শ্রীদেবীর মতো তারকার পর্দার সৌন্দর্যের পিছনে কতটা কঠিন পরিশ্রম ছিল, তা অনেকেরই অজানা। ১৯৯১ সালে ‘ক্ষণ ক্ষণম’-এর শুটিংয়ের সময় নির্দিষ্ট লুকের জন্য ওজন কমানোর চাপ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। কথিত আছে, সেই সময় খাবার থেকে লবণ পর্যন্ত বাদ দিয়েছিলেন তিনি। পরে শুটিং সেটে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা সামনে আসে। আরও একবার শুটিংয়ের সময় জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গিয়ে দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও জানান পরিচালক পঙ্কজ পরাশর।
‘ক্ষণ ক্ষণম’-এর জন্য বদলে ফেলেছিলেন খাদ্যাভ্যাস
১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া তেলুগু ছবি ‘ক্ষণ ক্ষণম’-এ শ্রীদেবীর বিপরীতে ছিলেন ভেঙ্কটেশ। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন রাম গোপাল বর্মা। এই ছবির শুটিংয়ের সময় অভিনেত্রীর লুক নিয়ে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছিল বলে পুরনো সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন পরিচালক পঙ্কজ পরাশর।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওজন কমিয়ে নির্দিষ্ট চেহারায় নিজেকে পর্দায় তুলে ধরতে শ্রীদেবীও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নেন।
লবণও বাদ দিয়েছিলেন ডায়েট থেকে!
নিজেকে আরও রোগা দেখানোর চেষ্টায় অভিনেত্রী অত্যন্ত কড়া খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতেন বলে জানা যায়। এমনকি খাবার থেকে লবণও বাদ দিয়েছিলেন তিনি।তবে এই ধরনের কঠোর ডায়েট তাঁর শরীরের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল বলে পুরনো সাক্ষাৎকারের সূত্রে দাবি করা হয়েছে। শ্রীদেবীর শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে এই খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক নিয়েও পরে নানা আলোচনা হয়।
শুটিং সেটেই হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন
পঙ্কজ পরাশরের পুরনো বক্তব্য অনুযায়ী, ‘মেরি বিবি কা জবাব নহি’ ছবির শুটিং চলাকালীন একদিন আচমকাই শ্রীদেবীর মাথা ঘুরে যায়। এরপর তিনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান।পড়ে যাওয়ার সময় তাঁর মাথা একটি টেবিলে আঘাত করে। মুখেও চোট লাগে এবং একটি দাঁত ভেঙে যায় বলে পরিচালক জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, শ্রীদেবী বেশ কিছুক্ষণ অচেতন ছিলেন এবং ঘটনাটি সেটে উপস্থিত সকলকে আতঙ্কিত করে দিয়েছিল।
দুর্ঘটনার প্রভাব পড়েছিল ছবির শুটিংয়েও
শ্রীদেবীর চোটের কারণে ‘মেরি বিবি কা জবাব নহি’-এর শুটিংও বড় সমস্যার মুখে পড়ে বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় অভিনেত্রীকে বিশ্রামে থাকতে হয়েছিল।পরবর্তী সময়ে ছবিটির প্রযোজনা নানা জটিলতায় আটকে যায়। অর্থের সমস্যার পাশাপাশি প্রযোজকের মৃত্যুর মতো ঘটনাও প্রকল্পটিকে অনিশ্চিত করে তোলে। বহু বছর পর, ২০০৪ সালে ছবিটি অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই মুক্তি পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বনি কাপুরও জানিয়েছিলেন শ্রীদেবীর ডায়েটের কথা
শ্রীদেবীর স্বামী প্রযোজক বনি কাপুরও এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীর কঠোর খাদ্যাভ্যাসের কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পর্দায় নিজের লুক বজায় রাখার জন্য শ্রীদেবী অনেক সময় না খেয়ে থাকতেন এবং লবণ এড়িয়ে চলতেন।বিয়ের পরেও নিম্ন রক্তচাপের কারণে তাঁর জ্ঞান হারানোর মতো সমস্যা হয়েছিল বলে বনি কাপুর জানিয়েছেন।
সৌন্দর্যের আড়ালে ছিল কঠিন বাস্তবতা
শ্রীদেবীকে দর্শকরা সবসময়ই নিখুঁত সাজ, সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পর্দায় দেখেছেন। কিন্তু সেই চেহারা ধরে রাখার পিছনে তাঁর নিজের উপর কতটা চাপ ছিল, এই ঘটনাগুলি তারই একটি দিক তুলে ধরে।‘হিম্মতওয়ালা’, ‘সদমা’, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ‘চাঁদনি’, ‘চালবাজ’ এবং ‘লামহে’-এর মতো ছবির মাধ্যমে তিনি যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, সেই তারকাখ্যাতির সঙ্গে নিজের লুক নিয়ে প্রত্যাশার চাপও কম ছিল না।
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবীর সৌন্দর্য ও অভিনয় আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। কিন্তু নিখুঁত লুক ধরে রাখতে তাঁকে যে কঠিন ডায়েট মেনে চলতে হয়েছিল, তার একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এসেছিল পরিচালকদের পুরনো সাক্ষাৎকারে। ‘ক্ষণ ক্ষণম’-এর সময় ওজন কমানোর চাপ এবং কঠোর খাদ্যাভ্যাসের পর সেটে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরে আরও একটি শুটিংয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোটও পান।









