দার্জিলিং: পুজোর ছুটিতে সিকিম যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? তাহলে রওনা হওয়ার আগে রাস্তার পরিস্থিতি অবশ্যই জেনে নিন। পুজোর মরশুমে NH-10 এবং NH-717A-তে একাধিক ট্রাফিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। কোথাও রাতভর রাস্তা বন্ধ থাকবে, আবার কোথাও দিনের নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হবে। রাস্তা সংস্কার ও পাহাড় কাটার কাজের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে পর্যটকদের জন্য আগাম রুট পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাত ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে NH-10
বাংলা থেকে সিকিম যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা NH-10। এই রাস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সংস্কারকাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাতে যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
NHIDCL-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৯ মাইল থেকে রবিঝোড়া পর্যন্ত অংশে নির্ধারিত দিনগুলিতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
এই বিধিনিষেধের সময়সীমা হল—
৫ অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২৩ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর ২০২৬
১৩ নভেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৬
২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
২ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারি ২০২৭
অর্থাৎ, পুজোর সময় থেকেই সিকিমমুখী পর্যটকদের রাতের যাত্রায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।
NH-717A-তেও দিনের একাধিক সময়ে রাস্তা বন্ধ
শুধু NH-10 নয়, রানিপুল–পাকিয়ং রোড অর্থাৎ NH-717A-তেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পাকিয়ং জেলার ম্যাকলিওড, লোয়ার আহো এলাকার গিলটি দারা সংলগ্ন অংশে পাহাড় কাটার কাজ চলবে।
৫ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত NH-717A-এর ৩+৫৩০ থেকে ৩+৬৩০ কিলোমিটার অংশে এই কাজ হওয়ার কথা রয়েছে।
এই কারণে প্রতিদিন তিনটি নির্দিষ্ট সময়ে যান চলাচল বন্ধ থাকবে—
সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টো
বিকেল ৩টে থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট
সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা
এই সময়গুলির বাইরে নির্ধারিত সময়ে যান চলাচল করতে পারবে। তবে জরুরি পরিষেবার গাড়ির ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা জানানো হয়েছে।
কোন বিকল্প পথে যাওয়া যাবে?
NH-717A-এর সংশ্লিষ্ট অংশ বন্ধ থাকার সময়ে গাড়ির ধরন অনুযায়ী বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারী যানবাহনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে—
অসম লিংজে ফটক → অসম লিংজে → শান্তি টার্নিং → পাকিয়ং বাজার
অন্যদিকে হালকা ও মাঝারি যানবাহনের জন্য বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে—
আহো ফটক → আপার আহো → আন্ধেরি ফটক
অথবা
চাঙ্গে → শান্তি টার্নিং
তাই পর্যটক কিংবা পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের রওনা হওয়ার আগে নিজেদের গাড়ির ধরন অনুযায়ী বিকল্প রাস্তা ঠিক করে নেওয়া ভালো।
পাহাড়ে ধসের ঘটনাতেও বাড়ছে উদ্বেগ
রাস্তার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতিও পর্যটকদের বাড়তি সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি দার্জিলিংয়ের রিমবিক এলাকায় ধস নামার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।জাওলে, টুবুম ও লেপচা বস্তি এলাকায় ধসের জেরে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে চারটি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়াহয়েছে বলেও খবর।ধসকবলিত এলাকায় একটি স্কুলও রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ এই পরিস্থিতির জন্য এলাকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে দায়ী করার অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুজোয় সিকিম গেলে কী মাথায় রাখবেন?
পুজোর ছুটিতে সিকিম যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রওনা হওয়ার সময়। NH-10-এর নির্দিষ্ট অংশে রাত ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকায় রাতে ওই পথে পৌঁছে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন।একইভাবে NH-717A-তে দিনের নির্দিষ্ট সময়েও রাস্তা বন্ধ থাকছে। তাই হোটেল থেকে বেরোনোর সময় বা পাহাড়ের দিকে ওঠার আগে দিনের ট্রাফিক উইন্ডো মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।পাহাড়ি রাস্তায় আবহাওয়া ও ধসের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাই নির্ধারিত রুটের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ ট্রাফিক আপডেট দেখেযাত্রা করাই নিরাপদ।
পুজোর মরশুমে সিকিম ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক নির্দেশিকা জারি হয়েছে। NH-10-এর ২৯ মাইল থেকে রবিঝোড়া পর্যন্ত অংশে নির্দিষ্ট সময়ে রাতে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি পাহাড় কাটার কাজের জন্য NH-717A-এর পাকিয়ং অংশেও দিনের বিভিন্ন সময়ে রাস্তা বন্ধ রাখা হবে। ফলে সিকিম যাওয়ার আগে নির্ধারিত সময় ও বিকল্প রুট জেনে নেওয়া জরুরি।








