Reviving Dying Plants: শুকিয়ে নেতিয়ে পড়া গাছেও ফিরতে পারে প্রাণ! ফেলে দেওয়া কলার খোসা কাজে লাগান এভাবে, জানুন সহজ টিপস

গাছ শুকিয়ে নেতিয়ে পড়লে ফেলে দেবেন না। কাণ্ড-শিকড় পরীক্ষা, সঠিক জল, মাটি ও আলো এবং কলার খোসা কম্পোস্ট ব্যবহারের সহজ গার্ডেনিং টিপস জানুন।

বাগানের প্রিয় গাছটা হঠাৎ নেতিয়ে পড়েছে? পাতাগুলি বাদামি হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে দেখেই কি টব-সহ গাছটি ফেলে দেওয়ার কথা ভাবছেন? একটু অপেক্ষা করুন। বাইরে থেকে গাছটিকে পুরোপুরি শুকনো মনে হলেও কাণ্ড বা শিকড়ের কিছু অংশে প্রাণ থাকতে পারে। তাই গাছ বাঁচানোর প্রথম শর্ত হল কেন গাছটি শুকিয়ে যাচ্ছে, সেই কারণ খুঁজে বের করা। আর রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া কলার খোসাও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে কম্পোস্টের উপাদান হিসেবে কাজে আসতে পারে।

গাছ সত্যিই মরে গিয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে?

পাতা শুকিয়ে বাদামি হয়ে গেলে অনেকেই ধরে নেন গাছটি আর বাঁচবে না। কিন্তু শুধু পাতার অবস্থা দেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কাণ্ডের সামান্য অংশ পরিষ্কার করে হালকা আঁচড় দিয়ে দেখুন। ভিতরে সবুজ অংশ দেখা গেলে কাণ্ডে এখনও জীবিত টিস্যু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।শিকড়ও পরীক্ষা করা জরুরি। শক্ত ও অক্ষত শিকড় থাকলে গাছকে পুনরায় সুস্থ করে তোলার সুযোগ থাকতে পারে। অন্যদিকে কাণ্ড সম্পূর্ণ শুকনো ও ভঙ্গুর হয়ে গেলে এবং শিকড় পচে গেলে গাছটি বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

প্রথমেই মুছে ফেলুন মরা পাতা ও ডাল

গাছের যে অংশ একেবারেই শুকিয়ে বা মরে গিয়েছে, সেগুলি পরিষ্কার কাঁচি বা প্রুনার দিয়ে কেটে দিন। এতে গাছের জীবিত অংশগুলিতে পরিচর্যার সুবিধা হয়।তবে একসঙ্গে অনেকটা কাণ্ড কেটে ফেলা উচিত নয়। উপরের অংশ মরে গেলেও নীচের অংশ সবুজ থাকলে শুধু মৃত অংশটুকুই বাদ দিন।

বেশি জল দিলেই গাছ বাঁচবে না

গাছ নেতিয়ে পড়লেই অনেকে সঙ্গে সঙ্গে বেশি করে জল দিতে শুরু করেন। কিন্তু অতিরিক্ত জলও গাছের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। টবের মাটি যদি দীর্ঘক্ষণ ভিজে থাকে, তাহলে শিকড়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং পাতা হলুদ হয়ে গাছ আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।তাই আগে মাটি পরীক্ষা করুন। মাটি যদি একেবারে শুকিয়ে যায়, প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে জল দিন। আর মাটি যদি ক্রমাগত ভেজা থাকে, কিছু সময় জল দেওয়া বন্ধ রেখে টবের ড্রেনেজ বা জল বেরনোর ছিদ্র পরীক্ষা করুন।

পুরনো মাটিও হতে পারে সমস্যার কারণ

একই টবে দীর্ঘদিন মাটি থাকলে তার গুণমান ও পুষ্টির ভারসাম্য কমে যেতে পারে। মাটি যদি খুব শক্ত হয়ে যায়, অতিরিক্ত জল ধরে রাখে কিংবা দুর্গন্ধ বের হয়, তাহলে শিকড় পরীক্ষা করা দরকার।প্রয়োজনে নতুন, ভালো নিষ্কাশনযুক্ত মাটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে ভার্মিকম্পোস্ট বা ভালোভাবে পচানো জৈব সার মেশানো যায়। তবে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করলেও শিকড়ের ক্ষতি হতে পারে।

