ক্রিকেট মানেই শুধু চার-ছক্কার বন্যা নয়, কখনও কখনও ধৈর্যও হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এমনই এক নজির গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটার পিটার নেভিল ও স্টিভ ও'কিফ। টেস্ট ম্যাচ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় তাঁরা টানা ১৫৪টি ডট বল খেলেছিলেন, যা আজও বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম অদ্ভুত এবং বিরল রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
গলের মাঠে ইতিহাসের জন্ম
২০১৬ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার গলে অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা টেস্টের শেষ দিনে এই ঘটনা ঘটে। স্পিন-সহায়ক উইকেটে অস্ট্রেলিয়া তখন বড়সড় চাপে। ম্যাচ বাঁচানোই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।সেই কঠিন পরিস্থিতিতে উইকেটকিপার-ব্যাটার পিটার নেভিল এবং স্পিনার স্টিভ ও'কিফ ক্রিজে এসে রান তোলার বদলে উইকেট বাঁচানোর লড়াই শুরু করেন।
টানা ১৫৪টি ডট বলের অবিশ্বাস্য কীর্তি
দু'জন মিলে পরপর ১৫৪টি বল খেলেন, কিন্তু একবারও রান নেননি। অর্থাৎ ২৫.৪ ওভার ধরে স্কোরবোর্ডে কোনও পরিবর্তন আসেনি।যেখানে আধুনিক ক্রিকেটে প্রতিটি বলে রান তোলার চেষ্টা দেখা যায়, সেখানে এত দীর্ঘ সময় ধরে শুধুমাত্র রক্ষণাত্মক ব্যাটিং ক্রিকেটপ্রেমীদের বিস্মিত করেছিল।
রানরেটে বিশ্বরেকর্ড
এই জুটিতে দুই ব্যাটার মোট ১৭৪টি বল মোকাবিলা করেন এবং সংগ্রহ করেন মাত্র ৪ রান।১০০ বলের বেশি স্থায়ী কোনও টেস্ট জুটির ক্ষেত্রে এটি সর্বনিম্ন রানরেটের অন্যতম বিশ্বরেকর্ড। প্রতি ওভারে মাত্র ০.১৩ রান করে এই পার্টনারশিপ ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কি ম্যাচ বাঁচাতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া?
অসাধারণ ধৈর্য দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ড্র করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। শ্রীলঙ্কাই শেষ পর্যন্ত টেস্ট জিতে নেয়।তবে ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, নেভিল ও ও'কিফের এই রক্ষণাত্মক ব্যাটিং আজও টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে আলোচিত।
টেস্ট ক্রিকেটের অন্যরকম সৌন্দর্য
এই ইনিংস প্রমাণ করে, টেস্ট ক্রিকেটের রোমাঞ্চ শুধু বড় শট বা দ্রুত রানেই সীমাবদ্ধ নয়। কখনও কখনও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় উইকেট আগলে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।টি-টোয়েন্টির যুগে এমন ধৈর্যের নজির ভবিষ্যতে আবার দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যায়।
টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত নজর কেড়ে নেয় ঝোড়ো শতরান বা বড় জুটি। কিন্তু ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার গলে তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিশ্বরেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার পিটার নেভিল ও স্টিভ ও'কিফ টানা ১৫৪টি বল খেলেও কোনো রান নেননি। ২৫.৪ ওভারের সেই ধৈর্যের লড়াই আজও ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর অধ্যায়।










