তিন দিনের বিরতির পর সোমবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে তামিলনাড়ু বিধানসভার অধিবেশন ফের শুরু হবে। বিধানসভা স্পিকার জে.সি.ডি. প্রভাকর জানিয়েছেন, সোমবার প্রশ্নোত্তর পর্ব হবে না। তবে সরকার একটি সংশোধনী বিল পেশ করবে। এরপর তালিকাভুক্ত অন্যান্য সরকারি কাজ এবং বিভিন্ন দফতর সংক্রান্ত আলোচনা চলবে।
সোমবারের অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের তোলা অভিযোগের বিস্তারিত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এর আগে পুলিশ এবং অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার পরিষেবা দফতরের অনুদানের দাবির ওপর আলোচনার সময় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। দুটি দফতরই মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের অধীনে রয়েছে।
বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন এবং এআইএডিএমকে বিধায়ক দলের নেতা এডাপ্পাদি কে. পালানিস্বামী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিচালনার পদ্ধতির সমালোচনা করেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, নতুন সরকারের আমলে অপরাধ এবং জননিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়েছে। এই অভিযোগগুলির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বিস্তারিত জবাব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
বিতর্কের সময় উদয়নিধি স্ট্যালিন দাবি করেন, নতুন সরকারের প্রথম ১১৬ দিনে তামিলনাড়ু ‘রিভার্স গিয়ারে’ চলে গিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এই সময়ে প্রায় ৫৫০টি অপরাধমূলক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ২০০টি খুন, ৩০০টির বেশি যৌন নির্যাতনের ঘটনা, পুলিশের সঙ্গে সম্পর্কিত আটটি মৃত্যু এবং ১০টি সন্দেহভাজন অনার কিলিং রয়েছে।
সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বিরোধীদের পক্ষ থেকে বিধানসভায় এই পরিসংখ্যানগুলি উপস্থাপন করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এখন এই অভিযোগ এবং বিরোধীদের তোলা অন্যান্য প্রশ্নের জবাব দেবেন।
বিধানসভায় বিতর্কের সময় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বিরোধী সদস্যদের তোলা প্রতিটি প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
তিনি ডিএমকে বিধায়কদেরও বলেছিলেন, তাঁরা যেন ওয়াকআউট না করে বিধানসভায় উপস্থিত থাকেন এবং তাঁর জবাব শোনেন।
সোমবারের অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রীর জবাবই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে সরকার পুলিশ ব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপের তথ্য দিতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর জবাবের সময় শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি ইতিমধ্যেই বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিজয় পুলিশ ব্যবস্থা, জননিরাপত্তা এবং অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার পরিষেবা সংক্রান্ত অতিরিক্ত পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রীর জবাবের পর বিধানসভায় একাধিক দফতরের অনুদানের দাবির ওপর আলোচনা হবে। এর মধ্যে বন, বাণিজ্যিক কর, স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন দফতর রয়েছে।
এই দফতরগুলির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিধানসভায় হওয়া বিতর্কের জবাব দেবেন। পাশাপাশি নিজ নিজ দফতরের নতুন কর্মসূচি ও উদ্যোগ ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তামিলনাড়ু বিধানসভার বর্তমান অধিবেশন এখনও পর্যন্ত ১৮ দিন চলেছে। এই সময়ে সরকারের ব্যয়, বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রম এবং অনুদানের দাবির ওপর আলোচনা হয়েছে।
বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি বিশেষভাবে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ পুলিশ এবং অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার পরিষেবা সংক্রান্ত দফতরগুলি মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে রয়েছে।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর জবাব আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এই বিতর্ককে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা দিতে পারে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের জবাব বর্তমান অধিবেশনের শেষ পর্যায়ের রাজনৈতিক দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিরোধীরা যেখানে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে, সেখানে সরকারকে প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য রাখতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর জবাবে বিরোধীদের অভিযোগের তথ্যভিত্তিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি সরকারের পরবর্তী কৌশল ও সম্ভাব্য পদক্ষেপের উল্লেখ থাকতে পারে।
সোমবারের বিধানসভা অধিবেশনে এরপর বিভিন্ন দফতরের অনুদানের দাবির ওপর আলোচনা চলবে। মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের জবাব এবং সম্ভাব্য নতুন ঘোষণা অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে সরকারের অগ্রাধিকারগুলিও স্পষ্ট করতে পারে।










