কলকাতা: রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে তদন্তের নতুন মোড়। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আর্থিক দুর্নীতির ফরেনসিক অডিট এবার করবে SFIO। সেই কাজের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক বলে জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ
বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, যেহেতু SFIO আগেই আদালতকে জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি পেলেই তারা তদন্তে কোনও বাধা দেখছে না, তাই কেন্দ্রকে সেই অনুমতি দিতেই হবে। এই মর্মে বুধবার লিখিত নির্দেশ জারি করেছে আদালত।
![]()
SFIO কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস সরাসরি কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের অধীন। বড় আর্থিক দুর্নীতি ও কর্পোরেট জালিয়াতির তদন্তে এই সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোজভ্যালির মতো বহুচর্চিত চিটফান্ড কাণ্ডে SFIO তদন্ত শুরু হলে মামলায় গতি আসবে বলেই মনে করছে আইনমহল।
দিলীপ শেঠ কমিটি ঘিরে বিতর্ক
উল্লেখ্য, প্রতারিত আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে একসময় হাইকোর্ট গঠন করেছিল ‘বিচারপতি দিলীপ শেঠ কমিটি’। তবে পরবর্তীতে সেই কমিটির বিরুদ্ধেই ওঠে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ, যা মামলাকে আরও জটিল করে তোলে।
![]()
সেবির ভূমিকা ও তদন্তের স্থবিরতা
এরপর রোজভ্যালির ১০টি সম্পত্তি বিক্রি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে সেবিকে ফরেনসিক অডিটের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বাজারদরের তুলনায় সম্পত্তি বিক্রির অস্বাভাবিকতা ও ‘চকোলেট গ্রুপ অব হোটেলস’-এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের হিসাবও চাওয়া হয়। কিন্তু একসময় সেবি তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ায়।
চকোলেট গোষ্ঠীর লেনদেনও তদন্তের আওতায়
রোজভ্যালির পরবর্তী রূপ ‘চকোলেট গ্রুপ অব হোটেলস’-এর মাধ্যমে কীভাবে এডিসি কমিটিকে অর্থ দেওয়া হয়েছে, সেই আর্থিক রুটও এবার SFIO খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়েছে আদালতে।
রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডের আর্থিক অনিয়ম তদন্তের দায়িত্ব এবার সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (SFIO)-এর হাতে। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, এই তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি দিতে হবে মিনিস্ট্রি অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্সকে।





