Guess The Actor: পর্দায় ‘খলনায়ক’, কিন্তু সেই চরিত্রের জন্যই বাবা-মায়ের রোষ! চিনুন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতাকে

‘শর্মিলি’ ছবিতে রাখির সঙ্গে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করে বাবা-মায়ের রোষে পড়েছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় খলনায়ক রঞ্জিত। জানুন তাঁর অভিনয়জীবনের অজানা গল্প।

আজকের দিনে সিনেমা কিংবা ওটিটিতে সাহসী দৃশ্য খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কয়েক দশক আগে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সেই সময় পর্দায় এমন দৃশ্য দেখানোই ছিল বড় বিষয়। আর এমনই এক দৃশ্যে অভিনয় করে নিজের বাড়িতেই সমস্যায় পড়েছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় খলনায়ক রঞ্জিত। এমনকী তাঁর বাবা-মা সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে গিয়ে ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছিলেন অভিনেতা।

আসল নাম গোপাল বেদী, পরিচিতি রঞ্জিত নামে

বলিউডে রঞ্জিত নামে পরিচিত এই অভিনেতার আসল নাম গোপাল বেদী। দীর্ঘ কেরিয়ারে ২০০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। বিশেষ করে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাঁর জনপ্রিয়তা তৈরি হয়।শুধু অভিনয় নয়, পরিচালনা ও প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে ক্যামেরার সামনে তাঁর খলনায়কসুলভ উপস্থিতিই তাঁকে দর্শকদের কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করে তোলে।

‘শর্মিলি’র সেই দৃশ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি

রঞ্জিতের কেরিয়ারের অন্যতম আলোচিত ছবি ‘শর্মিলি’। এই ছবিতে রাখির সঙ্গে একটি ধর্ষণের দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন তিনি।অভিনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, একদিন তিনি বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন। ছবিতে ওই দৃশ্য আসার পর তাঁর বাবা-মা অত্যন্ত অস্বস্তিতে পড়েন এবং সিনেমা হল ছেড়ে বেরিয়ে যান।এরপর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। রঞ্জিতের দাবি, বাবা-মা তাঁকে বাড়ি থেকেও বের করে দিয়েছিলেন।

রাখির প্রশংসাতেও মন গলেনি প্রথমে

রঞ্জিতের বক্তব্য অনুযায়ী, ছবিতে তাঁর অভিনয় ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছিলেন রাখি। অভিনেত্রী তাঁর মায়ের কাছেও রঞ্জিতের অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন।কিন্তু সেই সময়ের সামাজিক মানসিকতার কথা মাথায় রেখে তাঁর মা ওই দৃশ্যের জন্য রাখির কাছেই ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে জানান রঞ্জিত। অভিনেতার কথায়, সময় বদলালেও বাবা-মায়ের নিজস্ব মূল্যবোধ ও চিন্তাভাবনা থাকে।

অভিনেতা হওয়ার পরিকল্পনাই ছিল না

মজার বিষয় হল, রঞ্জিতের শুরুতে অভিনেতা হওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। এমনকী তিনি কখনও থিয়েটারও করেননি বলে জানিয়েছিলেন।তবে সিনেমায় একের পর এক কাজের সুযোগ আসতে থাকায় তিনি অভিনয় চালিয়ে যান। প্রথম দিকে রেখা ও ওয়াহিদা রহমানের ভাইয়ের মতো পার্শ্বচরিত্রেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। পরে ‘শর্মিলি’ ছবির মাধ্যমে তাঁর কেরিয়ার অন্য মাত্রা পায়।

খলনায়কের চরিত্রে নিজস্ব পরিচয় তৈরি

ক্রমশ নেতিবাচক চরিত্রে রঞ্জিতের চাহিদা বাড়তে থাকে। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি অনেক সময় এতটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠত যে দর্শকের মনে অভিনেতার সঙ্গে ‘খলনায়ক’ পরিচয়টি একাকার হয়ে যায়।তবে অভিনেতার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও নেতিবাচক চরিত্রের প্রস্তাব তাঁর কাছে এলে তিনি কখনও কখনও শক্তি কাপুর বা গুলশান গ্রোভারের নামও প্রস্তাব করতেন।

কেরিয়ারের একটি বড় আফসোস

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বহু তারকার সঙ্গে কাজ করলেও রঞ্জিতের একটি আক্ষেপ রয়ে গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দিলীপ কুমার এবং রাজকুমার কুমারের সঙ্গে কখনও অভিনয় করতে পারেননি।কাজের ব্যস্ততার কারণে তাঁদের ছবির প্রস্তাব পেলেও অন্য প্রজেক্টে যুক্ত থাকার জন্য সেই সুযোগগুলি হাতছাড়া হয়ে যায়। পরে এই দুই কিংবদন্তি অভিনেতার সঙ্গে কাজ না করতে পারাকে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম বড় আফসোস হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বলিউডের একসময়ের অন্যতম পরিচিত খলনায়ক রঞ্জিত অভিনয় করেছেন ২০০টিরও বেশি ছবিতে। পর্দায় তাঁর নেতিবাচক চরিত্র দর্শকদের মনে আলাদা ছাপ ফেলেছিল। কিন্তু ‘শর্মিলি’ ছবিতে রাখির সঙ্গে একটি ধর্ষণের দৃশ্যে অভিনয় করার পর বাস্তব জীবনেও তাঁকে বাবা-মায়ের বিরাগভাজন হতে হয়েছিল বলে অভিনেতা নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।

Leave a comment