দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পৌঁছেছে, দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে অব্যাহত বৃষ্টিপাত

দও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও উত্তর ভারতের বহু এলাকায় তীব্র গরম ও আর্দ্রতা বজায় রয়েছে। ১১ জুন থেকে উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কয়েক দিনের ধীরগতির পর আবার অগ্রসর হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দেশের ১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পৌঁছেছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির ফলে দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে, অন্যদিকে উত্তর ভারতের বহু এলাকা এখনও তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার মুখোমুখি।

৪ জুন কেরলে প্রবেশের পর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে এটি কেরল, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, গোয়া, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যে পৌঁছেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ওডিশা, ছত্তীসগঢ় এবং বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর আরও অগ্রগতির জন্য পরিস্থিতি অনুকূল রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক অগ্রগতি দেশের কৃষি ও জলসম্পদের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত। সময়মতো বৃষ্টিপাতের ফলে খরিফ ফসলের বপনও গতি পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, অসম এবং মেঘালয়ের কিছু এলাকায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া কোকণ ও গোয়া, মধ্য মহারাষ্ট্র, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কেরল, উপকূলীয় কর্নাটক, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, রায়লসীমা এবং তেলেঙ্গানার বিভিন্ন অংশে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ধারাবাহিক বৃষ্টির ফলে বহু এলাকায় তাপমাত্রা কমেছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হলেও উত্তর ভারতের বহু এলাকা এখনও তীব্র গরম ও আর্দ্রতার প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, পাঞ্জাব এবং ঝাড়খণ্ডের বহু শহরে তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে দেশের সর্বোচ্চ ৪৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

হরিয়ানার রোহতকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ফতেহগড়ে তাপমাত্রা ৪৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বারাণসীতে ৪৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। পাঞ্জাবের পাতিয়ালা এবং ঝাড়খণ্ডের ডাল্টনগঞ্জেও গরমের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের মতে, ১১ জুন থেকে পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় হতে পারে। এর প্রভাবে দিল্লি-এনসিআর, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের অন্যান্য অংশে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

Leave a comment