উত্তর প্রদেশে তীব্র গরমের প্রভাব শুধু মানুষের ওপরই নয়, বন্যপ্রাণীদের ওপরও পড়তে শুরু করেছে। রাজ্যের একাধিক শহরে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। সকাল থেকেই তীব্র রোদ এবং দুপুরে বয়ে চলা গরম হাওয়া জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আগামী কয়েক দিন গরমের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও ১১ জুন থেকে প্রি-মনসুন কার্যকলাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মানুষ প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতায় ভুগছেন। দুপুরের সময় সড়কগুলোতে তুলনামূলকভাবে জনসমাগম কম দেখা যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মানুষ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। গরম থেকে বাঁচতে বাজারে ঠান্ডা পানীয়, ফল এবং বরফের চাহিদা বেড়েছে।
চিড়িয়াখানায় থাকা বন্যপ্রাণীদের ওপরও তীব্র গরমের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় বাঘদের জন্য বিশেষ জলাধার বা ওয়াটার পুল তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তারা দীর্ঘ সময় পানিতে থেকে গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করছে। একটি বাঘটিকে ওয়াটার পুলে স্নান করতে এবং পানিতে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে, যার ছবি ও ভিডিও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
হরিণ ও অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণীর জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের ঘেরে ফোয়ারা স্থাপন করা হয়েছে যাতে পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শীতল থাকে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ প্রাণীদের জন্য অতিরিক্ত পানি, মৌসুমি ফল এবং গরম মোকাবিলায় সহায়ক বিশেষ খাদ্যের ব্যবস্থা করছে। অনেক স্থানে প্রাণীদের ঘেরের আশপাশে নিয়মিত পানি ছিটানো হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে রাজ্যে গরম ও শুষ্ক বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর থেকে আর্দ্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলছে। এর ফলে ১১ জুনের কাছাকাছি সময়ে প্রি-মনসুন বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। এই আবহাওয়া ব্যবস্থা সক্রিয় হলে গরমের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দুপুরের সময় রোদে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শরীরকে আর্দ্র রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে হিট স্ট্রোক এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকিও বেড়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন শহরে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জনসমাগমস্থলে পানীয় জলের ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে এবং গরম থেকে সুরক্ষার উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। অনেক স্থানে পশু-পাখির জন্যও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বর্তমানে উত্তর প্রদেশ তীব্র গরমের প্রভাবে রয়েছে। মানুষ থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণী পর্যন্ত সবাই গরমের প্রভাবের মুখোমুখি। ১১ জুনের সম্ভাব্য প্রি-মনসুন বৃষ্টিপাতের দিকে নজর রয়েছে, যা রাজ্যের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে।








