান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা, বিরোধী দলনেতা টিকারাম জুলি, অশোক গেহলট, সচিন পাইলটসহ দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।

রাহুল গান্ধীর আগমনের আগে বিমানবন্দরের লাউঞ্জে অশোক গেহলট ও সচিন পাইলটকে একসঙ্গে কথা বলতে এবং হাসিমুখে দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক মন্তব্য ও মতভেদের খবর সামনে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁদের এই সাক্ষাৎ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তাঁদের আচরণ ও কথোপকথনে মঞ্চে কোনও ধরনের উত্তেজনা নেই বলে ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। বিমানবন্দরে উপস্থিত অন্যান্য নেতাদের মধ্যেও পরিবেশ স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল।

রাহুল গান্ধীকে স্বাগত জানাতে বিপুল সংখ্যক কংগ্রেস কর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় কর্মীরা তাঁর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে পুলিশকে ভিড় নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাঁর কনভয় বিমানবন্দর থেকে বের করে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়।

এরপর রাহুল গান্ধী স্টেশন রোডের একটি বেসরকারি হোটেলে পৌঁছে নির্বাচিত কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তাঁর প্রধান কর্মসূচি ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ দশেরা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র ছাত্রদের অংশগ্রহণের অনুমতি ছিল এবং কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রাহুল গান্ধী জানান, কোটার এই কর্মসূচি ছাত্রদের সমস্যা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্রদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে এমন বিষয়গুলোকে সামনে আনার লক্ষ্যেই এই অভিযান শুরু করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদের ওপর বাড়তে থাকা চাপ, পরীক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি এবং মানসিক চাপের কারণে একাধিক গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছে, যেগুলো উপেক্ষা করা যায় না। তিনি এটিকে একটি “ভেঙে পড়া ব্যবস্থা”-র ফল বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিষয়টি জাতীয় স্তরে উত্থাপন করা প্রয়োজন।

কোটায় পৌঁছানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বার্তায় রাহুল গান্ধী ছাত্রদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, এই লড়াই সেইসব ছাত্রদের জন্য, যাদের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায় এবং যাদের পরিবারকে গভীর শোকের মুখোমুখি হতে হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি কেন্দ্র সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অব্যবস্থাপনার মতো সমস্যাগুলির গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান করা প্রয়োজন।

কোটা দীর্ঘদিন ধরে শুধু রাজস্থান নয়, সারা দেশের অন্যতম বৃহৎ কোচিং ও শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর হাজার হাজার ছাত্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এখানে আসে। ফলে শিক্ষা-সংক্রান্ত রাজনীতি ও বিতর্কের ক্ষেত্র হিসেবেও এই অঞ্চল গুরুত্ব বহন করে। এই প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধীর সফরে ছাত্রদের বিষয়কে সরাসরি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনার চেষ্টা দেখা যায়।

এই কর্মসূচিতে রাজস্থান কংগ্রেসের প্রায় সব শীর্ষ নেতাই উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তি ধারিওয়াল, অশোক চাঁদনা এবং দিব্যা মাদেরনাও ছিলেন। বৃহৎ সংখ্যক নেতার উপস্থিতিকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন রাজ্য ও জাতীয় স্তরে দল সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে।

 

Leave a comment