পুজোর আগে শিলিগুড়িতে কড়া নজরদারি! হোটেল-রেস্তোরাঁয় শুধু অগ্নিনিরাপত্তা নয়, এবার খতিয়ে দেখা হবে বিল্ডিং প্ল্যানও

পুজোর আগে শিলিগুড়ির হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মলে কড়া নজরদারি। পুরসভা, দমকল, বিদ্যুৎ দফতর ও PWD-এর যৌথ কমিটি অগ্নিনিরাপত্তা, বিল্ডিং প্ল্যান ও অনুমোদন পরীক্ষা করবে।

পুজোর মরশুমে শিলিগুড়িতে বাড়তে চলেছে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের ভিড়। তার আগেই শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের। এবার শুধু অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সেটুকু দেখেই থেমে থাকা হবে না। ভবনটি অনুমোদিত নকশা মেনে তৈরি হয়েছে কি না, প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না এবং নথিপত্র ঠিকঠাক আছে কি না—সবই খতিয়ে দেখা হবে।

কেন হঠাৎ এত কড়া নজরদারি?

সম্প্রতি তারাপীঠ ও কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। এরপরই উৎসবের মরশুমে বড় জমায়েতের কথা মাথায় রেখে শিলিগুড়ির বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পুজোর সময়ে উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলিগুড়িতে পর্যটক এবং সাধারণ মানুষের আনাগোনা অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে হোটেল বা অন্য কোনও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার সামান্য ত্রুটিও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

পর্যটন মন্ত্রীর হোটেল পরিদর্শন

বৃহস্পতিবার শহরের একাধিক হোটেল পরিদর্শন করেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ভবনের অনুমোদিত নকশা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।পরিদর্শনের পর মন্ত্রীর বক্তব্য, পুজোর সময়ে শিলিগুড়িতে মানুষের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

তৈরি হবে যৌথ পরিদর্শন কমিটি

প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিলিগুড়ি পুরসভা, দমকল, বিদ্যুৎ দফতর এবং PWD-কে নিয়ে একটি যৌথ পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হবে।এই কমিটি ধাপে ধাপে শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করবে। কোথায় অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা পর্যাপ্ত, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কোন ভবনে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই—সেগুলির বিস্তারিত চিত্র তৈরি করাই হবে এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

শুধু ফায়ার সেফটি নয়, নজরে বিল্ডিং প্ল্যানও

এবারের পরিদর্শনে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বা অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না, তার পাশাপাশি ভবন সংক্রান্ত নথিও পরীক্ষা করা হবে।

যে বিষয়গুলিতে নজর থাকবে—

অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক রয়েছে কি না

ভবন অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হয়েছে কি না

প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বৈধ ও সঠিক কি না

ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না

নিয়ম ভাঙলে বন্ধ হতে পারে প্রতিষ্ঠান

প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা, নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতেই হবে। পরিদর্শনে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পর্যটন মন্ত্রী। ফলে পুজোর আগে শিলিগুড়ির হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির মালিকদের জন্য এই নজরদারি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

তারাপীঠ ও কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর পুজোর মরশুমের আগে শিলিগুড়ির হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। পুরসভা, দমকল, বিদ্যুৎ দফতর ও PWD-কে নিয়ে তৈরি হতে চলেছে যৌথ পরিদর্শন কমিটি। অগ্নিনিরাপত্তার পাশাপাশি বিল্ডিং প্ল্যান, অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রও পরীক্ষা করা হবে।

Leave a comment