তামিলনাড়ু সরকার পাত্তিনাপাক্কামে প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে চেন্নাইয়ের মধ্যে সচিবালয়ের জন্য সম্ভাব্য বিকল্প স্থানগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে বলে সরকার নিশ্চিত করেনি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি রয়েছে।
তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে পাত্তিনাপাক্কামে প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয় নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ মন্ত্রী নির্মল কুমার জানান, প্রকল্পটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকার পাত্তিনাপাক্কামে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে কি না, জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রকল্প বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
মন্ত্রী জানান, সরকার চেন্নাইয়ের মধ্যে সচিবালয়ের জন্য সম্ভাব্য অন্যান্য স্থানও খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন। অর্থাৎ, আপাতত পাত্তিনাপাক্কামকে নির্মাণস্থল হিসেবে রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
সরকারের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাত্তিনাপাক্কামে প্রায় ২৫ একর জমিতে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স গড়ে তোলার কথা ছিল। প্রস্তাবিত ভবনটি ১৫ তলা হওয়ার কথা এবং প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছিল। জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় সরকার অনুমোদন দিয়েছিল, অন্যদিকে পূর্ত দফতর বা PWD বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় ছিল।
প্রস্তাবটি তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর আগে সরকার বর্তমান ফোর্ট সেন্ট জর্জ চত্বরের পরিবর্তে নতুন সমন্বিত সচিবালয় ও বিধানসভা কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা সামনে এনেছিল। প্রকল্পটিতে আধুনিক পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছিল।
পাত্তিনাপাক্কামে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা সামনে আসার পর স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এর বিরোধিতা করে। মৎস্যজীবীদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত জমি এবং তার আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী মৎস্যজীবী বসতি ও মাছ ধরার কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত।
স্থানীয় সম্প্রদায় জমির অধিকার ও ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সেপ্টেম্বরে মৎস্যজীবীরা দাবি করেছিলেন, প্রায় ২৫.৫২ একর জমি আগে মৎস্যজীবী পরিবারগুলির পুনর্বাসন ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল। সম্প্রদায়টি পুরনো সরকারি নথি ও আদেশের উল্লেখ করে জমির দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত রেকর্ড সংগ্রহের কথা জানিয়েছিল।
মৎস্যজীবীদের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী জীবিকা, সমুদ্রের প্রবেশাধিকার, নৌকা ও মাছ ধরার সরঞ্জামের যাতায়াত এবং উপকূলীয় বসতিগুলির উপর সম্ভাব্য প্রভাব।
পাত্তিনাপাক্কাম দক্ষিণ চেন্নাইয়ের ঘনবসতিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা। এখানে আবাসিক এলাকা, স্কুল এবং ঐতিহ্যবাহী মৎস্যজীবী বসতিগুলি কাছাকাছি অবস্থিত। প্রস্তাবিত সরকারি কমপ্লেক্স নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা যানবাহন চলাচল, জনপরিষেবা এবং উপকূলীয় পরিবেশের উপর সম্ভাব্য চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সেপ্টেম্বরে মৎস্যজীবী সংগঠনগুলি বৈঠক করে প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিরোধিতা এবং সরকারের কাছে স্থান পরিবর্তনের দাবি নিয়ে আলোচনা করেছিল। কয়েকটি সংগঠন সতর্ক করেছিল, সরকার তাদের আপত্তি পুনর্বিবেচনা না করলে আন্দোলন আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
২৪ সেপ্টেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাত্তিনাপাক্কাম প্রকল্পের বিরোধিতায় মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় সংখ্যায় উপস্থিতিও দেখা গিয়েছিল। এরপর সরকার প্রকল্পটি পর্যালোচনার অবস্থান স্পষ্ট করে।
সচিবালয়ের জন্য পাত্তিনাপাক্কামকে বেছে নেওয়া নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। এর আগে PMK সভাপতি অম্বুমণি রামদাস সরকারকে পাত্তিনাপাক্কামে প্রস্তাবিত কমপ্লেক্সের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করার দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি চেন্নাইয়ের বাইরে বড় এলাকায় একটি সমন্বিত প্রশাসনিক শহর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারাও প্রস্তাবিত স্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল, জমির প্রাপ্যতা, পরিবেশ এবং মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবিকা সংক্রান্ত বিষয় উত্থাপন করেছেন। ফলে প্রকল্পটি নিয়ে বিতর্ক শুধু নির্মাণস্থলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং নগর পরিকল্পনা ও উপকূলীয় এলাকার ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশ্নেও পৌঁছেছে।
সরকারের সামনে একদিকে আধুনিক ও সমন্বিত সচিবালয় কমপ্লেক্সের জন্য উপযুক্ত জমি খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে, অন্যদিকে প্রস্তাবিত স্থানকে ঘিরে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলির আপত্তিও বিবেচনা করতে হবে।
পাত্তিনাপাক্কাম নিয়ে বিরোধের মধ্যে বিকল্প কোনও স্থান বিবেচনা করা হলে সরকারকে জমির প্রাপ্যতা, প্রশাসনিক যোগাযোগ, যানবাহন ব্যবস্থা, পরিকাঠামো এবং পরিবেশগত প্রভাবের মতো বিষয় মূল্যায়ন করতে হবে।
অন্যদিকে, সরকার যদি বর্তমান স্থানেই এগিয়ে যায়, তাহলে মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এবং রাজনৈতিক দলগুলির উত্থাপিত আপত্তিগুলির সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আপাতত সরকার পাত্তিনাপাক্কাম প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেনি এবং কোনও নতুন স্থানও ঘোষণা করেনি।
মন্ত্রী নির্মল কুমারের বক্তব্যের পর সচিবালয় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিস্থিতি এখনও চূড়ান্ত নয়। সরকার পাত্তিনাপাক্কামের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে এবং চেন্নাইয়ের অন্যান্য সম্ভাব্য স্থান খতিয়ে দেখছে—এটি নিশ্চিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত নির্মাণস্থল নিয়ে সরকারি ঘোষণা এখনও বাকি।
তাই এই মুহূর্তে পাত্তিনাপাক্কামে সচিবালয় প্রকল্প সম্পূর্ণ বাতিল হয়েছে অথবা অন্য কোনও স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না। সরকারের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণাতেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং নির্মাণস্থল সম্পর্কে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।













