Rakhi Weekend Travel: রাখিবন্ধন শুধু রাখি পরানো আর মিষ্টিমুখের উৎসব নয়, ভাই-বোনের সঙ্গে কিছুটা একান্ত সময় কাটানোরও দারুণ সুযোগ। এ বছর ২৮ অগস্ট শুক্রবার রাখি। তার পরের শনি ও রবিবার মিলিয়ে হাতে রয়েছে টানা তিন দিন। এই ছোট ছুটিতে দার্জিলিংয়ের চেনা ভিড়ের বদলে পাহাড়ের কুয়াশা, সবুজ রাস্তা আর হোমস্টের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন উত্তরবঙ্গের এই তিন অফবিট ঠিকানা।

সুখিয়াপোখরি: কুয়াশায় মোড়া পাহাড়ি সকাল
তিন দিনের সফরের প্রথম গন্তব্য হতে পারে সুখিয়াপোখরি। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা থেকে ট্রেনে রওনা দিয়ে শুক্রবার সকালে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছতে পারেন। সেখান থেকে আগে থেকে বুক করা গাড়ি কিংবা শেয়ার গাড়িতে পাহাড়ের পথে যাত্রা শুরু করুন।রাস্তা যত উপরে উঠবে, ততই বদলে যাবে চারপাশ। শহরের কোলাহলের বদলে চোখে পড়বে সবুজ পাহাড়, মেঘ-কুয়াশা আর নির্জন পাহাড়ি রাস্তা।দুপুরের মধ্যে পৌঁছে হোটেল বা হোমস্টেতে চেক-ইন করে লাঞ্চ সেরে নিন। এরপর পায়ে হেঁটে আশপাশটা ঘুরে দেখতে পারেন। সময় থাকলে জোরপোখরি-ও ঘুরে আসা যায়।
ছোটা মাংওয়া: হোমস্টেতে কফি, মোমো আর থুকপা
শনিবার দুপুরে সুখিয়াপোখরিতে খাওয়া সেরে দিনের আলো থাকতেই রওনা দিন ছোটা মাংওয়ার দিকে। পাহাড়ি রাস্তার কারণে যাত্রায় কিছুটা সময় লাগবে। তাই একদিনে অনেক জায়গা দেখার পরিকল্পনা না করাই ভালো।হোমস্টেতে পৌঁছে চেক-ইন করার পর আর কোথাও ছুটে যাওয়ার দরকার নেই। বরং পাহাড়ি পথে হাঁটুন, স্থানীয় পরিবেশ উপভোগ করুন আর ভাই-বোনের সঙ্গে গল্পে সময় কাটান।সন্ধ্যার আবহ আরও জমিয়ে তুলতে পারে হোমস্টের বারান্দা। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফি, সঙ্গে গরম মোমো ও থুকপা—পাহাড়ি ঠান্ডায় এমন আড্ডার মজাই আলাদা।

অহলদারা: ভোরের মেঘ আর পাহাড়ের প্যানোরামিক ভিউ
রবিবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে অন্ধকার থাকতেই ছোটা মাংওয়া থেকে বেরিয়ে পড়ুন অহলদারার উদ্দেশে। ভোরের আলো ফুটতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের দৃশ্য বদলাতে থাকবে।আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলতে পারে দূরের পর্বতশ্রেণির পাশাপাশি কাঞ্চনজঙ্ঘারও। মেঘে ঢাকা পাহাড় আর সূর্যের প্রথম আলো মিলিয়ে তৈরি হবে অসাধারণ দৃশ্য।অহলদারায় কিছুটা সময় কাটিয়ে দুপুরের মধ্যেই পাহাড় থেকে নেমে আসা ভালো। এরপর নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে রাতের ট্রেনে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিতে পারেন।
তিন দিনে কীভাবে সাজাবেন পুরো ট্রিপ?
বৃহস্পতিবার রাত: কলকাতা থেকে ট্রেনে রওনা
শুক্রবার: NJP → সুখিয়াপোখরি → স্থানীয় দর্শন
শনিবার: সুখিয়াপোখরি → ছোটা মাংওয়া → হোমস্টে ও পাহাড়ি আড্ডা
রবিবার: ভোরে অহলদারা → দুপুরে পাহাড় থেকে নামা → NJP → কলকাতা ফেরার ট্রেন

যাওয়ার আগে এই বিষয়গুলি মাথায় রাখুন
রাখির সপ্তাহান্তে পাহাড়ে পর্যটকের চাপ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে থাকার জায়গা এবং NJP থেকে গাড়ি আগে থেকেই বুক করে রাখা ভালো।শেয়ার গাড়ি পাওয়া গেলেও ভিড়ের সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তিন দিনের ছোট সফরে সময় বাঁচাতে ব্যক্তিগত গাড়ি বা নির্দিষ্ট পরিবহণের ব্যবস্থা আগে করে রাখলে ঝামেলা কম হবে।

রাখিবন্ধনের সঙ্গে এবার মিলেছে টানা তিন দিনের ছুটি। তাই ভাই-বোনকে নিয়ে দার্জিলিংয়ের ভিড় এড়িয়ে পাহাড়ের নিরিবিলি পরিবেশে ছোট্ট ট্রিপ প্ল্যান করতে পারেন। সুখিয়াপোখরি, ছোটা মাংওয়া ও অহলদারা—এই তিন অফবিট ঠিকানা হতে পারে আপনার উইকএন্ডের আদর্শ গন্তব্য।








