রক্ষাবন্ধনে বারাণসীতে মৃত ভাইয়ের কবজিতে শেষবার রাখি বাঁধলেন বোনেরা

রক্ষাবন্ধনের দিন বারাণসীতে মৃত ভাইয়ের কবজিতে রাখি বেঁধে শেষ বিদায় জানান বোনেরা। প্রতি বছর ভাইয়ের কাছ থেকে উপহার পাওয়ার স্মৃতি মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা।
রক্ষাবন্ধনে বারাণসীতে মৃত ভাইয়ের কবজিতে শেষবার রাখি বাঁধলেন বোনেরা
Photo Credit / Attribution: Google

বারাণসীতে রক্ষাবন্ধনের দিন এক মর্মান্তিক দৃশ্য সামনে আসে। যে দিনে বোনেরা ভাইদের কবজিতে রাখি বেঁধে তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করছিলেন, সেই দিনই কয়েকজন বোন তাঁদের মৃত ভাইয়ের কবজিতে রাখি বেঁধে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভাইয়ের শেষকৃত্যের প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁরা তাঁর কবজিতে রাখি বাঁধেন এবং পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

বোনেরা জানান, প্রতি বছর রক্ষাবন্ধনে তাঁদের ভাই তাঁদের উপহার দিতেন। রাখির দিনে বাড়িতে উৎসবের পরিবেশ থাকত এবং ভাই-বোনের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা চলত। কিন্তু এবার সেই উৎসবই পরিবারের কাছে জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিনে পরিণত হয়েছে। ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁরা এমন ধাক্কা খেয়েছেন, যা ভাষায় প্রকাশ করা তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভাইয়ের কবজিতে রাখি বাঁধার সময় বোনেদের চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়ছিল। তাঁরা ভাইকে ডাকছিলেন এবং তাঁর কথা মনে করছিলেন। তাঁদের কথায়, প্রতি বছর ভাই রাখি বাঁধানোর পর তাঁদের উপহার দিতেন। কখনও তাঁরা ভাবেননি যে এমন একটি দিন আসবে, যখন তাঁরা ভাইয়ের কবজিতে রাখি বাঁধবেন, কিন্তু তাঁদের সাড়া দেওয়ার জন্য ভাই আর এই পৃথিবীতে থাকবেন না।

কাঁদতে কাঁদতে বোনেরা বলেন, প্রতি বছর রাখিতে ভাই তাঁদের উপহার দিতেন, কিন্তু এবার তিনি এমন একটি ‘সারপ্রাইজ’ পেয়েছেন, যা তাঁরা কখনও সহ্য করতে পারবেন না। তাঁদের কাছে এই রক্ষাবন্ধন আনন্দের দিন নয়, বরং সারা জীবন মনে থেকে যাওয়ার মতো এক দুঃখের দিন। পরিবারের সদস্যদের মতে, ভাইয়ের মৃত্যুতে বাড়িতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং উৎসবের আনন্দ পুরোপুরি বিষাদে পরিণত হয়েছে।

রক্ষাবন্ধন ভাই-বোনের সম্পর্কের উৎসব হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে বোনেরা ভাইয়ের কবজিতে রাখি বাঁধেন এবং ভাই তাঁদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি উপহার দেন। কিন্তু বারাণসীতে সামনে আসা এই দৃশ্য সম্পর্কটির আবেগপূর্ণ দিককে অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে তুলে ধরে। যে কবজিতে রাখি বেঁধে বোনেরা ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করতেন, সেই কবজাতেই তাঁদের শেষবার রাখি বাঁধতে হয়েছে।

পরিবারের জন্য ঘটনাটি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে, কারণ মৃত্যু এমন সময় হয়েছে যখন গোটা দেশে রক্ষাবন্ধনের উৎসব পালিত হচ্ছিল। বাড়িতে বাড়িতে বোনেরা ভাইদের রাখি বাঁধছিলেন, মিষ্টি খাওয়ানো হচ্ছিল এবং পরিবারের সদস্যরা আনন্দ করছিলেন। আর এই পরিবারে রাখির থালা প্রস্তুত হলেও সেখানে উৎসবের আনন্দের বদলে ছিল ভাইকে হারানোর যন্ত্রণা।

