Shabana Azmi Husband: পকেটে মাত্র ২৭ পয়সা, ফুটপাথে রাত, টানা ৩ দিন না খেয়ে! শাবানার চোখে কেমন ছিলেন জাভেদ আখতার?

পকেটে মাত্র ২৭ পয়সা নিয়ে বোম্বেতে এসেছিলেন জাভেদ আখতার। ফুটপাথে ঘুম, টানা ৩ দিন না খেয়ে থাকা—স্বামীর ৮১তম জন্মদিনে সেই সংগ্রামের গল্প শেয়ার করলেন শাবানা আজমি।

আজ তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার। কিন্তু সাফল্যের শিখরে পৌঁছনোর আগে জাভেদ আখতারের জীবন ছিল কঠিন সংগ্রামে ভরা। পকেটে মাত্র ২৭ নয়া পয়সা, থাকার নির্দিষ্ট জায়গা নেই, কখনও ফুটপাথে, কখনও রেলস্টেশনে রাত কাটানো—এমনকী টানা তিন দিন খাবারও জোটেনি। তবুও হার মানেননি তিনি। স্বামী জাভেদ আখতারের ৮১তম জন্মদিনে তাঁর সেই লড়াইয়ের দিনগুলিই স্মরণ করলেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি। তাঁর কথায় উঠে এল এমন এক মানুষের ছবি, যিনি পরিস্থিতির কাছে মাথা নত করতে শেখেননি।

মাত্র ২৭ পয়সা নিয়ে বোম্বেতে এসেছিলেন জাভেদ

শাবানা আজমি একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে জাভেদের জীবনের শুরুর দিনের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, ১৯৬৪ সালের ৪ অক্টোবর মাত্র ১৯ বছর বয়সে বোম্বে সেন্ট্রাল স্টেশনে পৌঁছেছিলেন জাভেদ।তখন তাঁর পকেটে ছিল মাত্র ২৭ নয়া পয়সা। হাতে ছিল না সাফল্যের কোনও নিশ্চয়তা, ছিল শুধু বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর দীর্ঘ পথচলা।

ফুটপাথে ঘুম, টানা তিন দিন না খেয়ে দিন কাটিয়েছেন

সাফল্যের আগে জাভেদ আখতারের জীবন যে কতটা কঠিন ছিল, শাবানার লেখায় তারই ছবি উঠে এসেছে। থাকার জায়গা না থাকায় কখনও ফুটপাথে, কখনও রেলস্টেশনে আবার কখনও খোলা স্টুডিওতে রাত কাটাতে হয়েছে তাঁকে।শাবানার দাবি অনুযায়ী, এমন সময়ও এসেছিল যখন জাভেদকে টানা তিন দিন না খেয়ে থাকতে হয়েছিল। তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় পোশাকটুকু ছাড়া আর প্রায় কিছুই ছিল না।কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন ছাড়েননি জাভেদ।

‘আমি এভাবে মরার জন্য জন্মাইনি’—ছিল এমনই জেদ

শাবানার পোস্টে জাভেদের মানসিকতার একটি কথাও উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল—তিনি এভাবে হাল ছেড়ে দেওয়ার জন্য জন্মাননি, পরিস্থিতি একদিন বদলাবেই।এই জেদই হয়তো তাঁকে কঠিন সময় পেরিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল। একদিন যে তরুণের হাতে ছিল মাত্র কয়েক পয়সা, পরবর্তী সময়ে তিনিই ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার হয়ে ওঠেন।

‘শুধু স্বপ্ন দিয়ে শুরু হয় কিছু যাত্রা’

স্বামীর জীবনের সেই শুরুর দিনের সঙ্গে পরবর্তী সাফল্যের তুলনা টেনে শাবানা লিখেছেন, অনেক বড় যাত্রাই শুরু হয় প্রায় কিছুই না থাকা অবস্থায়—শুধু একটি স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে।জাভেদের জীবনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তাঁর বার্তা, স্বপ্ন থাকলে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।এই জন্মদিনের পোস্ট তাই নিছক শুভেচ্ছা নয়, বরং স্বামীর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং সাফল্যের পথচলার প্রতি এক আবেগঘন শ্রদ্ধা।

জাভেদ আখতারের প্রথম স্ত্রী কে ছিলেন?

শাবানা আজমি জাভেদ আখতারের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর আগে জাভেদের বিয়ে হয়েছিল চিত্রনাট্যকার হানি ইরানির সঙ্গে। ১৯৭২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই সন্তান—পরিচালক জোয়া আখতার এবং অভিনেতা-পরিচালক ফারহান আখতার।১৯৭৮ সালে জাভেদ ও হানি আলাদা হয়ে যান। পরে ১৯৮৫ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। তার আগেই, ১৯৮৪ সালে জাভেদ আখতার শাবানা আজমিকে বিয়ে করেন।

বিবাহিত থাকাকালীনই শাবানার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি

জাভেদ ও শাবানার সম্পর্ক নিয়ে সেই সময় যথেষ্ট আলোচনা হয়েছিল। কারণ তাঁদের সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল জাভেদের প্রথম বিয়ের সময়েই।পরবর্তীতে শাবানা ও জাভেদ বিয়ে করেন এবং চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গে রয়েছেন। সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দুজনেই নানা সময়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

হানিকে পরিবারের অংশ হিসেবেই দেখেন শাবানা

জাভেদের প্রথম স্ত্রী হানি ইরানির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়েও শাবানা ইতিবাচকভাবে কথা বলেছেন। ফারহান ও জোয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়ার জন্য হানিকে কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি।শাবানার বক্তব্য অনুযায়ী, হানি তাঁর কাছে শুধু জাভেদের প্রাক্তন স্ত্রী নন, বরং পরিবারেরই একজন সদস্য।এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কের অন্য একটি দিক সামনে আনে।

ঝগড়া হয়, তবুও বন্ধুত্বই সম্পর্কের শক্তি

জাভেদের সঙ্গে নিজের দাম্পত্য সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাবানা একবার জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়াও হয়। তবে তার পাশাপাশি রয়েছে গভীর বন্ধুত্ব, একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিন্ন কিছু আদর্শ।তাঁর মতে, এই বিষয়গুলিই তাঁদের সম্পর্ককে এত বছর ধরে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

১৯ বছর বয়সে মাত্র ২৭ নয়া পয়সা পকেটে নিয়ে বোম্বে সেন্ট্রাল স্টেশনে পা রেখেছিলেন জাভেদ আখতার। তারপর কেটেছে ফুটপাথ, রেলস্টেশন ও স্টুডিওতে রাত, এমনকী টানা তিন দিন না খেয়েও থাকতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু স্বপ্ন থেকে সরে যাননি। স্বামীর ৮১তম জন্মদিনে তাঁর সেই কঠিন দিনগুলির কথা স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট লিখলেন শাবানা আজমি।

Leave a comment