পর্দায় রাজকীয় পরিবেশ দেখলেই অনেকের চোখে পড়ে বিশাল অট্টালিকা, লম্বা করিডর, প্রশস্ত লন আর চোখধাঁধানো সিঁড়ি। কিন্তু জানেন কি, বলিউডের এমনই বহু দৃশ্যের নেপথ্যে রয়েছে পতৌদি প্যালেস? শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে এই প্রাসাদের পারিবারিক যোগ যেমন রয়েছে, তেমনই একাধিক হিট ছবির শুটিং লোকেশন হিসেবেও এটি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।
শর্মিলা ঠাকুরের পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে ঐতিহাসিক প্রাসাদ
পতৌদি প্যালেস হরিয়ানার পতৌদিতে অবস্থিত। শর্মিলা ঠাকুরের প্রয়াত স্বামী মনসুর আলি খান পতৌদির পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে এই প্রাসাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় ১০ একর জমির উপর তৈরি এই বিশাল সম্পত্তির অন্দরসজ্জা ও স্থাপত্য দর্শকদের বরাবরই আকর্ষণ করে।বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রাসাদটির মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সম্পত্তির মূল্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হিসাব প্রকাশিত হয়েছে।
‘বীর-জারা’-য় পাকিস্তানের বাড়ি হয়ে উঠেছিল পতৌদি প্যালেস
২০০৪ সালের শাহরুখ খান ও প্রীতি জিনতা অভিনীত জনপ্রিয় ছবি ‘বীর-জারা’-য় পতৌদি প্যালেসকে পাকিস্তানে জারা হায়াত খানের পৈতৃক বাড়ি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ছবির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন দৃশ্যের জন্য এই রাজকীয় লোকেশন ব্যবহার করা হয়।
আমির খানের ‘মঙ্গল পাণ্ডে’-তেও দেখা গিয়েছিল
২০০৫ সালের ‘মঙ্গল পাণ্ডে: দ্য রাইজিং’ ছবিতেও এই প্রাসাদের ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে কাজে লাগানো হয়েছিল। উনিশ শতকের সময়কালকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে প্রাসাদের পরিবেশ যথেষ্ট উপযোগী ছিল।
‘রং দে বাসন্তী’-তেও ছিল প্রাসাদের ঝলক
আমির খানের ২০০৬ সালের ব্লকবাস্টার ‘রং দে বাসন্তী’ ছবিতেও পতৌদি প্যালেসের উপস্থিতির কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ছবির কিছু দৃশ্যের শুটিং এই রাজকীয় লোকেশনে হয়েছিল বলে জানা যায়।
‘গান্ধি, মাই ফাদার’-এর শুটিংও হয়েছিল এখানে
২০০৭ সালের ‘গান্ধি, মাই ফাদার’ ছবির কিছু অংশের শুটিংয়ের জন্যও পতৌদি প্যালেস ব্যবহার করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক আবহ তৈরি করতে প্রাসাদের স্থাপত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ক্যাটরিনা কাইফের নাকে লেগেছিল প্রপ বন্দুক!
২০১১ সালের রোমান্টিক কমেডি ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’-এর শুটিংও হয়েছিল পতৌদি প্যালেসে। ছবির একটি মজার দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন ক্যাটরিনা কাইফের নাকে প্রপ বন্দুকের আঘাত লাগার ঘটনাও আলোচনায় এসেছিল।
সাইফ আলি খানের ‘তাণ্ডব’-এ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে প্রাসাদ
২০২১ সালের ওয়েব সিরিজ ‘তাণ্ডব’-এ পতৌদি প্যালেসকে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বাসভবন হিসেবে দেখানো হয়। মজার বিষয়, এই সিরিজের অন্যতম মুখ ছিলেন সাইফ আলি খান—যাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গেই প্রাসাদটি যুক্ত।
‘অ্যানিমাল’-এও চোখে পড়েছে রাজকীয় অন্দরমহল
২০২৩ সালের রণবীর কাপুর অভিনীত ‘অ্যানিমাল’ ছবিতেও পতৌদি প্যালেসকে সিং পরিবারের বিলাসবহুল বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ছবিতে প্রাসাদের করিডর, বিশাল লন এবং সিঁড়ির দৃশ্য দর্শকদের নজর কেড়েছিল।
সাধারণ মানুষ কি প্রাসাদটি দেখতে পারেন?
পতৌদি প্যালেস শুধুমাত্র পারিবারিক ব্যবহারের জায়গা নয়, বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্যিক শুটিংয়ের জন্যও এর দরজা খোলা হয়েছে। সাইফ আলি খানও জানিয়েছেন, বছরের একটা বড় সময় প্রাসাদটি অব্যবহৃত থাকে। তাই নির্দিষ্ট অনুমতি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেখানে শুটিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।তবে সাধারণ পর্যটক হিসেবে সরাসরি গিয়ে প্রাসাদের ভিতরে ঢোকার সুযোগ সবসময় থাকে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দর্শনের নিয়ম, বুকিং বা প্রবেশাধিকার সময় ও কর্তৃপক্ষের নীতির উপর নির্ভর করতে পারে।
বলিউডের একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে যে রাজকীয় প্রাসাদকে কখনও পাকিস্তানের জমিদারবাড়ি, কখনও বিলাসবহুল অট্টালিকা আবার কখনও রাজনৈতিক পরিবারের বাসভবন হিসেবে দেখা গিয়েছে, সেটিই পতৌদি প্যালেস। শর্মিলা ঠাকুর ও প্রয়াত মনসুর আলি খান পতৌদির সঙ্গে যুক্ত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদ আজও দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্র।








