দিল্লিতে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে নামছে উত্তর প্রদেশ এটিএস

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের গ্রেপ্তার করা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মামলায় উত্তর প্রদেশ এটিএস তদন্ত জোরদার করেছে। অভিযুক্তদের নেটওয়ার্ক, স্থানীয় যোগাযোগ, ডিজিটাল কার্যকলাপ এবং উত্তর প্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে সম্ভাব্য কর্মকাণ্ডের পরিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের গ্রেপ্তার করা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মামলায় উত্তর প্রদেশ অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) তদন্ত আরও জোরদার করেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে, অভিযুক্তরা উত্তর প্রদেশে কতজনকে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেছিল এবং তাদের কার্যকলাপের পরিধি কতটা বিস্তৃত ছিল।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের পাকিস্তানি গ্যাংস্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং তারা উত্তর প্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছিল। এখন এটিএস তাদের ভূমিকা, নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় যোগাযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করবে।

দিল্লি পুলিশের অভিযানের পর উত্তর প্রদেশ এটিএস সক্রিয় হয়ে তদন্তের পরিধি বাড়িয়েছে। এটিএস কর্মকর্তারা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সংস্থাটি বোঝার চেষ্টা করছে যে উত্তর প্রদেশে অভিযুক্তদের কার্যকলাপ কতটা বিস্তৃত ছিল এবং তাদের নেটওয়ার্ক কোন কোন এলাকায় ছড়িয়ে ছিল।

তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের পাকিস্তানি গ্যাংস্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই তাদের যোগাযোগ, কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন শহরে কিছু পাকিস্তানি গ্যাংস্টারের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রচারসামগ্রী লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এছাড়া সংবেদনশীল স্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলির তথ্য সংগ্রহের চেষ্টারও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে উত্তর প্রদেশের একাধিক জেলার বাসিন্দা রয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে, তাদের কার্যকলাপ কয়েকটি শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, নাকি বৃহত্তর পরিসরে নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল।

এটিএস বিশেষভাবে অনুসন্ধান করছে, অভিযুক্তরা নিজেদের যোগাযোগের মাধ্যমে আর কতজনকে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেছিল এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল।

তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অভিযুক্তরা কীভাবে বিভিন্ন সম্পদ সংগ্রহ করেছিল। এটিএস খতিয়ে দেখছে, তাদের কাছে পৌঁছানো অস্ত্র, কার্তুজ এবং অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবস্থা কোন মাধ্যমে করা হয়েছিল। পাশাপাশি যে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল, তার উৎসও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল ডিভাইস এবং মোবাইল ফোন থেকে একাধিক ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে। নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ কাঠামো এবং কার্যকলাপ সম্পর্কে জানতে সেগুলির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলি অনলাইন কার্যকলাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংযোগগুলিও বিশ্লেষণ করছে। প্রাপ্ত ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে, অভিযুক্তরা কোন মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং কীভাবে নির্দেশনা পেত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই কারণে এটিএস প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার প্রতিটি সূত্রকে একত্র করার চেষ্টা করছে।

তদন্তে একাধিক রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দিক সামনে আসায় বিষয়টিকে শুধুমাত্র উত্তর প্রদেশকেন্দ্রিক বলে মনে করা হচ্ছে না। বিভিন্ন সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এটিএসের জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্তদের প্রকৃত ভূমিকা এবং নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।

বর্তমানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে। আগামী দিনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

Leave a comment