কলার খোসা ফেলে দেবেন না

রান্নাঘরে কলা খাওয়ার পর যে খোসা ফেলে দেন, সেটি গাছের পরিচর্যায় ব্যবহার করা যায়। তবে সরাসরি টবের মাটিতে কলার খোসা পুঁতে দেওয়ার বদলে আগে কম্পোস্টে ব্যবহার করা বেশি উপযোগী।কলার খোসা ছোট ছোট টুকরো করে কম্পোস্টের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন। ভালোভাবে পচে যাওয়ার পর সেই জৈব উপাদান মাটিতে ব্যবহার করা যায়।অনেকে কলার খোসা জলে ভিজিয়ে সেই জল গাছে ব্যবহার করেন। তবে এটি কোনও রোগের চিকিৎসা নয় এবং অতিরিক্ত বা ঘন ঘন ব্যবহারও করা উচিত নয়। গাছের আসল সমস্যা যদি শিকড় পচা, ছত্রাক বা পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়, তাহলে শুধু কলার খোসা দিয়ে তা ঠিক হবে না।

ছত্রাক দেখা দিলে সাবধান

মাটির উপর সাদা ছত্রাকের মতো আস্তরণ কিংবা কাণ্ডের গোড়ায় পচন দেখা গেলে প্রথমেই অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানো দরকার। গাছটিকে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন।মাটির উপরের অংশ শুকোতে শুরু না করা পর্যন্ত জল না দেওয়াই ভালো। হালকা সমস্যায় অনেকে সামান্য দারুচিনির গুঁড়ো ব্যবহার করেন, তবে গুরুতর ছত্রাক সংক্রমণের ক্ষেত্রে শুধু এই ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আলো-বাতাসের দিকেও নজর দিন

প্রতিটি গাছের সূর্যালোকের প্রয়োজন এক নয়। তাই গাছের প্রজাতি অনুযায়ী উপযুক্ত জায়গা বেছে নিতে হবে। দুর্বল গাছকে হঠাৎ দুপুরের তীব্র রোদে না রেখে তার প্রয়োজন অনুযায়ী আলো দেওয়া ভালো।একইসঙ্গে অনেকগুলি টব একেবারে গায়ে গায়ে রাখলে বাতাস চলাচল কমে যেতে পারে। টবগুলির মধ্যে কিছুটা দূরত্ব রাখুন এবং নিয়মিত শুকনো পাতা সরিয়ে ফেলুন।

আসল কথা, কারণটা আগে বুঝুন

উদ্যান বিশেষজ্ঞ চন্দ্রশেখর মিশ্রের মতে, গাছ নেতিয়ে পড়লে শুধু জল বা সার দেওয়ার বদলে প্রথমে সমস্যার উৎস খুঁজে বের করা দরকার। জলের অভাব যেমন গাছ শুকিয়ে দিতে পারে, তেমনই অতিরিক্ত জল শিকড়ের ক্ষতি করতে পারে।তাই কাণ্ড, শিকড়, মাটি, পাতা এবং পোকামাকড়ের উপস্থিতি খতিয়ে দেখে তারপর পরিচর্যার পদ্ধতি ঠিক করা উচিত। সঠিক পরিস্থিতিতে দুর্বল গাছেও নতুন পাতা বা ডাল বের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গাছ শুকিয়ে গেলেই সেটিকে মৃত ভেবে ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কাণ্ডের ভিতরে সবুজ অংশ বা শিকড় সুস্থ থাকলে সঠিক পরিচর্যায় অনেক গাছ ফের বেড়ে উঠতে পারে। জলের পরিমাণ ঠিক রাখা, মরা অংশ ছেঁটে ফেলা, মাটি ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা পরীক্ষা করার পাশাপাশি কলার খোসা কম্পোস্ট হিসেবে ব্যবহার করাও গাছের পরিচর্যায় কাজে লাগতে পারে।

Leave a comment