রাত পোহালেই বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা। পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাজ্যবাসী। কিন্তু উৎসবের আগের দিনই বড় ধাক্কা—বাজারে অগ্নিমূল্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের। ফুলকপি থেকে বেগুন, শাক-আলু থেকে নারকেল—সবকিছুর দামই হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্তের।

নারকেল-কুলেই আগুন, পুজোর থালায় চাপ
সরস্বতী পুজোর অন্যতম উপাচার নারকেল ও কুল। কিন্তু এবছর এই দু’টির দামেই বড়সড় বৃদ্ধি। বাজার সূত্রে খবর, ভালো মানের নারকেল প্রতি পিস ৫০–৬০ টাকা ছুঁয়েছে। কুলের দাম কেজি প্রতি ১৪০–১৮০ টাকার ঘরে পৌঁছেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে রীতিমতো চাপের।
শাক-সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি
পুজোর দিন ভোগ রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় শাক-সবজির দামও স্বস্তি দিচ্ছে না। আলু কেজি প্রতি ৩৫–৪০ টাকা, ফুলকপি ৬০–৭০ টাকা, বেগুন ৫০–৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পালং শাক, ধনেপাতা, কাঁচালঙ্কার দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ফলের বাজারেও ছাড় নেই
শুধু সবজি নয়, পুজোর প্রসাদের জন্য প্রয়োজনীয় ফলের দামেও আগুন। আপেল, কমলা, কলা—সবকিছুর দামই আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদা বাড়লেই দামও স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি কী
বাজারের ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, শীতের শেষে জোগান কিছুটা কমেছে। তার উপর উৎসবের চাহিদা একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধিও দামের উপর প্রভাব ফেলেছে বলে তাঁদের দাবি।
মধ্যবিত্তের ক্ষোভ ও উদ্বেগ
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবার উৎসব এলেই বাজার অগ্নিমূল্য হয়ে ওঠে। সীমিত আয়ের মধ্যেই পুজোর আয়োজন করতে গিয়ে বাড়তি খরচের বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সরস্বতী পুজোর ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। নারকেল, কুল, শাক-সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সামগ্রীর দামই ঊর্ধ্বমুখী। উৎসবের আনন্দের মাঝেই বাড়তি খরচের চাপ পড়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির উপর।







