শিয়ালদহ স্টেশনের খোলনলচে বদলে যাবে! সিনেমা, শপিং থেকে খাবার—এক ছাদের নীচে কী কী থাকবে?

শিয়ালদহ স্টেশনে তৈরি হতে চলেছে বিশেষ Recreation Zone। তিন তলা ও টেরেসজুড়ে থাকবে শপিং, ফুড কোর্ট, মাল্টিপ্লেক্স, গেম জোন, স্লিপিং পড-সহ নানা সুবিধা।

প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর ব্যস্ততায় সরগরম থাকে শিয়ালদহ স্টেশন। এবার সেই স্টেশনেই আসতে চলেছে বড়সড় পরিবর্তন। যাত্রী পরিষেবাকে আরও আধুনিক করার পাশাপাশি শপিং, খাওয়াদাওয়া এবং বিনোদনের সুযোগও তৈরি করতে বিশেষ ‘Recreation Zone’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব রেল। ফলে ভবিষ্যতে ট্রেনের অপেক্ষার সময় স্টেশনেই সিনেমা দেখা থেকে কেনাকাটা—সবই করা যাবে।

শিয়ালদহে তৈরি হবে বিশেষ ‘Recreation Zone’

পূর্ব রেলের তরফে এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই চুক্তি প্রদান করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টেশন চত্বরে এমন একটি জায়গা তৈরি করা হবে যেখানে যাত্রীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থাও থাকবে।প্রস্তাবিত জোনে মোট তিনটি তলা এবং একটি টেরেস থাকবে। তবে শিয়ালদহ স্টেশনের যে গ্রাউন্ড ফ্লোর ইতিমধ্যেই রেলের উদ্যোগে উন্নত করা হয়েছে, সেটি এই লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলাকার আওতায় থাকছে না।

সিনেমা হল থেকে শপিং—কী কী থাকবে?

নতুন এই রেক্রিয়েশন জোনে একাধিক ধরনের পরিষেবা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে—

গ্রসারি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান

পোশাক ও অ্যাক্সেসরিজের আউটলেট

ইলেকট্রনিক্সের দোকান

ফুড কোর্ট

ক্যাফেটেরিয়া

মাল্টিপ্লেক্স ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা

গেম জোন

যাত্রীদের জন্য স্লিপিং পড

বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের আউটলেট

অর্থাৎ, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে যাত্রীরা চাইলে কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া কিংবা বিনোদনের সুযোগও নিতে পারবেন।

১০ বছরের চুক্তি, খরচ কত?

এই প্রকল্পের জন্য ১০ বছরের চুক্তিমূল্য প্রায় ৩৯ কোটি ৮১ লক্ষ ২০ হাজার ২৯১ টাকা, যার মধ্যে GST-ও রয়েছে। বার্ষিক চুক্তিমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫১ লক্ষ ১১ হাজার ১১১ টাকা GST বাদে।নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ বা পরিষেবা শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে।

রেলের আয়ও বাড়বে, তৈরি হবে কর্মসংস্থান

শিয়ালদহের এই আধুনিকীকরণ শুধু যাত্রীদের সুবিধা বাড়াবে না, রেলের আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রেলের তরফে এই ধরনের প্রকল্প থেকে দীর্ঘমেয়াদি ‘নন-ফেয়ার রেভিনিউ’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।পাশাপাশি দোকানপাট, খাবারের ব্যবসা, হাউসকিপিং এবং নিরাপত্তা পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কী বলছে রেল?

শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনার মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্টেশনের সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য আরও উন্নত শপিং, খাবার, বিনোদন এবং থাকার সুবিধা তৈরি হবে।অর্থাৎ, যাত্রী পরিষেবা ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকে একই পরিকাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

শুধু স্টেশন নয়, তৈরি হবে নতুন কমার্শিয়াল হাব

শিয়ালদহের মতো ব্যস্ত স্টেশনে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্টেশনটিকে শুধু ট্রেন ধরার জায়গা হিসেবে না রেখে আধুনিক ‘কমার্শিয়াল ও প্যাসেঞ্জার হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের জন্য শিয়ালদহ স্টেশনের অভিজ্ঞতাই অনেকটাই বদলে যেতে পারে।

শুধু ট্রেন ধরার জায়গা নয়, এবার আরও আধুনিক রূপ পেতে চলেছে কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন। পূর্ব রেলের পরিকল্পনায় সেখানে তৈরি হবে বিশেষ ‘Recreation Zone’। তিন তলা ও একটি টেরেসজুড়ে থাকবে শপিং, ফুড কোর্ট, ক্যাফেটেরিয়া, মাল্টিপ্লেক্স, গেম জোন, স্লিপিং পড-সহ নানা পরিষেবা।

Leave a comment