রুপোলি পর্দায় অভিনয়, তারপর টেলিভিশনে একেবারে নিজস্ব স্টাইলের সঞ্চালনা—সিমি গারেওয়াল ভারতীয় বিনোদন জগতের অন্যতম পরিচিত নাম। তবে তাঁর কর্মজীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনও বহুবার উঠে এসেছে আলোচনায়। ১৭ বছর বয়সে এক মহারাজার প্রেমে পড়া থেকে শুরু করে ক্রিকেট তারকা মনসুর আলি খান পতৌদি এবং শিল্পপতি রতন টাটার সঙ্গে সম্পর্ক—তাঁর জীবনের প্রেমের অধ্যায়গুলি কম চর্চিত নয়।
১৭ বছর বয়সেই মহারাজার প্রেম
সিমি গারেওয়াল নিজেই একাধিক সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রথম দিকের প্রেমের কথা বলেছেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে জামনগরের মহারাজার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে জানান অভিনেত্রী।সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে সিমি জানিয়েছিলেন, তাঁদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। একসঙ্গে সময় কাটাতে তাঁরা অনেক সময় লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যেতেন। তাঁর কথায়, সেই সম্পর্ক ছিল জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
পতৌদির সঙ্গেও প্রেম
এরপর সিমি গারেওয়ালের জীবনে আসে মনসুর আলি খান পতৌদি। শর্মিলা ঠাকুরকে বিয়ে করার আগে পতৌদির সঙ্গে সিমির সম্পর্ক ছিল বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।সিমি একবার জানিয়েছিলেন, পতৌদি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল স্বভাবের। তাঁর শ্যুটিং চলাকালীনও তিনি দেখা করতে চলে আসতেন।তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কও টেকেনি। পরে পতৌদির জীবনে আসেন শর্মিলা ঠাকুর। ১৯৬৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয়।
রতন টাটার সঙ্গেও ছিল সম্পর্ক
সিমি গারেওয়ালের প্রেমের তালিকায় রয়েছে শিল্পপতি রতন টাটার নামও। ২০১১ সালের এক সাক্ষাৎকারে সিমি নিজেই তাঁদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে জানা যায়।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রতন টাটার সঙ্গে তাঁর পরিচয় বহু পুরনো ছিল এবং তাঁদের মধ্যে একসময় সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল। এমনকী তাঁদের সম্পর্ক বিয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বলেও সিমি জানিয়েছিলেন।কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক পরিণতি পায়নি। দু’জনের পথ আলাদা হয়ে যায়।
১৯৭০ সালে বিয়ে, ১০ বছরেই ভাঙে সংসার
একাধিক প্রেমের পর ১৯৭০ সালে সিমি গারেওয়াল দিল্লির ব্যবসায়ী রবি মোহনকে বিয়ে করেন। চুন্নামাল পরিবারের এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।প্রায় এক দশক পর তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর সিমি আর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেননি।
অভিনয় থেকে টেলিভিশনের আইকনিক সঞ্চালক
সিমি গারেওয়ালের পরিচয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন।‘দো বদন’, ‘মেরা নাম জোকার’, ‘সিদ্ধার্থ’, ‘কার্জ’ এবং ‘চলতে চলতে’-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়।পরবর্তীতে তিনি টেলিভিশনে শুরু করেন জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘Rendezvous with Simi Garewal’। তাঁর শান্ত, মার্জিত সাক্ষাৎকার নেওয়ার ধরন এবং সাদা পোশাকের স্বতন্ত্র স্টাইল অনুষ্ঠানটিকে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।
বিচ্ছেদের পর আর বিয়ে করেননি
ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক সম্পর্ক ও একটি ব্যর্থ বিবাহের অভিজ্ঞতার পর সিমি গারেওয়াল আর নতুন করে সংসার করার সিদ্ধান্ত নেননি। নিজের স্বাধীন জীবনযাপনকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।তাঁর জীবনের প্রেম, সম্পর্ক, বিয়ে ও বিচ্ছেদের নানা অধ্যায় আজও অনুরাগী ও দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে।
বলিউডের একসময়ের পরিচিত মুখ, পরে জনপ্রিয় টেলিভিশন সঞ্চালক—তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচিত নয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে জামনগরের মহারাজার সঙ্গে সম্পর্ক থেকে শুরু করে মনসুর আলি খান পতৌদি ও রতন টাটার সঙ্গে প্রেম—জীবনে একাধিক সম্পর্কের সাক্ষী থেকেছেন সিমি গারেওয়াল। বিয়ে করেও সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিচ্ছেদের পর আর বিয়ে না করে নিজের মতো করেই জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।








