অভিনয় জগত থেকে রাজনীতি, সেখান থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা—স্মৃতি ইরানির রাজনৈতিক উত্থান বরাবরই আলোচনায় থেকেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অমেঠিতে পরাজয়ের পর এবার বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রত্যাবর্তন করেছেন তিনি। এই নতুন দায়িত্বের সঙ্গে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও ফের কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
দিল্লির স্কুলে পড়াশোনা
স্মৃতি ইরানি নয়াদিল্লির হোলি চাইল্ড অক্সিলিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করেন। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওপেন লার্নিং-এ ভর্তি হন।তবে তাঁর উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া নির্বাচনী হলফনামায় ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। সেই কারণেই স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।
২০০৪ সালের হলফনামায় কী তথ্য?
২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় স্মৃতি ইরানি জানিয়েছিলেন, তিনি ১৯৯৬ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনের হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে অন্য তথ্য উল্লেখ করা হয়।
২০১১ ও ২০১৪ সালে শিক্ষাগত যোগ্যতা কী ছিল?
২০১১ সালের রাজ্যসভা নির্বাচন এবং ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় স্মৃতি ইরানি তাঁর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওপেন লার্নিং থেকে বি.কম পার্ট-১-এর কথা উল্লেখ করেছিলেন।অর্থাৎ, বিভিন্ন সময়ে দেওয়া নথিতে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তথ্যের পার্থক্য দেখা যায়।
২০১৯ সালের হলফনামায় আরও স্পষ্ট তথ্য
২০১৯ সালের নির্বাচনী হলফনামায় স্মৃতি ইরানি জানিয়েছিলেন, তিনি বি.কম প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় বসেছিলেন, কিন্তু তিন বছরের ডিগ্রি কোর্স সম্পূর্ণ করেননি।তাই পরবর্তী হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্নাতক ডিগ্রি সম্পূর্ণ হয়নি বলেই উল্লেখ করা হয়েছিল।
অভিনেত্রী থেকে রাজনীতির ময়দানে
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে টেলিভিশন অভিনেত্রী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন স্মৃতি ইরানি। পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে দলের সাংগঠনিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেন।একসময় বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়তে থাকে।
রাজ্যসভা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়
২০১১ সালে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে সংসদে প্রবেশ করেন স্মৃতি ইরানি। পরবর্তীতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান তিনি।২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অমেঠি থেকে রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় রাজনীতিতে আরও আলোচনায় আসেন স্মৃতি। ২০১৪ সালে পরাজিত হলেও ২০১৯ সালে একই কেন্দ্র থেকে রাহুল গান্ধিকে হারিয়ে বড় রাজনৈতিক চমক দেন।
২০২৪-এ পরাজয়, ২০২৬-এ সাংগঠনিক প্রত্যাবর্তন
২০১৯ সালের ঐতিহাসিক জয়ের পর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অমেঠিতে কংগ্রেসের কিশোরী লাল শর্মার কাছে পরাজিত হন স্মৃতি ইরানি।এরপর এবার বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন তিনি। দলের জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নতুন জাতীয় টিমে তাঁর নাম রয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে জাতীয় স্তরে বিজেপির সংগঠনে ফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অমেঠিতে পরাজয়ের পর এবার বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর নতুন দায়িত্বের পর ফের আলোচনায় এসেছে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গিয়েছে।