বোনেদের কাছে ভাই শুধু পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন না, তাঁদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। শৈশব থেকে বড় হয়ে ওঠা পর্যন্ত ভাই-বোনের ভাগ করে নেওয়া স্মৃতিগুলো এমন সময় বারবার সামনে আসছিল। রাখির দিনে ভাইয়ের অনুপস্থিতিই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় দুঃখ হয়ে ওঠে। তাঁর কবজিতে রাখি বাঁধার সময় তাঁরা সেই পুরনো মুহূর্তগুলোর কথা মনে করছিলেন, যখন ভাই হেসে তাঁদের কাছ থেকে রাখি বাঁধতেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের মতে, বোনেদের সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাঁরা কখনও ভাইয়ের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলেন, আবার কখনও তাঁর কবজিতে বাঁধা রাখির দিকে। পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ভাইয়ের মৃত্যুর ধাক্কা এতটাই গভীর ছিল যে তাঁদের বোঝানো কারও পক্ষেই সহজ ছিল না।

রাখি বাঁধার এই আচার পরিবারের কাছে আবেগে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বোনেরা ভাইয়ের কবজিতে রাখি বাঁধেন এবং শেষ বিদায়ের আগে তাঁদের সম্পর্কের শেষ স্মারকটি তাঁর সঙ্গে যুক্ত করেন। দৃশ্যটি দেখে সেখানে উপস্থিত অনেকের চোখেও জল চলে আসে।

পরিবারের কাছে এবারের রক্ষাবন্ধন এমন একটি তারিখ হয়ে রইল, যা চাইলেও তাঁরা ভুলতে পারবেন না। প্রতি বছর রক্ষাবন্ধন এলে বোনেদের ভাইয়ের কথা মনে পড়বে। রাখির থালা, কবজিতে বাঁধা সুতো এবং ভাইয়ের দেওয়া উপহার তাঁদের পুরনো স্মৃতিগুলো আবার সামনে নিয়ে আসতে পারে।

বোনেদের কাছে ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যু শুধু একজন সদস্যকে হারানো নয়। এর সঙ্গে তাঁদের শৈশবের বহু স্মৃতি, উৎসবের আনন্দ এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্তও হঠাৎ করে বেদনার স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। রক্ষাবন্ধনের মতো উৎসবের দিনে এই যন্ত্রণা আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়, কারণ এই দিনেই ভাই-বোনের সম্পর্ক বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

বারাণসী কাশী নামেও পরিচিত এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসবের জন্য শহরটির নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। রক্ষাবন্ধনেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় উৎসবের পরিবেশ ছিল, কিন্তু এই পরিবারের বাড়িতে ছিল শোকের ছায়া। বাইরে যখন মানুষ উৎসব পালন করছিলেন, তখন বাড়ির ভিতরে পরিবার তাঁদের ছেলে ও ভাইকে শেষ বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

বোনেদের কান্না এবং তাঁদের কথা শুনে আশপাশে থাকা মানুষজনও এই শোকের গভীরতা অনুভব করেন। তাঁরা জানান, ভাই প্রতি বছর তাঁদের উপহার দিতেন। এবার বোনেরা রাখি নিয়ে তাঁর কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা ভাবেননি যে রাখি বাঁধার জন্য ভাইয়ের জীবিত কবজি তাঁদের সামনে থাকবে না।

ভাইয়ের মৃত্যুর পর পরিবারের সামনে শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্বও ছিল। এর মধ্যেই বোনেরা শেষবার তাঁদের ভাইকে রাখি বাঁধার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরিবার তাঁদের অনুভূতিকে সম্মান করে এবং বোনেরা মৃত ভাইয়ের কবজিতে রাখি বাঁধেন। এই সময় সেখানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে শোকের পরিবেশ আরও গভীর হয়ে ওঠে।

