বর্তমানে শুধু প্রবীণ নয়, কম বয়সীদের মধ্যেও ইউরিক অ্যাসিডজনিত গেঁটেবাতের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট ধরনের মাছ অতিরিক্ত খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা এবং তীব্র অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

কোন মাছে বেশি পিউরিন থাকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সামুদ্রিক মাছ ও শেলফিশে পিউরিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এসব খাবার শরীরে ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে। উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য যেসব মাছ সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
অ্যাঙ্কোভি
সার্ডিন
হেরিং
মাসেল
কড
স্ক্যালপ
ট্রাউট
হ্যাডক
পমফ্রেট
চিংড়ি

কেন বাড়ে ইউরিক অ্যাসিড?
পিউরিন একটি প্রাকৃতিক যৌগ, যা শরীরে ভেঙে ইউরিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়। শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা জয়েন্টে স্ফটিক (ক্রিস্টাল) আকারে জমে যায়। এর ফলেই গেঁটেবাতের তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ দেখা দেয়।চিকিৎসকদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম খাবারে ১০০ মিলিগ্রামের বেশি পিউরিন থাকলে সেটিকে উচ্চ-পিউরিনযুক্ত খাবার হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মাছ রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু মাছের ধরন নয়, রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাপানো, সেদ্ধ বা পোচ করা মাছ তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প। এসব পদ্ধতিতে রান্না করলে কিছু পিউরিন রান্নার পানিতে চলে যায়।অন্যদিকে অতিরিক্ত তেল-মশলায় ভাজা বা কষানো মাছ নিয়মিত খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
কতটা মাছ খাওয়া নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রতিদিন বড় টুকরো মাছ না খেয়ে মাঝারি আকারের একটি টুকরো মাছ খেতে পারেন। পাশাপাশি অ্যালকোহল, রেড মিট এবং অন্যান্য উচ্চ-পিউরিনযুক্ত খাবার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনেই মিলতে পারে উপকার
অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ-পিউরিনযুক্ত খাবার সীমিত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে গেঁটেবাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। তবে যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড দীর্ঘদিন ধরে বেশি থাকে, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে গেঁটেবাত বা গাউটের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মাছে থাকা উচ্চমাত্রার পিউরিন শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যাঁরা গাউট বা উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডে ভুগছেন, তাঁদের খাদ্যতালিকায় মাছ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।








