যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ৯,০০০ অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে তিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৯,০০০ অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে। USS Theodore Roosevelt ও USS Makin Island-এর মোতায়েনের পর অক্টোবরের শেষে তিন মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এই অঞ্চলে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৯,০০০ অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। USS Theodore Roosevelt এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং USS Makin Island অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপও এই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, নতুন মোতায়েনের পর অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ থাকতে পারে। বর্তমানে USS George H.W. Bush এবং USS George Washington এই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। তাদের সঙ্গে USS Boxer অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপও রয়েছে।

নতুন মোতায়েনে USS Theodore Roosevelt-এর সঙ্গে তার ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং USS Makin Island অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ রয়েছে। দুটি গ্রুপে মোট ৭,০০০-এর বেশি নাবিক এবং প্রায় ২,০০০ মেরিন রয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনী ও মেরিন সদস্যের সংখ্যা ২০,০০০-এর বেশি হতে পারে।

এর আগে এপ্রিল ২০২৬-এও মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ উপস্থিত ছিল।

USS Theodore Roosevelt একা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপও মোতায়েন করা হচ্ছে। USS Makin Island অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপের মধ্যে USS John P. Murtha এবং USS Anchorage-এর মতো যুদ্ধজাহাজ রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা এই সামরিক মোতায়েনকে কোনো নির্দিষ্ট হামলার ঘোষণা হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প নিয়ে বিবেচনা করছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প Time Magazine-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনের পর ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ বাড়ানো সম্ভব। তবে সম্ভাব্য সামরিক কৌশল বা নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেন।

ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু পুরো প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা এবং পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা ছিল।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মতে, একটি চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরান প্রস্তুত। এর বিনিময়ে তেহরান বিদেশে জমা থাকা সম্পদ ও অর্থের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং নিজেদের তেল বিক্রির অনুমতি চায়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রস্তাব জুনে হওয়া সেই সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে যুক্ত, যার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে পাল্টা হামলার মধ্যে সেই ব্যবস্থা ভেঙে যায়।

সেপ্টেম্বরের শেষদিকে ইরান জানিয়েছিল, সাত দিনের প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছে। আলোচনায় প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ কোন ক্রমে কার্যকর হবে, তা নিয়েও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েন বাড়ছে। একদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এই অঞ্চলে পাঠাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা তার সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ট্রাম্পও ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে তাঁর নীতির অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে, ইরান পরমাণু ইস্যুতে আলোচনায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে নিজেদের শর্ত ও অধিকার নিয়েও দেশটির অবস্থান রয়েছে।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক মোতায়েন এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একই সময়ে এগোচ্ছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ যদি তিনটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ সত্যিই এই অঞ্চলে উপস্থিত থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার পরিমাণ বাড়বে। তবে এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিতভাবে নতুন হামলা চালাতে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রভাব সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১ অক্টোবর মার্কিন সামরিক মোতায়েনের খবরের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের ওপরে উঠেছিল। রয়টার্সের হিসাবে, ওই দিন ব্রেন্ট ক্রুড ৪.২৮ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.৩১ ডলারে স্থির হয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতা পাঠাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য এবং তিনটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সম্ভাব্য উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে সামনে রাখছে।

 

Leave a comment