অসমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে অবিলম্বে এবং বর্ধিত হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, গুয়াহাটিতে অসম সচিবালয়ের কাছে বিক্ষোভ দেখায় রাইজর দল। দলের কর্মীরা অসম সচিবালয় এবং সংলগ্ন মন্ত্রী আবাসন এলাকার বিভিন্ন স্থানে জমায়েত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। বিশেষত অসমের পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং তা বণ্টনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবিতে এই বিক্ষোভ হয়।
রাইজর দলের সভাপতি এবং শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈয়ের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার সপ্তম দিনে প্রবেশ করে। একই দাবিতে দলের কর্মীরা দিনভর বিভিন্ন স্থানে ৫০ থেকে ১০০ জনের দলে জমায়েত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং বিক্ষোভকারীদের এগিয়ে যেতে বাধা দেয়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
রাইজর দলের কর্মীরা গুয়াহাটির অসম সচিবালয় এবং সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ দেখান। দলের দাবি অনুযায়ী, দিনভর বিভিন্ন স্থানে ৫০ থেকে ১০০ জনের দল জমায়েত হয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য অবিলম্বে ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়।
বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল পূর্ব অসমের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি। সচিবালয়ের আশপাশে বিক্ষোভের জেরে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীদের এগিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
তবে আটক ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা, তাঁদের পরিচয়, আটকের সময়কাল কিংবা মুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এই সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ক্ষতিপূরণের দাবিতে রাইজর দলের সভাপতি তথা শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। বৃহস্পতিবার তাঁর এই কর্মসূচি সপ্তম দিনে প্রবেশ করে।
এই অবস্থান বিক্ষোভের মাধ্যমে দলটি ক্ষতিপূরণের বিষয়টি রাজ্য সরকারের নজরে আনতে চাইছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের আশপাশে দলের কর্মীদের বিক্ষোভও একই দাবির অংশ।
তবে অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন অখিল গগৈয়ের কোনও নতুন বিবৃতি, সরকারের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সমঝোতার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিক্ষোভের পর ক্ষতিপূরণ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
রাইজর দলের প্রধান দাবি, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়াতে হবে। অসমের পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছে দলটি।
বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে বাড়িঘর, সম্পত্তি এবং জীবিকা সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সময়মতো ক্ষতিপূরণ বণ্টন ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এই ঘটনায় কতগুলি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মোট কত অর্থ বণ্টন করা হয়েছে এবং কতগুলি আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
রাইজর দলের বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত সহায়তা প্রদান এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। দলের দাবির বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার তথ্যও পাওয়া যায়নি।
অসম সচিবালয় এবং মন্ত্রী আবাসন এলাকার আশপাশে বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীদের এগিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয় এবং কয়েকজনকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আটক করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সীমিত। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে কোন আইনি বিধান প্রয়োগ করা হয়েছিল কিংবা আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হলে পদক্ষেপের ধরন এবং তার আইনি ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আপাতত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি রাইজর দলের বিক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে। সচিবালয়ের আশপাশে বিক্ষোভের মাধ্যমে দলটি তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি অখিল গগৈয়ের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভও অব্যাহত রয়েছে।
দলটি আপাতত ক্ষতিপূরণের বিষয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ দাবি করছে। তবে বিক্ষোভের পর নতুন কোনও ত্রাণ প্যাকেজ, অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ কিংবা অর্থ বণ্টনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিপূরণের দাবিতে রাজ্য সরকার কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে অর্থ প্রদানের বিষয়ে কোনও নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কি না, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে। আপাতত রাইজর দলের কর্মীরা অবিলম্বে এবং বর্ধিত হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। অখিল গগৈয়ের অবস্থান বিক্ষোভও সপ্তম দিনে পৌঁছেছে।











