ভোররাতের ঘন কুয়াশায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। অসমের নওগাঁও জেলায় হাতির পালের সঙ্গে ডাউন রাজধানী এক্সপ্রেসের সংঘর্ষে শুধু বন্যপ্রাণের প্রাণহানিই নয়, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ। যাত্রী দুর্ভোগ চরমে, বাতিল একাধিক এক্সপ্রেস ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন।
কুয়াশার আড়ালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে ঘন কুয়াশার মধ্যে লাইনে উঠে আসে একটি হাতির পাল। বিপদের আঁচ পেয়ে লোকো পাইলট জরুরি ব্রেক কষলেও শেষরক্ষা হয়নি। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৮টি হাতির। পাশাপাশি রাজধানী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন ও চারটি কোচ লাইনচ্যুত হয়।

রেলের ব্যাখ্যা: কেন এড়ানো গেল না দুর্ঘটনা
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, বন দফতর থেকে আগেই জানানো হয়েছিল হাতির পাল দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। কিন্তু তার আগেই তারা লাইনে উঠে আসে। LHB কোচ থাকার কারণে যাত্রীদের বড় ক্ষতি হয়নি।
বাতিল ট্রেনের তালিকা (প্রধান)
দুর্ঘটনার জেরে সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে—
১৫৯২৭ রঙ্গিয়া–নিউ তিনসুকিয়া এক্সপ্রেস
১২০৬২৭ গুয়াহাটি–জোড়হাট টাউন জনশতাব্দী এক্সপ্রেস
১৫৮৮৮ গুয়াহাটি–বদরপুর ভিস্টাডোম এক্সপ্রেস
১৫৯২৮ নিউ তিনসুকিয়া–রঙ্গিয়া এক্সপ্রেস
১৫৬৬৬ মারিয়ানি–গুয়াহাটি এক্সপ্রেস
৫৫৬০২ লামডিং–গুয়াহাটি প্যাসেঞ্জার

ঘুরপথে ও নিয়ন্ত্রিত ট্রেন
রেল পরিষেবা আংশিক সচল রাখতে ঘুরপথে বা নিয়ন্ত্রিতভাবে চালানো হচ্ছে—
কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস (শিয়ালদহ–সাব্রুম)
ডিব্রুগড়–নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস
বিবেক এক্সপ্রেস (ডিব্রুগড়–কন্যাকুমারী)
কামরূপ এক্সপ্রেস, আওধ আসাম এক্সপ্রেস সহ একাধিক ট্রেন

নিরাপত্তায় কড়া পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষ কুয়াশা-প্রবণ এলাকায় প্রশিক্ষিত সিগন্যালিং কর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দৃশ্যমানতা ১৮০ মিটারের নীচে নামলেই লাইনে ডেটোনেটর বসানো হবে। স্টেশন মাস্টারদের নিয়মিত দৃশ্যমানতা মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রী দুর্ভোগ ও পর্যটন প্রভাব
দুর্ঘটনার জেরে বহু দ্রুতগামী ট্রেনে দীর্ঘ ওয়েটিং লিস্ট তৈরি হয়েছে। শীতের মরশুমে পর্যটকের ভিড় থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল। এখনও পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা না হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
অসমের নওগাঁওয়ে হাতির পালের সঙ্গে রাজধানী এক্সপ্রেসের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে ৮টি হাতি। দুর্ঘটনায় লাইনচ্যুত হয়েছে ইঞ্জিন-সহ ৫টি কোচ। এর জেরে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের বিস্তীর্ণ অংশে রেল পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বাতিল ও ঘুরপথে চালানো হচ্ছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন।











