হিন্দু ধর্মে অমাবস্যা তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আর সেই অমাবস্যা যদি সোমবারে পড়ে, তাহলে তা হয়ে ওঠে আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালের ১৫ জুন জ্যৈষ্ঠ অধিক মাসের সোমবতী অমাবস্যা পালিত হবে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনটি পিতৃপুরুষদের স্মরণ, তর্পণ, দান ও পূজার জন্য অত্যন্ত শুভ। জ্যোতিষীদের মতে, নিষ্ঠাভরে কিছু বিশেষ কাজ করলে জীবনের নানা সংকট কাটিয়ে সুখ-সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হতে পারে।
তিন বছর পর বিরল শুভ সংযোগ
এবারের সোমবতী অমাবস্যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রায় তিন বছর পর এই বিরল যোগ তৈরি হয়েছে। শাস্ত্র অনুযায়ী, সোমবার ও অমাবস্যা তিথির যুগলবন্দি আধ্যাত্মিক শক্তিকে আরও বৃদ্ধি করে। এই সময়ে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা ও দান করলে শুভ ফল লাভের সম্ভাবনা বেড়ে যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
অন্নদানকে ধরা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ দান
হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রে অন্নদানকে সর্বোচ্চ দানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সোমবতী অমাবস্যার দিনে অসহায়, দরিদ্র বা অভাবী মানুষকে খাদ্যদান করলে পুণ্য লাভ হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। বাড়িতে রান্না করা খাবার কিংবা খাদ্যসামগ্রী দান করাও শুভ বলে মনে করা হয়। অনেকের মতে, এই কাজ পিতৃপুরুষদের সন্তুষ্ট করতে সাহায্য করে।
জুতো-চপ্পল দানের বিশেষ মাহাত্ম্য
এই বিশেষ তিথিতে দরিদ্র ব্যক্তি, বৃদ্ধাশ্রম বা অনাথ আশ্রমে জুতো ও চপ্পল দান করাকেও শুভ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এর মাধ্যমে পিতৃকৃপা লাভের পাশাপাশি জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতা কমতে পারে। অনেকেই এই দিনটিকে মানবসেবার সুযোগ হিসেবেও দেখেন।
কালো তিল ও তর্পণের গুরুত্ব
সোমবতী অমাবস্যায় কালো তিলের ব্যবহার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ভোরবেলায় জলে কালো তিল মিশিয়ে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করলে তাঁদের আশীর্বাদ লাভ হয় বলে বিশ্বাস। বহু পরিবারে এই আচার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পালন করা হয়ে আসছে।
দীপদান দূর করতে পারে নেতিবাচকতা
অমাবস্যা তিথিতে দীপদান অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। মন্দিরে, নদীর তীরে অথবা অশ্বত্থ গাছের নীচে প্রদীপ জ্বালানো ধর্মীয়ভাবে ফলপ্রদ বলে বিবেচিত। বিশ্বাস করা হয়, প্রদীপের আলো জীবনের অন্ধকার, হতাশা ও নেতিবাচক শক্তিকে দূরে সরিয়ে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করে।
অশ্বত্থ গাছের নীচে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমবতী অমাবস্যার দিনে অশ্বত্থ বা পিপল গাছের নীচে প্রদীপ প্রজ্বলন অত্যন্ত শুভ। বহু ধর্মীয় গ্রন্থে এই প্রথার উল্লেখ রয়েছে। পিতৃপুরুষদের আশীর্বাদ লাভ এবং মানসিক শান্তি অর্জনের জন্য অনেক ভক্ত এই আচার পালন করে থাকেন।
দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর ১৫ জুন, সোমবার পালিত হতে চলেছে পুণ্যপ্রদ সোমবতী অমাবস্যা। জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতে কিছু দান-পুণ্য ও ধর্মীয় আচার পালন করলে পিতৃপুরুষদের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। পাশাপাশি জীবনের নানা বাধা, অশান্তি ও নেতিবাচক প্রভাবও কমতে পারে বলে মনে করা হয়।













