চাকরি জীবনের ব্যস্ততার মাঝেই অনেকেই অবসরের কথা ভাবতে চান না। কিন্তু যত দেরি হবে, ততই বাড়বে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পরিমাণ। তাই ৩৫ বছর বয়সে পৌঁছেই রিটায়ারমেন্ট পরিকল্পনা শুরু করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন হল, অবসরের জন্য ১ কোটি টাকা যথেষ্ট, নাকি প্রয়োজন ৫ কোটি বা তারও বেশি? উত্তর নির্ভর করছে আপনার ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রার পরিকল্পনার উপর।
কীভাবে বুঝবেন কত টাকার রিটায়ারমেন্ট কর্পাস প্রয়োজন?
প্রথমে হিসেব করুন বর্তমান মাসিক খরচ
রিটায়ারমেন্ট পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হল পরিবারের বর্তমান মাসিক খরচের হিসেব করা। তবে হোম লোনের EMI, সন্তানের পড়াশোনার মতো সাময়িক ব্যয় বাদ দিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচের উপর ভিত্তি করে হিসেব করা উচিত।
মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ধরতেই হবে
আজ যে খরচ ৭০ হাজার টাকা, ২৫-৩০ বছর পরে সেটাই কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। যদি বছরে গড়ে ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ধরা হয়, তাহলে বর্তমান ৭০ হাজার টাকার মাসিক ব্যয় অবসরের সময় প্রায় ৩ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে।
তাহলে কত টাকার কর্পাস লাগবে?
ধরা যাক, অবসরের পরে প্রতি মাসে ৩ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হবে এবং সেই কর্পাস থেকে বছরে গড়ে ৭ শতাংশ রিটার্ন মিলবে। সে ক্ষেত্রে প্রায় ৫.২ কোটি টাকার রিটায়ারমেন্ট কর্পাস প্রয়োজন হতে পারে।
মাসে কত টাকা বিনিয়োগ করলে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব?
একটি উদাহরণ অনুযায়ী—
প্রয়োজনীয় কর্পাস: ৫.২ কোটি টাকা
বিনিয়োগের সময়: ৩০ বছর
সম্ভাব্য বার্ষিক রিটার্ন: ১৫% CAGR
এই পরিস্থিতিতে প্রতি মাসে প্রায় ৯,২০০ টাকা নিয়মিত বিনিয়োগ করলেই লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব হতে পারে। তবে এটি কেবল একটি উদাহরণ; প্রকৃত প্রয়োজন ব্যক্তি ভেদে আলাদা হবে।
রিটায়ারমেন্ট ফান্ড নির্ধারণে যে বিষয়গুলি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমান জীবনযাত্রা
অবসরের পরও একই ধরনের জীবনযাপন বজায় রাখতে চাইলে সেই অনুযায়ী খরচের পরিকল্পনা করতে হবে।
বর্তমান বয়স ও অবসরের সময়
যত তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ শুরু করবেন, চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা তত বেশি পাওয়া যাবে।
মূল্যবৃদ্ধির হার
দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধি রিটায়ারমেন্ট পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলির একটি।
বিনিয়োগের সম্ভাব্য রিটার্ন
অবসরের আগে এবং পরে বিনিয়োগ থেকে কত রিটার্ন পাওয়া যাবে, তার উপর কর্পাসের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে।
সম্ভাব্য আয়ু
বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। তাই অবসরের পর ২৫-৩০ বছর বা তারও বেশি সময়ের আর্থিক পরিকল্পনা করাই বাস্তবসম্মত।
অতিরিক্ত আর্থিক লক্ষ্য
চিকিৎসা, ভ্রমণ, বাড়ি সংস্কার, পরিবারকে আর্থিক সহায়তা—এসব বড় ব্যয়ও রিটায়ারমেন্ট পরিকল্পনায় আগে থেকেই ধরে রাখা উচিত।
অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কত টাকা প্রয়োজন, তার কোনও একক উত্তর নেই। বর্তমান খরচ, মূল্যবৃদ্ধি, অবসরের বয়স, প্রত্যাশিত আয়ু এবং বিনিয়োগের রিটার্ন—এই কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করেই তৈরি হয় রিটায়ারমেন্ট কর্পাসের অঙ্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৫ বছর বয়স থেকেই পরিকল্পনা শুরু করলে তুলনামূলক কম বিনিয়োগে বড় তহবিল গড়ে তোলা সম্ভব।












