রাজকোটে পোষ্য কুকুর পালনে নিবন্ধন ও প্রতিবেশীদের লিখিত এনওসি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তুতি

গুজরাটের রাজকোটে পোষ্য কুকুরের হামলার ঘটনা বৃদ্ধির পর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পোষ্য কুকুর রাখতে নিবন্ধন এবং প্রতিবেশীদের লিখিত এনওসি বাধ্যতামূলক হতে পারে। নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

রাজকোটে পোষ্য কুকুরের হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় রাজকোট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন পোষ্য কুকুর পালনের নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় পোষ্য কুকুর রাখতে হলে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে নিবন্ধন করানোর পাশাপাশি আশপাশের প্রতিবেশীদের লিখিত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি পোষ্য কুকুর পালনের আগে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে তার নিবন্ধন করাবেন। পাশাপাশি আশপাশে বসবাসকারী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে লিখিত এনওসি সংগ্রহ করতে হবে। ওই এনওসিতে উল্লেখ থাকবে যে সংশ্লিষ্ট কুকুরটির কারণে প্রতিবেশীদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না এবং তার আচরণ স্বাভাবিক।

মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে পোষ্য কুকুরকে ঘিরে বিরোধ ও হামলার ঘটনা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পোষ্য কুকুরের মালিকদের জবাবদিহিও বাড়বে।

সম্প্রতি গুজরাটের বিভিন্ন শহরে পোষ্য কুকুরের হামলার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে সুরাটে এক শিশুর মৃত্যুর পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরপর আহমেদাবাদ, মোরবি এবং অন্যান্য মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনও নিজ নিজ এলাকায় পোষ্য কুকুর-সংক্রান্ত নিয়ম পর্যালোচনা শুরু করেছে।

রাজকোটে পোষ্য কুকুর পালনে নিবন্ধন ও প্রতিবেশীদের লিখিত এনওসি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তুতি

এই প্রেক্ষাপটে রাজকোট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কাছ থেকে সেখানে কার্যকর থাকা নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে। প্রশাসন এসব নিয়ম পর্যালোচনার পর স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করবে।

কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় পোষ্য কুকুরের নিবন্ধন না করালে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাড়ি-বাড়ি সমীক্ষা করবে। এ সময় কর্মকর্তাদের দল প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পোষ্য কুকুরের তথ্য সংগ্রহ করবে। প্রতিটি কুকুর এবং তার মালিকের বিস্তারিত তথ্য মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু তথ্যভান্ডার তৈরি করা নয়, ভবিষ্যতে কোনো ঘটনা ঘটলে দায় নির্ধারণ করাও। এর মাধ্যমে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কাছে পোষ্য কুকুরের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের মালিকদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন জানিয়েছে, তদন্তে কোনো ব্যক্তি নিবন্ধন ছাড়া পোষ্য কুকুর পালন করছেন বা নির্ধারিত নিয়ম মানছেন না বলে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর স্পষ্ট করা হবে।

প্রশাসনের মতে, এই নিয়মের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়, বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং সাধারণ নাগরিকদের পোষ্য কুকুরের হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়াই অগ্রাধিকার।

বিশেষজ্ঞদেরও মত, নিবন্ধন, দায়িত্বশীলভাবে পোষ্য পালন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু হলে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা কমতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

 

Leave a comment