উত্তর প্রদেশে তীব্র গরম ও লুর প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৪৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। তীব্র রোদ ও গরম হাওয়ার কারণে মানুষের জন্য ঘরের বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গাজিয়াবাদে হালকা বৃষ্টির কারণে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। বৃষ্টির পর কিছু সময়ের জন্য আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে সহনীয় হলেও আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অসুবিধাও অনুভূত হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ রাজ্যের ৪৮টি জেলায় হিটওয়েভ সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আগামী কয়েক দিন তীব্র গরমের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
গরমের প্রভাব মানুষের পাশাপাশি প্রাণীদের মধ্যেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে একটি বাঘিনীর ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে একটি সুইমিং পুলে স্নান করতে দেখা যাচ্ছে। চিড়িয়াখানা ও পশু পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে প্রাণীদের ঠান্ডা রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উত্তর প্রদেশের একাধিক শহরে বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। নিয়মিত এসি ও কুলার ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে মানুষের ক্ষোভও প্রকাশ্যে এসেছে। কিছু স্থানে মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে।
উত্তর প্রদেশ পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেড জানিয়েছে, অতিরিক্ত লোড ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি করেছেন।
তীব্র গরমের কারণে দুপুরের সময় সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা দেখা যাচ্ছে। মানুষ মুখ ও মাথা কাপড় দিয়ে ঢেকে বাইরে বের হচ্ছেন।
চিকিৎসকেরা বেশি পানি পান, রোদ এড়িয়ে চলা এবং দুপুরে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। হিট স্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঘটনা বিবেচনায় অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা হিটওয়েভের ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় উন্নত নগর পরিকল্পনা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হবে।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ জনগণকে আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে রোদে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।











