NEET 2026 পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী হাজারো পরীক্ষার্থীর যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে ইন্দোর, ভোপাল এবং রতলামের মধ্যে বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা করেছে। ২০ জুন পরিচালিত এই বিশেষ ট্রেনগুলোর উদ্দেশ্য পরীক্ষার্থীদের সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে সহায়তা করা এবং যাত্রাসংক্রান্ত অসুবিধা কমানো।
২১ জুন জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষায় বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকায় অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিম মধ্য রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই বিশেষ ট্রেনগুলো শুধু পরীক্ষার্থীদেরই নয়, সাধারণ যাত্রীদেরও যাতায়াতে সহায়তা করবে।
রেলওয়ের মতে, পরীক্ষার সময় হঠাৎ বেড়ে যাওয়া যাত্রীসংখ্যা সামাল দিতে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা প্রয়োজন। এর ফলে পরীক্ষার্থীরা সময়মতো তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন।
রেলওয়ের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেন নম্বর 09354 বিশেষ ট্রেন হিসেবে ২০ জুন ইন্দোর থেকে যাত্রা শুরু করবে। ট্রেনটি সকাল ১১:২৫ মিনিটে ইন্দোর থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭:০০টায় ভোপালে পৌঁছাবে। পথে এটি ফতেহাবাদ চন্দ্রাবতীগঞ্জ জংশন, বড়নগর, রতলাম, নাগদা, উজ্জয়িনী, মাকসি, শুজালপুর, সিহোর এবং সন্ত হিরদারাম নগর স্টেশনে থামবে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন শহর থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাত্রা করা পরীক্ষার্থীদের জন্য এই ট্রেন বিশেষভাবে উপযোগী হবে।
এছাড়া ট্রেন নম্বর 09353 ভোপাল থেকে রতলামের মধ্যে বিশেষ পরিষেবা হিসেবে পরিচালিত হবে। ট্রেনটি ২০ জুন সন্ধ্যা ৭:৪০ মিনিটে ভোপাল থেকে ছেড়ে পরদিন রাত ১২:৫৫ মিনিটে রতলামে পৌঁছাবে। যাত্রাপথে এটি সন্ত হিরদারাম নগর, সিহোর, শুজালপুর, মাকসি, উজ্জয়িনী এবং নাগদা স্টেশনে থামবে।
রেলওয়ের মতে, এই ব্যবস্থার ফলে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগে ও পরে যাতায়াতে সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে নিয়মিত ট্রেনগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপও কমবে।
পশ্চিম মধ্য রেলওয়ের ভোপাল বিভাগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি শুরু করেছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভোপাল, অশোকনগর, গুনা, নর্মদাপুরম এবং বিদিশায় পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব শহরে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোপালে সর্বাধিক ১৩,৭৭৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন। এছাড়া গুনায় ১,৮৩৯ জন, বিদিশায় ১,৭০৯ জন, নর্মদাপুরমে ১,২৮৩ জন এবং অশোকনগরে ৮৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রেলওয়ে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রেল প্রশাসন প্রধান স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক কর্মী, পরিচালন কর্মী এবং রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (RPF)-এর সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। স্টেশন চত্বর, প্রবেশ ও প্রস্থানদ্বার এবং প্ল্যাটফর্মে যাত্রী চলাচল সুশৃঙ্খল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্মকর্তাদের মতে, পরীক্ষার দিন ট্রেনগুলোর সময়ানুবর্তী পরিচালনা নিশ্চিত করতেও বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। এই উদ্যোগের ফলে হাজারো পরীক্ষার্থী নির্বিঘ্নে তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন।








