ভারত ফেরার আবেদন, মমতা–অভিষেককে ধন্যবাদ জানালেন সোনালি বিবি

সোনালি বিবি অভিযোগ করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট ও বাংলাদেশের আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন্দ্র যোগাযোগ করেনি। সন্তান যেন ভারতে জন্মায়—এই আবেদন জানালেন তিনি।

সোনালি বিবি ভারত ফেরা: বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জে অবস্থান করা সোনালি বিবি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছেন—যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের ভারতে ফেরানো হোক, কারণ তিনি বর্তমানে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং চান তাঁর সন্তান ভারতেই জন্মগ্রহণ করুক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও বাংলাদেশের আদালতের জামিন সত্ত্বেও, তাঁর দাবি, কেন্দ্র এখনও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

দেশে ফেরার আবেদনে আবেগঘন সোনালি বিবি

সোনালি বিবি জানিয়েছেন, তিনি প্রায় নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং চান তাঁর সন্তান নিজের দেশে জন্ম নিক। বাংলাদেশের আদালত জা‌মিন দেওয়ার পরও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও যোগাযোগ না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া পরিষ্কার হওয়া সত্ত্বেও দেশে ফেরাতে দেরি হওয়া বোধগম্য নয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

মমতা ও অভিষেকের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা

সোনালি জানিয়েছেন, সংকটের মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পাশে ছিলেন। রাজ্য সরকারই তাঁদের নিরাপত্তা, পরামর্শ ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করেছে।এছাড়াও, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম নিয়মিত তাঁদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান তিনি। রাজনৈতিক ও মানবিক স্তরে পাওয়া এই সহায়তা তাঁদের মনোবল বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশে আপাতত নিরাপদ, কিন্তু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে

সোনালির সঙ্গে থাকা বীরভূমের যুবক মফিজুল শেখ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁরা চাঁপাই নবাবগঞ্জের ফারুক আলির বাড়িতে নিরাপদে রয়েছেন।তিনি আরও বলেন, জামিনের রাতে পুলিশ বাড়িতে এলেও এটি কেবল নিরাপত্তাজনিত সফর ছিল—কোনও গ্রেফতার বা জেরা করা হয়নি। রাতে থানায় থাকার ব্যবস্থা হয়, পরে ফের বাড়ি পাঠানো হয়। তবে ভারত ফেরানোর বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও অগ্রগতি নেই।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও কেন্দ্রের নীরবতা

মফিজুলের অভিযোগ, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে, বাংলাদেশের আদালতও জামিন দিয়েছে।তারপরও ভারত সরকারের তরফে যোগাযোগ না হওয়ায় তাঁরা বিস্মিত। সোনালির প্রশ্ন—“আমরা কী অপরাধ করেছি যে, আমাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হল এবং এখন আমাদের দেশে ফেরানো হচ্ছে না?”

বাংলাদেশে আটকে থাকা সোনালি বিবি কেন্দ্র সরকারকে দ্রুত দেশে ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট ও বাংলাদেশের আদালত থেকে স্বস্তি মিললেও কেন্দ্রের তরফে কোনও যোগাযোগ হয়নি। সন্তান যেন ভারতে জন্মায়—এই আবেদনও করেন তিনি। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

Leave a comment