তামিলনাড়ুর ভেল্লোরে নির্মীয়মাণ গির্জার ছাদ ধসে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ১১

তামিলনাড়ুর ভেল্লোরের মান্ডি কৃষ্ণাপুরমে নির্মীয়মাণ গির্জার ছাদ ধসে তিন শ্রমিকের মৃত্যু ও ১১ জন আহত হয়েছেন। কংক্রিট ঢালাইয়ের সময় স্টিলের মাচা ও সাপোর্ট ফ্রেমওয়ার্ক ভেঙে পড়ে।

তামিলনাড়ুর ভেল্লোর জেলায় নির্মীয়মাণ একটি গির্জার ছাদ ধসে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। কাটপাডির কাছে মান্ডি কৃষ্ণাপুরমে বৃহস্পতিবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছাদে কংক্রিট ঢালাইয়ের সময় প্রায় ২০ ফুট উঁচু স্টিলের মাচা এবং সাপোর্ট ফ্রেমওয়ার্ক হঠাৎ ভেঙে পড়ে, যার নিচে একাধিক শ্রমিক আটকে পড়েন।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্মীয়মাণ গির্জার ছাদে শ্রমিকরা কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন। সেই সময় ছাদের স্ল্যাব হঠাৎ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে প্রায় ২০ ফুট উঁচু স্টিলের মাচা এবং সাপোর্ট ফ্রেমওয়ার্কও ভেঙে পড়ে।

মাচা ও সাপোর্ট সিস্টেম ধসে পড়ায় শ্রমিকরা ভারী কংক্রিট এবং নির্মাণসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে যান। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং দমকল বিভাগের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান শুরু করে।

দুর্ঘটনায় তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসাবশেষ থেকে তিনজনের দেহ উদ্ধার করে। আহত ১১ শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহতদের ভেল্লোর সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজন আহতকে পাশের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুরের একটি হাসপাতালেও চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

ভেল্লোরের জেলা কালেক্টরের মতে, আহতদের মধ্যে আটজন শ্রমিকের অবস্থা স্থিতিশীল। প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা এবং তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভবনটি চার্চ অফ সাউথ ইন্ডিয়ার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছিল। নির্মাণকাজের সময় ব্যবহৃত স্টিলের মাচা এবং সাপোর্ট ফ্রেমওয়ার্ক হঠাৎ ধসে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর নির্মাণস্থলে বিপুল পরিমাণ কংক্রিট ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে থাকার খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত অভিযান শুরু করে।

দুর্ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আরাক্কোনাম থেকে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (NDRF) একটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। NDRF জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং দমকল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ধ্বংসাবশেষে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের অভিযান চালায়।

তামিলনাড়ুর ভেল্লোরে নির্মীয়মাণ গির্জার ছাদ ধসে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ১১

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে NDRF-এর দল ডগ স্কোয়াড নিয়েও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ধ্বংসাবশেষের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় ধ্বংসাবশেষ সতর্কতার সঙ্গে সরানো হয়, যাতে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো যায়।

ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা আহত শ্রমিকদের প্রথমে অ্যাম্বুলেন্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভেল্লোর জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে। নির্মীয়মাণ গির্জার ছাদ ধসে পড়ার পরিস্থিতি এবং স্টিলের মাচা ও সাপোর্ট ফ্রেমওয়ার্ক হঠাৎ কেন ভেঙে পড়ল, তা কমিটি খতিয়ে দেখবে।

তদন্তে নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলিও পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

গির্জা নির্মাণের জন্য নির্মাতার কাছে প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন এবং বিল্ডিং পারমিট ছিল কি না, তাও প্রশাসন পরীক্ষা করবে। দুর্ঘটনার তদন্তে নির্মাণ সংক্রান্ত নথি এবং অনুমোদন প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

কর্তৃপক্ষের মতে, তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর জন্য দায়ী পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার সময় ব্যবহৃত স্টিলের মাচা ও সাপোর্ট ফ্রেমওয়ার্কের অবস্থা এবং নির্মাণকাজ কতটা সম্পন্ন হয়েছিল, তাও পরীক্ষা করবে।

দুর্ঘটনার পর ত্রাণ ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, দমকল বিভাগ এবং NDRF-এর দল ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং সম্ভাব্যভাবে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করে।

ডগ স্কোয়াডের সাহায্যেও ধ্বংসাবশেষের সেই অংশগুলি পরীক্ষা করা হয়, যেখানে কারও আটকে থাকার আশঙ্কা ছিল। প্রশাসনের অগ্রাধিকার ছিল আহতদের সময়মতো চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া এবং ঘটনাস্থলে নিরাপদভাবে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা।

 

Leave a comment