আইটি খাতের চাপে সেনসেক্স 181 পয়েন্ট ও নিফটি 24,055 স্তরে নিম্নমুখী

মঙ্গলবার বৈশ্বিক বাজারের মিশ্র সংকেত এবং আইটি খাতে বিক্রির চাপে ভারতীয় শেয়ারবাজার দুর্বল অবস্থায় লেনদেন করে। সেনসেক্স প্রায় 181 পয়েন্ট এবং নিফটি প্রায় 48 পয়েন্ট কমে যায়, যদিও অবকাঠামো, ব্যাংকিং ও ফার্মা খাতের কিছু শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ দেখা গেছে।

মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে আবারও দুর্বলতা দেখা গেছে। লেনদেনের শুরু থেকেই বাজারে চাপ বজায় থাকায় সেনসেক্স ও নিফটি উভয়ই নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন করতে দেখা যায়।

ভারতীয় শেয়ারবাজার মঙ্গলবার দুর্বল সূচনা করে, যেখানে প্রধান সূচক সেনসেক্স ও নিফটির ওপর চাপ লক্ষ্য করা যায়। বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রাপ্ত মিশ্র সংকেত এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে বিক্রির চাপের কারণে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব সতর্ক ছিল। লেনদেনের প্রাথমিক পর্যায়ে বিএসই সেনসেক্স প্রায় 180 পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যায়, আর নিফটি 24,100-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নিচে লেনদেন করতে দেখা যায়।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক কৌশল এবং প্রযুক্তি শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে ভারতীয় ইকুইটি বাজার চাপে ছিল। তবে ব্যাংকিং, ফার্মা ও অবকাঠামো খাতের কিছু নির্বাচিত শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ বড় ধরনের পতন সীমিত রাখতে সহায়তা করেছে।

সেনসেক্স ও নিফটি নিম্নমুখী অবস্থায়

লেনদেন চলাকালীন বিএসই সেনসেক্স প্রায় 181 পয়েন্ট কমে 76,900-এর কাছাকাছি পৌঁছায়। একই সময়ে এনএসই নিফটি প্রায় 48 পয়েন্ট দুর্বল হয়ে 24,055 স্তরে লেনদেন করতে দেখা যায়। বাজারের সামগ্রিক চিত্র ছিল মিশ্র। একাধিক শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ দেখা গেলেও প্রধান আইটি কোম্পানিগুলোর দুর্বলতা সূচকগুলোর ওপর চাপ বজায় রাখে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকেত, সুদের হারের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা এবং কর্পোরেট আয়ের আসন্ন পরিসংখ্যানের দিকে নজর রাখছেন। ফলে বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাজারে সতর্কতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আইটি খাতের চাপে সেনসেক্স 181 পয়েন্ট ও নিফটি 24,055 স্তরে নিম্নমুখী

আইটি খাত পতনের প্রধান কারণ

মঙ্গলবারের লেনদেনে আইটি খাত সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্সকারী খাতগুলোর মধ্যে ছিল। দেশের প্রধান আইটি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে পতন নথিভুক্ত হওয়ায় পুরো খাতে চাপ বৃদ্ধি পায়। আইটি শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক চাহিদা, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং বিদেশি গ্রাহকদের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। এর প্রভাব ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও দেখা গেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যয়ে সম্ভাব্য হ্রাস এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে আইটি খাতে স্বল্পমেয়াদি চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী বৈশ্বিক উপস্থিতি তাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

নির্বাচিত শেয়ারে ঊর্ধ্বগতি

দুর্বল বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু শেয়ার ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অবকাঠামো, ব্যাংকিং এবং ফার্মা খাতের কিছু প্রধান শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ দেখা যায়। অডানি পোর্টস, আইসিআইসিআই ব্যাংক, পাওয়ার গ্রিড এবং এনটিপিসি শেয়ার ঊর্ধ্বগতি নথিভুক্ত করে। পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যাল খাতেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত থাকায় কিছু ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির শেয়ার সমর্থন পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে ফার্মা, ইউটিলিটি এবং জ্বালানি খাতের মতো প্রতিরক্ষামূলক খাতের প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন, কারণ বাজারের অস্থিরতার সময় এসব খাতকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ব্যাংকিং ও এফএমসিজি শেয়ারেও চাপ

আইটি খাতের পাশাপাশি ব্যাংকিং এবং ভোক্তা পণ্য (FMCG) খাতের কিছু শেয়ারেও দুর্বলতা দেখা যায়। বেসরকারি খাতের প্রধান ব্যাংকগুলোর শেয়ারে সীমিত পতন লক্ষ্য করা যায়, আর ভোক্তা পণ্য কোম্পানিগুলোও বিক্রির চাপে ছিল। তবে ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিকভাবে বড় ধরনের দুর্বলতা দেখা যায়নি, যদিও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে ক্রয় আগ্রহ সীমিত ছিল। একইভাবে এফএমসিজি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও বিনিয়োগকারীরা নতুন দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় ছিলেন।

 

Leave a comment