এই ঘটনা দেখায় যে উৎসব শুধু আচার ও আনন্দের বিষয় নয়, এর সঙ্গে যুক্ত স্মৃতিগুলো মানুষের জীবনে গভীর আবেগপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনও পরিবারের সদস্য কোনও বিশেষ উৎসবের সময় পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে পরবর্তী বছরগুলোতেও সেই উৎসব ওই ব্যক্তির স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

বোনেরা ভাইয়ের কবজিতে রাখি বাঁধার সময় সম্ভবত সেই সম্পর্কটিই শেষবার অনুভব করছিলেন, যা তাঁরা প্রতি বছর এই উৎসবে অনুভব করতেন। পার্থক্য শুধু এটুকুই ছিল, এবার ভাই রাখি বাঁধানোর পর হাসতে পারেননি, তাঁদের উপহার দিতে পারেননি এবং তাঁদের সঙ্গে বসে উৎসবও পালন করতে পারেননি।

বোনেদের কথায় ভাইকে হারানোর যন্ত্রণা স্পষ্ট ছিল। তাঁদের বক্তব্য, প্রতি বছর তাঁরা ভাইয়ের কাছ থেকে উপহার পেতেন, কিন্তু এবার পাওয়া এই ‘সারপ্রাইজ’ তাঁদের কাছে এমন এক যন্ত্রণা, যা তাঁরা সারা জীবন ভুলতে পারবেন না। তাঁদের এই কথা সেখানে উপস্থিত মানুষকেও আবেগপ্রবণ করে তোলে।

রক্ষাবন্ধনে ভাইয়ের কবজিতে রাখি বাঁধার প্রথা বহু পুরনো। বোন তাঁর ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন। এই ঘটনাতেও বোনেরা সেই সম্পর্কের আচার পালন করেছেন, কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই বেদনাদায়ক ছিল যে রাখি আনন্দের বদলে শেষ বিদায়ের প্রতীকে পরিণত হয়।

ভাই ও ছেলেকে হারানোর পর পরিবার গভীর শোকে রয়েছে। বাড়িতে উৎসবের প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো পরিবেশ বদলে যায়। যে বাড়িতে রাখির সময় মিষ্টি ও উপহারের কথা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি চলছিল।

এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষও বিচলিত হয়ে পড়েন। ভাইয়ের কবজিতে বোনেদের রাখি বাঁধার দৃশ্য দীর্ঘ সময় মানুষের মনে থেকে যায়। যাঁকে রাখি বাঁধতে বোনেরা এসেছিলেন, সেই ভাই আর তাঁদের মধ্যে নেই—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া কারও পক্ষেই সহজ ছিল না।

আগামী বছরগুলোতে রক্ষাবন্ধন এলে এই পরিবারের কাছে দিনটি আর শুধু উৎসবের দিন থাকবে না। এই দিন তাঁদের সেই ভাইয়ের কথা মনে করিয়ে দেবে, যিনি প্রতি বছর বোনেদের উপহার দিতেন এবং তাঁদের সঙ্গে উৎসব পালন করতেন। এবার বোনেরা তাঁকে রাখি বাঁধলেন, কিন্তু ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া হাসি ও উপহার চিরতরে স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।

কাশীতে রক্ষাবন্ধনের দিন সামনে আসা এই মর্মান্তিক দৃশ্য ভাই-বোনের সম্পর্কের গভীরতা এবং প্রিয়জনকে আকস্মিকভাবে হারানোর যন্ত্রণা তুলে ধরে। বোনেরা শেষবার ভাইয়ের কবজিতে রাখি বাঁধেন এবং চোখের জলে তাঁকে বিদায় জানান। তাঁদের কাছে এবারের রাখি এমন এক স্মৃতি হয়ে রইল, যেখানে উৎসবের প্রতিটি আনন্দের সঙ্গে ভাইকে হারানোর শোক চিরকাল জড়িয়ে থাকবে।

Leave a comment