সোনু নিগম আক্রান্ত ‘পিঞ্চড নার্ভ’-এ! এই স্নায়ুরোগের লক্ষণ কী? শরীরে এই উপসর্গ দেখলেই দেরি নয় চিকিৎসকের কাছে যান

বলিউড গায়ক সোনু নিগম ‘পিঞ্চড নার্ভ’ সমস্যায় আক্রান্ত। এই স্নায়ুরোগের লক্ষণ, কারণ, ঝুঁকি, চিকিৎসা ও কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন—জানুন বিস্তারিত।

দীর্ঘদিনের ঘাড়, কোমর বা কাঁধের ব্যথাকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু কখনও কখনও এর নেপথ্যে থাকতে পারে ‘পিঞ্চড নার্ভ’ বা স্নায়ু চাপে আক্রান্ত হওয়ার মতো গুরুতর কারণ। বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগমের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা সেই বিষয়টিকেই নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে।

কী এই ‘পিঞ্চড নার্ভ’?

পিঞ্চড নার্ভ বা স্নায়ু সংকোচন এমন একটি অবস্থা, যখন হাড়, পেশি, টেন্ডন, তরুণাস্থি বা হার্নিয়েটেড ডিস্কের চাপের কারণে কোনও স্নায়ু চেপে যায়। এতে স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে সংকেত আদান-প্রদানে সমস্যা তৈরি হয়।

এই সমস্যা সাধারণত ঘাড়, কোমর, কাঁধ, কবজি কিংবা পায়ের স্নায়ুকে বেশি প্রভাবিত করে।

পিঞ্চড নার্ভের সাধারণ লক্ষণ

এই রোগের উপসর্গ আক্রান্ত স্নায়ুর অবস্থানের উপর নির্ভর করলেও কয়েকটি লক্ষণ প্রায়ই দেখা যায়—

আক্রান্ত স্থানে তীব্র বা জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা

হাত বা পায়ে ঝিনঝিনি অনুভূতি

অসাড় হয়ে যাওয়া

পেশির শক্তি কমে যাওয়া

হাত-পায়ের নড়াচড়ায় দুর্বলতা

ব্যথা স্নায়ুর পথ ধরে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া

নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে ব্যথা বেড়ে যাওয়া

কেন হয় এই সমস্যা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন কারণেই স্নায়ুর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। যেমন—

হার্নিয়েটেড বা স্লিপ ডিস্ক

দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করা

ভুল অঙ্গবিন্যাস

একই ধরনের কাজ বারবার করা

আর্থ্রাইটিস বা হাড়ের ক্ষয়

অতিরিক্ত ওজন

দুর্ঘটনা বা খেলাধুলার আঘাত

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

যাঁরা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন, ভারী শারীরিক পরিশ্রম করেন কিংবা আগে থেকেই মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের উপসর্গগুলির কোনওটি দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

কয়েকদিন বিশ্রামের পরও ব্যথা না কমা

অসাড়তা বা ঝিনঝিনি ক্রমশ বাড়া

পেশির শক্তি কমে যাওয়া

হাত বা পায়ের নড়াচড়ায় সমস্যা

মূত্রথলি বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো

আঘাতের পর তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা

চিকিৎসা কীভাবে হয়?

পিঞ্চড নার্ভের চিকিৎসা মূলত স্নায়ুর উপর চাপ কমানো এবং স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া হতে পারে—

পর্যাপ্ত বিশ্রাম

ব্যথানাশক ও প্রদাহরোধী ওষুধ

পেশি শিথিলকারী ওষুধ

নিয়মিত ফিজিওথেরাপি

তাপ বা বরফ সেঁক

সঠিক অঙ্গবিন্যাস বজায় রাখা

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

গুরুতর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচারেরও পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগম সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি ‘পিঞ্চড নার্ভ’ বা স্নায়ু চাপে আক্রান্ত। এই সমস্যার কারণে তাঁকে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ফিজিওথেরাপি ও ওষুধের সাহায্য নিতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না হলে এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

Leave a comment