তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি মালদার এক পরিবার। রবিবার রাতে হোটেলে ওঠার পর ভোরে আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুন দেখে আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন হোটেলে থাকা পর্যটকেরা। দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন টুম্পা। শেষ পর্যন্ত কোনওরকমে হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচেন তাঁরা।
বাবাধামে পুজো দিয়ে তারাপীঠে এসেছিল পরিবার
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মালদার পুখুরিয়ার নসিপুরের বাসিন্দা টুম্পা পাণ্ডে তিওয়ারি, তাঁর স্বামী জীবনানন্দ তিওয়ারি, দুই ছেলে শুভজিৎ ও রাজদীপ এবং আরও দুই আত্মীয় নিজেদের গাড়িতে করে দু’দিন আগে ঝাড়খণ্ডের বাবাধামে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। পুজো শেষ করে রবিবার রাতে তাঁরা তারাপীঠে ফিরে একটি হোটেলে ওঠেন।রাত কাটিয়ে ভোর হতেই ঘটে বিপত্তি। আচমকাই হোটেলের ভিতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই ধোঁয়ায় ভরে যায় চারপাশ। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন হোটেলে থাকা অতিথিরা।
দুই সন্তানকে নিয়ে আতঙ্কে মা
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে টুম্পা জানান, তিনি স্বামী, দুই ছেলে ও আত্মীয়দের সঙ্গে হোটেলের ব্যালকনিতে ছিলেন। আচমকাই তাঁরা দেখতে পান, নিচের দিক থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উঠছে এবং আগুন জ্বলছে।পরিস্থিতি দেখে তাঁর ১৫ ও ১২ বছরের দুই ছেলে ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। টুম্পার কথায়, সেই মুহূর্তে তাঁদের মনে হচ্ছিল, হয়তো আর জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফেরা সম্ভব হবে না।
কোনওরকমে হোটেল থেকে বেরিয়ে রক্ষা
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা কোনওরকমে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন। প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পর বিকেলে মালদার উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা।গাড়িতে ফেরার সময়ও সেই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি তাড়া করছিল পরিবারটিকে। বিশেষ করে দুই সন্তানকে নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন মা টুম্পা।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল ৯ জনের
তারাপীঠের ওই হোটেলের অগ্নিকাণ্ড আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আরও কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গিয়েছে।মৃতদের মধ্যে আলিপুরদুয়ারের কমল রায়, অমিত পাল ও সুবীর সাহার নাম রয়েছে। মেঘালয়ের কয়েকজনেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত আটজন মৃতের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছে।
ভিড়ে ঠাসা ছিল তারাপীঠ
শ্রাবণের শেষ সোমবারকে কেন্দ্র করে শনিবার ও রবিবার তারাপীঠে ছিল বিপুল ভক্তসমাগম। ফলে এলাকার অধিকাংশ হোটেলেই ছিল পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের ভিড়। তারাপীঠ থানা ও মন্দিরের কাছেই অবস্থিত ওই বেসরকারি হোটেলে ভোরে আগুন লাগায় আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে।প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে জানা গেলেও, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তারাপীঠের একটি বেসরকারি হোটেলে ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় হোটেলে ছিলেন মালদার একটি পরিবার। দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কোনওরকমে প্রাণে বাঁচেন তাঁরা। পরিবারের মা টুম্পা পাণ্ডে তিওয়ারির কথায়, সেই কয়েক ঘণ্টার আতঙ্ক এখনও কাটেনি। এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।










