Tsunami Warning Ship: বঙ্গোপসাগরে সুনামির আগাম সংকেত দেবে ‘সাগর মন্থন’! গার্ডেনরিচের তৈরি জাহাজে নজরে থাকবে সমুদ্রের তলদেশ

গার্ডেনরিচে তৈরি ‘সাগর মন্থন’ গবেষণা জাহাজ বঙ্গোপসাগরে সুনামির পূর্বাভাসের গবেষণা করবে। ৬ কিমি গভীর সমুদ্রতল, সিসমিক ওয়েভসহ কী কী তথ্য সংগ্রহ করবে, জানুন।

সমুদ্রের গভীরে কোনও বড় ভূমিকম্প বা ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটলে তার প্রভাব থেকে তৈরি হতে পারে ভয়ঙ্কর সুনামি। এমন বিপর্যয়ের আগে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া গেলে উপকূলবর্তী বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। এবার সেই লক্ষ্যেই বঙ্গোপসাগরে গবেষণায় নামছে গার্ডেনরিচে তৈরি অত্যাধুনিক জাহাজ ‘সাগর মন্থন’। সমুদ্রের তলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে সুনামির পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই বিশেষ জাহাজের ব্যবহার হবে।

গার্ডেনরিচে তৈরি ‘সাগর মন্থন’

দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ বাংলার জন্য এটি গর্বের খবর। ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড ওশান রিসার্চ (NCPOR)-এর জন্য জাহাজটি তৈরি করেছে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।জাহাজটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাগর মন্থন’। ইতিমধ্যেই ঋষি বঙ্কিম শিপইয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট সংস্থার হাতে জাহাজটি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুধু সুনামি নয়, চলবে সমুদ্রের তলদেশের গবেষণাও

‘সাগর মন্থন’-এর কাজ শুধু সুনামির পূর্বাভাস সংক্রান্ত গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমুদ্রের তলদেশের ভূপ্রকৃতি, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং সময়ের সঙ্গে সেখানে ঘটে চলা পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করা হবে।সমুদ্রের গভীরে কী ধরনের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন হচ্ছে, কোথায় কোনও অস্বাভাবিকতা তৈরি হচ্ছে কি না—এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে জাহাজটি ব্যবহার করা যাবে।

৬ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রতলও হবে নজরে

গবেষণা জাহাজটির আকারও বেশ উল্লেখযোগ্য। ‘সাগর মন্থন’-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯.৫০ মিটার এবং প্রস্থ ১৮.৮০ মিটার। সর্বোচ্চ ১৪ নট গতিতে চলতে পারে এটি।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে এর সমুদ্রতল পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। Underway Swath Multibeam প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্রের প্রায় ৬ কিলোমিটার গভীরতা পর্যন্ততলদেশের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব হবে।এর ফলে সমুদ্রের নীচে থাকা বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক গঠন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ভূমিকম্পের তরঙ্গও মাপবে জাহাজ

সমুদ্রের তলায় ভূমিকম্প হলে তার সঙ্গে সম্পর্কিত ভূ-কম্পন বা সিসমিক ওয়েভের তথ্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘সাগর মন্থন’ জিওফিজিক্যাল সিসমিক ওয়েভ পরিমাপ করতে সক্ষম হবে।সমুদ্রতলের ভূমিকম্পজনিত পরিবর্তন, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে। এই ডেটা ভবিষ্যতে সমুদ্রের তলায় তৈরি হওয়া বিভিন্ন পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

সুনামির পূর্বাভাস আরও দ্রুত করার লক্ষ্য

সমুদ্রতল থেকে সংগৃহীত বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে বঙ্গোপসাগরে সুনামির সম্ভাব্য উৎস এবং তার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে গবেষণা আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশেষ করে ভূমিকম্প বা অন্য কোনও ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সুনামির সম্ভাব্য সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে এই ধরনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার মাধ্যমে পূর্বাভাস ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও নির্ভুল করার চেষ্টা করা হবে।

উপকূলবর্তী এলাকার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু মানুষ বসবাস করেন। কোনও বড় সামুদ্রিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কবার্তা যত দ্রুত দেওয়া যায়, তত বেশি সময় পাওয়া যায় মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য।তাই ‘সাগর মন্থন’-এর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে সুনামি সতর্কীকরণ এবং উপকূলীয় বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুনামির মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগাম পূর্বাভাস পেতে বঙ্গোপসাগরে নামছে অত্যাধুনিক গবেষণা জাহাজ ‘সাগর মন্থন’। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের তৈরি এই জাহাজ সমুদ্রের তলদেশের ভূপ্রকৃতি, ভূমিকম্পজনিত পরিবর্তন এবং জিওফিজিক্যাল সিসমিক ওয়েভ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সুনামির সম্ভাব্য উৎস ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

Leave a comment