Sundarbans Hidden Spot: জোয়ারের জল নামলেই নদীর বুকে জেগে ওঠে ‘সমুদ্রসৈকত’! সুন্দরবনের এই জায়গায় কয়েক ঘণ্টার জন্য মেলে দিঘা-পুরীর আমেজ

সুন্দরবনের হেমনগরে রায়মঙ্গল নদীর জল ভাটায় নামলেই জেগে ওঠে বিস্তীর্ণ বালুচর। পূর্ণিমায় কয়েক ঘণ্টার জন্য তৈরি হয় দিঘা-পুরীর মতো পরিবেশ। জানুন এই অজানা আকর্ষণের কথা।

দিঘা কিংবা পুরীর মতো সমুদ্রসৈকতের দৃশ্য দেখতে সবসময় সমুদ্রের কাছে ছুটতে হবে না। সুন্দরবনের বুকেও প্রকৃতি মাঝে মাঝে এমন চমক দেখায়। উত্তর ২৪ পরগনার হেমনগরে রায়মঙ্গল নদীর জল ভাটায় নেমে গেলে কয়েক ঘণ্টার জন্য জেগে ওঠে বিশাল বালুচর। পূর্ণিমার বিশেষ দিনে সেই জায়গাতেই তৈরি হয় সাময়িক ‘সি-বিচ’-এর মতো পরিবেশ।

Sundarbans Hidden Spot: জোয়ারের জল নামলেই নদীর বুকে জেগে ওঠে ‘সমুদ্রসৈকত’! সুন্দরবনের এই জায়গায় কয়েক ঘণ্টার জন্য মেলে দিঘা-পুরীর আমেজ

ভাটার টানেই নদীর বুক থেকে উঠে আসে চর

রায়মঙ্গল নদী সুন্দরবন এলাকার অন্যতম পরিচিত জলপথ। জোয়ারের সময়ে যে অংশটি জলের নীচে থাকে, ভাটার সময় সেখানেই ধীরে ধীরে দেখা যায় বালির বিস্তীর্ণ স্তর। বিশেষ করে পূর্ণিমার দিনে জলস্তর অনেকটা নেমে গেলে এই চর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।তখন দূর থেকে দেখলে নদীর পাড়ের এই বিস্তীর্ণ বালুচরকে অনেকটা সমুদ্রসৈকতের মতো মনে হয়। যদিও এটি কোনও স্থায়ী বিচ নয়, প্রকৃতির জোয়ার-ভাটার নিয়মেই সাময়িকভাবে এই দৃশ্য তৈরি হয়।

রাখি পূর্ণিমায় জমে ওঠে উৎসবের আবহ

রায়মঙ্গলের বুকে চর জেগে ওঠার সঙ্গে রাখি পূর্ণিমার উৎসবও মিশে যায়। এই বিশেষ দিনে হেমনগর ও আশপাশের এলাকা থেকে বহু মানুষ নদীর তীরে হাজির হন। শুধু স্থানীয় বাসিন্দাই নন, দূরের জায়গা থেকেও অনেকে এই বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে আসেন।কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চর ঘুরে দেখেন, কেউ নদীর ধারে সময় কাটান। আবার অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও তুলে রাখেন এই বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতি হিসেবে।

চরের উপর বসে ছোট মেলা, থাকে খাবারের দোকানও

পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে রায়মঙ্গলের পাড়ে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। সাময়িক চরকে ঘিরে ছোটখাটো মেলা বসে। বিভিন্ন দোকানের পাশাপাশি খাবারের স্টলও দেখা যায়। ফলে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ নয়, স্থানীয়দের কাছে দিনটি এক ধরনের মিলনমেলায় পরিণত হয়।শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষই এই বিশেষ দিনের অপেক্ষায় থাকেন। প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকায় এমন একটি আয়োজন স্থানীয়দের কাছে আলাদা আনন্দের কারণ হয়ে ওঠে।

Sundarbans Hidden Spot: জোয়ারের জল নামলেই নদীর বুকে জেগে ওঠে ‘সমুদ্রসৈকত’! সুন্দরবনের এই জায়গায় কয়েক ঘণ্টার জন্য মেলে দিঘা-পুরীর আমেজ

কেন প্রতিদিন দেখা যায় না এই ‘সি-বিচ’?

এই জায়গাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণই হল এর অস্থায়ী চরিত্র। বছরের প্রতিদিন এখানে বালুচর দেখা যায় না। জোয়ার-ভাটার গতিবিধির উপর নির্ভর করেই নদীর বুকের এই অংশ কখনও জলের নীচে চলে যায়, আবার কখনও ভেসে ওঠে।পূর্ণিমার নির্দিষ্ট দিনে ভাটার সময় জল অনেকটা সরে গেলে কয়েক ঘণ্টার জন্য বালুচরটি চোখে পড়ে। তাই এই দৃশ্য দেখতে চাইলে জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে আগে থেকে খোঁজ নেওয়া জরুরি।

Sundarbans Hidden Spot: জোয়ারের জল নামলেই নদীর বুকে জেগে ওঠে ‘সমুদ্রসৈকত’! সুন্দরবনের এই জায়গায় কয়েক ঘণ্টার জন্য মেলে দিঘা-পুরীর আমেজ

দিঘা-পুরীর ছোঁয়া, তবে সুন্দরবনের নিজস্ব রূপে

দিঘা বা পুরীর স্থায়ী সমুদ্রসৈকতের সঙ্গে রায়মঙ্গলের এই চরকে এক করে দেখা ঠিক নয়। তবুও বিস্তীর্ণ বালির প্রান্তর, নদীর জল এবং মানুষের ভিড় মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য এখানে তৈরি হয় সমুদ্রসৈকতের মতো এক মনোরম পরিবেশ।এর সঙ্গে সুন্দরবনের নিজস্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যোগ হওয়ায় জায়গাটির আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। নদী, বনাঞ্চল এবং জোয়ার-ভাটার এই অনন্য সমন্বয়ই রায়মঙ্গলের এই সাময়িক বালুচরকে অন্যরকম করে তুলেছে।

Sundarbans Hidden Spot: জোয়ারের জল নামলেই নদীর বুকে জেগে ওঠে ‘সমুদ্রসৈকত’! সুন্দরবনের এই জায়গায় কয়েক ঘণ্টার জন্য মেলে দিঘা-পুরীর আমেজ

সুন্দরবনের হেমনগরে রায়মঙ্গল নদীর তীরে পূর্ণিমার ভাটায় জেগে ওঠে বিস্তীর্ণ বালুচর। কয়েক ঘণ্টার জন্য নদীর বুকের এই চর দেখতে অনেকটা সমুদ্রসৈকতের মতো লাগে। রাখি পূর্ণিমাকে ঘিরে এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে দূর-দূরান্তের মানুষ।

Leave a comment