অযোধ্যা রাম মন্দিরের CEO পদে ৫৩০০-এর বেশি আবেদন, সাক্ষাৎকারের জন্য ১৮ জন বাছাই

অযোধ্যার রাম মন্দিরের CEO পদে ৫৩০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছে এবং ১৮ জন প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য বাছাই করা হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার মন্দির প্রাঙ্গণে গঠিত প্যানেলের সামনে তাঁদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে।

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরে চড়াওয়া চুরির ঘটনা সামনে আসার পর শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নিয়োগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। CEO পদে ৫,৩০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছে এবং তার মধ্যে ১৮ জন প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য বাছাই করা হয়েছে।

মন্দির সূত্রের মতে, বাছাই করা প্রার্থীদের মঙ্গলবার ও বুধবার মন্দির প্রাঙ্গণে গঠিত একটি প্যানেলের সামনে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। মন্দিরের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত কাজ আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই CEO নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাম মন্দিরের CEO পদের জন্য ৫,৩০০-এর বেশি আবেদন পাওয়ার পর ট্রাস্ট প্রার্থীদের স্ক্রিনিং করে ১৮ জনকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের জন্য বাছাই করেছে। সূত্রের মতে, প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

CEO-এর দায়িত্বের মধ্যে মন্দিরের দৈনন্দিন প্রশাসন, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বাছাই করা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার মন্দির প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ প্যানেলের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। এই প্যানেলে রয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী এবং বিজ্ঞানী সুরেশ হাওয়ারে। সুরেশ হাওয়ারে শিরডি সাই বাবা ট্রাস্টের প্রাক্তন চেয়ারম্যানও ছিলেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণাকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

সূত্রের মতে, CEO পদের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থীর বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। এছাড়া তাঁকে হিন্দুধর্ম ও তার পরম্পরার সঙ্গে পরিচিত হতে হবে এবং ট্রাস্টের ধর্মীয় নিয়ম ও ব্যবস্থাপনা মেনে চলতে হবে।

প্রার্থীকে নিরামিষভোজী হওয়ার পাশাপাশি মদ ও মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকাও আবশ্যিক বলে জানানো হয়েছে। মন্দিরের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বিবেচনায় রেখে CEO-এর প্রশাসনিক দায়িত্ব পরিচালনার প্রত্যাশা করা হবে।

রাম মন্দিরের দানে কথিত কারচুপির ঘটনা তদন্তের আওতায় থাকা অবস্থায় CEO নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। জুনের শুরুতে বিষয়টি সামনে আসার পর মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে CEO নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

CEO মন্দিরের প্রশাসন, কর্মী এবং বিভিন্ন বিভাগের কাজকর্ম তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত করা এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কথিত দান কারচুপির ঘটনা তদন্তের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকার ১৩ জুন বিশেষ তদন্ত দল বা SIT গঠন করেছিল। প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসার পর ২৫ জুন FIR দায়ের করা হয় এবং পুলিশ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে নগদ অর্থের পাশাপাশি সোনা, রুপো এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রমাশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব।

পুলিশের মতে, অভিযুক্তদের মধ্যে অবিনাশ শুক্লার কাছ থেকে সর্বাধিক ২০.৩৯ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং অভিযোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই সামনে আসবে।

 

Leave a comment